দোহারে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক,সব জেনেও নিশ্চুপ প্রশাসন

Print

ক্রাইম রিপোর্টারঃ

ঢাকার জেলার ঐতিহ্যবাহী একটি সুপরিচিত ও অর্থনৈতিকভাবে আলোচিত উপজেলার নাম দোহার উপজেলা।রাজনৈতিক স্থিতিশীল এবং ভদ্রসুলভ আচরণগত দিক দিয়েও দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে এই দোহারবাসীর। ইতিমধ্যে দোহারের মৈনট এলাকা মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত লাভ করেছে। দোহার উপজেলাটি পদ্মা নদী বিস্তৃত একটি উপজেলা। গত কয়েক বছরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে দোহার উপজেলার প্রায় ২০০ গ্রাম। পদ্মায় প্রতি বছরই গ্রাস করছে নতুন নতুন এলাকা।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে,এম,আল-আমীন ও দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম লিটুর হস্তক্ষেপ ও প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালের মাঝের দিক থেকে ২০১৭ সালের প্রথম দিক দিয়ে দোহারে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক ভাবে কমে গেলেও ইদানিং মাদকের বিস্তার ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকল বয়সের ছেলেরা প্রকাশ্য মাদক বিক্রি সহ সেবন করছে।অপরদিক থেকে দেখা যায় পিছিয়ে নেই মেয়েরাও।
বিডিসারাদিন.কম অনুসন্ধান টিমের নজরে এই চিত্র উঠে এসেছে,দোহারের কয়েকটি মাদকের নিরাপদ স্পট যেমন নারিশা ডাক বাংলো,,মুকসেদপুর হাই স্কুল মাঠ,বইত্যা, মালিকান্দা কলেজ পুকুর পাড়,দক্ষিন শিমুলিয়া কবরস্থান, পুকুরপাড়/আমতলা,জালালপুর চক,আল-আমিন বাজার,গোবিন্দপুর ব্রিজ,সুতারপাড়া মধ্যেরটেক,মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাট,জয়াপড়া কলেজ মার্কেট,উপজেলা মার্কেট দোতলা,মুক্তিযুদ্ধা মার্কেট,উওর জয়পারা কবরস্থান, ইউসুফপুর বাজার রহীম চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন বাশ ঝাড়,ইসলামপুর চক ইটভাটা,ইসলামপুর প্রাইমারি স্কুল,বটিয়া প্রাইমারি স্কুল মাঠ, হরিচন্ডি প্রাইমারি স্কুল মাঠ ডেফোডিল এম এ আজিজ কিন্ডারগার্টেন মাঠ, উওর জয়পাড়া,সুন্দরপাড়া কবরস্থান,আমিন চাকুইরার পুকুরপাড়,ইয়ার মাহমুদের ভিটা, বাইল্লার চক ব্রিজ,কোঠাবাড়ীর চকের সুটকি খোলা ব্রিজ,বাস্তার চকের ধানমারাই খালী ভিটা,ময়ূরের দোকানের আশপাশ,বাবুডাংগী পাকাড্রেন, সহ প্রশাসনের নাকের ডগায় আরো বেশ কয়েকটি মাদকের নিরাপদ স্পট

এ সকল জায়গায় যুবকেরা সহ মধ্য/বৃদ্ধ বয়সী লোকেরা মাদকদ্রব্য সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির হার অনেক বেশী। পাশাপাশি নজর কারে উঠতি বয়সের স্কুল পড়ুয়া ছেলেরা।
দক্ষিন শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুল সাত্তার জানায়, দিনের বেলায় সূর্য উঠার পর থেকেই বেশ কয়েকজনকে এই এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়, এরা সাধারনত মাদকদ্রব্য বিক্রি করেন।এ সময় দু একজনকে মাদক সেবন করতে দেখা গেলেও সুর্য ডোবার সাথে সাথে রীতিমতই আসর বসে কবরস্থানে। মাদকাসক্তদের ভয়ে সন্ধ্যার পরে ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল কম করে। এসকল মাদকাসক্তদের সাথে বিক্রেতাদের সাথে এলাকার প্রভাবশালীদের সংখ্যতা গড়ে উঠে। যার কারনে কিছুতেই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রশাসনও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ রকম আরো অনেক অভিযোগ পাওয়া যায় কলেজ মার্কেট এর কয়েকজন দোকানদার এর কাছ থেকে। অগনিত অভিযোগ এলাকার মুরব্বিদের। এসকল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং চিহ্নিতরা মাঝে মধ্যে ধরা পরলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কেউ থানা হাযতের সীমারেখা পার হওয়ার আগেই ছাড় পেয়ে যায়,কেউ পায় গভীর রাতে। এলাকাবাসী না দেখার মত করে চুপ থাকেন। এসব তথ্য এবং অভিযোগ সাধারন মানুষের। যদি শক্ত হাতে প্রশাসন চোখে কালো কাপড় বেঁধে জিরো টলারেন্স শব্দটি সত্যিকারে প্রয়োগ করেন তাহলেই সম্ভব দেশ থেকে বর্তমানে সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা মাদকাসক্ত, মাদকসেবী, মাদকসেবন ও ব্যবসায়ীদের নির্মল করা। এমনটাই প্রত্যাশা দোহারবাসীর।
এবিষয়ে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিডিসারাদিন.কম কে বলেন,মাদকের উপর সরকারের দেওয়া জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনার জন্য প্রতিদিন আমাদের দুই তিনটি টিম কাজ করছে এবং চিহ্নিতদেরকে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা ও নিয়মিত মামলায় সাজা হচ্ছে।মাদকসহ সকল প্রকার অপরাধজনিত কোন কিছুতেই ছাড় পাবেনা অপরাধীরা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 239 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ