দৈনিক যৌনমিলন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে…

Print

যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণার নতুন বিশ্লেষণ থেকে গবেষকদের দাবি, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনমিলনের ফলে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরিত হয় যা মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। অবশ্য শুধু যৌনমিলনেই সুস্থ থাকা যায় না। সুস্থ থাকতে হলে বেডরুমের বাইরেও সক্রিয় জীবনযাপন করতে হবে। তবে যৌনমিলনের সময় দেহের মধ্যে যে প্রচুর পরিমাণ নড়া-চড়া হয় তা দেহ ও মনের জন্য বিস্ময়কর উপকারী ফল দেয়।

কারণ যৌনমিলনের সময় দুজন মানব-মানবী পরস্পরের প্রতি যে আস্থা, ভালোবাসা এবং অনুরাগ অনুভব করেন তা স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাষক অধ্যাপক ম্যাট টিলি বলেন, দাম্পত্য সম্পর্কে নিয়মিত যৌন অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ফল দেয়। যা দম্পতিদের পরস্পরের মধ্যকার যোগাযোগকে আরো শক্তিশালী করে। সায়েন্স নেটওয়ার্ক ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলছিলেন।

যৌনমিলনের ফলে দেহে যেসব হরমোন নিঃসরিত হয় সেগুলো মানসিক চাপ লাঘবে সহায়তা করে। আর অ্যান্ডোরফিন বিশেষ করে একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট বা মানসিক অবসাদরোধী হিসেবে কাজ করে। ভালোবাসার হরমোন নামে পরিচিত অক্সিটোসিন পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা এবং আস্থার অনুভুতি সৃষ্টি করে।

ত্বক পরিষ্কার করে
অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণের ফলে যে ভালোবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টি হয় তা আবার দুটি জিনিসের নিঃসরণ ঘটায়। অ্যান্ডোরফিন নামের স্নায়ুরস এবং সেরোটোনিন নামের হরমোন। দুটিই ত্বকের জন্য বিস্ময়করভাবে উপকারী। অ্যান্ডোরফিন নতুন ত্বক কোষ এবং প্রাকৃতিক কোলাজেন উৎপাদনে সহায়ক। যা ত্বকের বলিরেখা এবং ব্রণ ও মেচতার দাগ দূর করে।

এটি ইমিউনোগ্লোবিন এ নামের একটি অ্যান্টিবডি নিঃসরণেও কাজ করে। যা সাদা ফুসকুড়ি, অ্যাকজিমা, সোরিয়াসিস এবং ব্রণ দূরীকরণে সহায়ক। আর চেহারার লোমকুপগুলো থেকে ঘাম বের হওয়ার পর গোসলের মাধ্যমে ত্বকে যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর করা সম্ভব।

শারীরিক ব্যায়াম
সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত একঘণ্টা থেকে আধাঘণ্টা করে ব্যায়াম করা দরকার। কারণ আমরা খুবই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত। আর যৌনমিলন উৎকৃষ্টমানের একটি ব্যায়াম। আধাঘণ্টার ব্যায়ামে ৭০ থেকে ১০০ ক্যালরি খরচ হয়। আর দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পজিশনে যৌনমিলন করার ফলে আরো ভালো মানের ব্যায়াম করা সম্ভব।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
যৌনমিলনের ফলে যে শারীরিক তৎপরতা হয় তা প্রাকৃতিকভাবেই হৃৎপিণ্ডের সক্রিয়তা বাড়ায়। একবার যৌনমিলনে ২৩ মিনিট সাইকেল চালানো, ২০ মিনিট বাস্কেট বল খেলা আর ১৫ মিনিট ধরে সাঁতার কাটার সমান শক্তি ব্যয় হয়।

মনকে শান্ত করে
চুড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি লাভের সময় সেরোটোনিন নিঃসরিত হয়। যা দেহমনে সুখের ঢেউ তোলে এবং যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর করে।

অধ্যাপক টিলি বলেন, এসব উপকারী রাসায়সিক নিঃসরণ ছাড়াও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনমিলন প্রাকৃতিক অবসাদরোধী ওষুধ হিসেবে কাজ করে। তিনি আরো বলেন, যৌনমিলনের ফলে আমারা নিজেরা নিজেদেরকে একটি যৌনসত্ত্বা হিসেবেও আবিষ্কারের সুযোগ পাই। আর সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে পরিতৃপ্ত করতে পারার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেরাও আনন্দিত হই।

এসব অনুভূতি আমাদের নিজেদেরকে চিনতে এবং আমাদের আত্মসম্মানবোধ বাড়াতে সহায়ক। আর এসব অনুভূতি আমাদের মেজাজ-মর্জির উন্নতিতেও সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

পুরুষদের জন্য গভীর ঘুমের উদ্রেককারী
চুড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি লাভের সময় মানবদেহ প্রোল্যাকটিন নামের একটি হরমোন উৎপাদিত হয়। যা আমাদের মাঝে ঘুমের ঘোর সৃষ্টি করে। নারীদের চেয়ে পুরুষদের দেহে এই হরমোন বেশি উৎপাদিত হয়। এমনকি পুরুষদের বীর্যপাতের সময় তাদের মস্তিষ্ক থেকে এমন কিছু রাসায়নিক নিঃসরিত হয় যা ঘুমের উদ্রেক করে। এই রাসায়নিকগুলো হলো, নরপাইনফ্রিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন, ভ্যাসোপ্রেসিন এবং প্রোল্যাকটিন।

আর নারীরাও যৌনমিলনের পর শারীরিকভাবে ক্লান্ত হওয়ার ফলে ঘুমিয়ে পড়েন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 196 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ