দোহারে জয়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়ঙ্কর কোচিং বানিজ্য

Print

আয়েশা সিদ্দিকীঃ

ঢাকার দোহার উপজেলার প্রানকেন্দ্র জয়পাড়ায় অবস্থিত “জয়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।
ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম ও ছিল। কিন্তু সরকারি নিষেদ্ধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং এর অস্বাভাবিক বিচরনের ফলে বিদ্যালয়টি গনমাধ্যমের নজরে আসে ।

সাম্প্রতিককালের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা। যেটা স্কুলের পাঠের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু স্কুলের কোচিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই স্কুলের ক্লাসের গুরুত্ব কমিয়ে কোচিং নামের ব্যবসার প্রহসন চলছে।

বর্তমানে যেটা লক্ষণীয় তা হলো, ক্লাসে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে ছাত্র ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোচিংয়ে দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষকেরা, যাঁরা অনেক আগের ডিগ্রিধারী, বর্তমান সৃজনশীল পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যাঁদের ডিগ্রির কোনো সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায় না। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব শিক্ষক সৃজনশীল পাঠ্যবইয়ের কোনো আলোচনা ছাড়াই এবং বর্তমান ইংরেজি মাধ্যম সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই মুখস্থবিদ্যায় জোড় দেন গাইড বইয়ের উপর ভিত্তি করে।
বিভিন্ন বই থেকে কপি করা শিট বিক্রিও তাঁদের ব্যবসার আরেকটি অন্যতম মাধ্যম। এমন কিছু বিদ্যালয়ের দিকে নজর করলে দেখা যায় যে ক্লাসে তাঁরা বেধম প্রহার করে পড়া আদায় করেন।যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা কোনো প্রশ্ন না বুঝেও গাইড বই দেখে শুধু মুখস্থ করে।

আমরা জানি, যাঁরা ভালো শিক্ষক, তাঁদের কাছে প্রশ্ন করলে তাঁরা খুশি হয়ে থাকেন। কিন্তু এঁরা কোন ধরনের শিক্ষক?

যেসব শিক্ষকের শিক্ষার পরিধি কম, তাঁরাই কেবল রেগে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রহার করেন। যাতে করে কোনো শিক্ষার্থী কোনো প্রশ্ন না করতে পারে। ভালো শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য কী, তাঁরা জানেন না! নানাভাবে ফ্রি ও আদায় করা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের থেকে। এ বিষয়ে অভিভাবকেরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন না। কারণ, শিক্ষকেরা বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান , এবং ক্লাসে অমোনোযোগী থাকেন। কোন রকম না বুঝিয়ে শুধু মুখস্থ বিদ্যায় পড়িয়েই ছোটেন কোচিং সেন্টারের দিকে।

শিক্ষকদের প্রশ্ন করা হয় কোচিং সম্বন্ধে, ২০১৫ সালের সংশোধনী আইন সমন্ধে সে ক্ষেত্রে এসব শিক্ষকই কিছু না বলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। দোহারের মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই রমরমা ব্যবসা চলছে।যার মধ্য জয়পাড়া মডেল সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় অন্যতম। এই স্কুলটিতে স্বয়ং প্রধান শিক্ষক স্কুলের ভেতর ক্লাস রুম খুলে নিজের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন প্রাইভেট /কোচিং

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক জায়েদ হাসান সহ প্রায় ৫/৬ জন শিক্ষক ক্লাস রুমে ছুটির পর প্রাইভেট /কোচিং করাচ্ছেন। যা ক্লাসের উপস্থিতির হার যেন ক্লাস রুমের রুপ ধারন করেছে। জায়েদ হাসান সহ, সহকারি শিক্ষক, মোঃআজিজ, দিপংকর, মোঃহাকিম, গবিন্দ, শেফালী, তানিয়া, আলেয়া সহ বেশ কয়েক জন জড়িত তাদের এই কোচিং বানিজ্যে। তারা গ্রুপিং করে চালাচ্ছেন এ সকল প্রাইভেট /কোচিং

উল্লিখিত বিদ্যালয়টিতে চালু করা হয়েছে সকাল ও সান্ধ্যকালীন কোচিং। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীকে ক্লাশে কোচিং করানো হয়। দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা ক্লাস আর কোনটা কোচিং ! ক্লাসের চাইতে কোচিং এ ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি যেন চোখে পরার মত।

সরকার গলা ফাটিয়ে শিক্ষকদের কোচিং ব্যবস্থা বন্ধ করতে বললেও তাঁরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ঠিকই সে ব্যবস্থাকে উজ্জীবিত করে রেখেছেন। যেখানে স্কুল সীমানার ভেতরে কোচিং বা প্রাইভেট সম্পুর্ন নিষেধ। ২০১৫ এর সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভেতর ওই প্রতিষ্ঠানেরই কোন ছাত্রছাত্রীকে প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবে না। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠাানের সর্বোচ্চ দশ(১০) জন ছাত্রছাত্রীকে পড়াতে পারবেন তাও আবার দ্বায়ীত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বাহিরে।কিন্তু উক্ত শিক্ষকদের কোচিং এ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২০/২৫ জন যাদের মাসিক ফ্রি সর্বনিন্ম ৫০০ টা ধার্য করা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু অসৎ অসাধু শিক্ষকেরা । এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবন্ধি হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থা।

শিক্ষার হার বাড়িয়ে লাভ কী? হার বাড়লেই সুশিক্ষিত জাতি হবে, এমনটা মনে হয় না। সৃজনশীল পাঠ্যবই তৈরি না করে, সৃজনশীল মানুষ তৈরি করলে দেশের ছাত্রছাত্রীরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে বলে আশা করেন অভিভাবকগন।

যৌথি নামে এক অভিভাবক বিডি সারাদিন ডট কমকে জানান, আমার সন্তান এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেনীতে পরে। শিক্ষকদের ক্লাসে অমনোযোগী থাকার কারনে সন্তানদের কোচিং এ পাঠাতে হয়। নয়ত দেখা যায় বেশ কয়েক টা বিষয়ে খারাপ রেজাল্ট এসেছে । কোচিং বন্ধ করে যদি শিক্ষকরা ক্লাসের দিকে মন দিয়ে যত্ন সহকারে পড়ায় তবে বাচ্চারা ভাল পড়তে পারবে ও কোচিং বানিজ্যের ধোকায় পরে হয়রানি হতে হবে না কোন ছাত্র বা অভিভাবকদের।
নাম না বলতে ইচ্ছুক আরেক অভিভাবক বিডি সারাদিন ডট কমকে  বলেন, আমরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই বাচ্চাদের কোচিং এ পাঠাই, সরকার বেশ কয়েকবার কোচিং বন্ধের নীতিমালা প্রনয়ন করলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, আমরা কোচিং বন্ধের জোর দাবী জানাই সাথে শিক্ষকদের ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়ানোর জন্য আহ্বান জানাই!

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1032 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ