ধর্ষন অতঃপর গর্ভপাত ঘটানায় সরিষাবাড়ীতে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Print

বিধবাকে ধর্ষন অতঃপর গর্ভপাত ঘটানায় সরিষাবাড়ীতে দুই ইউপি সদস্য সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
তৌকির আহাম্মেদ হাসু সরিষাবাড়ী থেকেঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিধবাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন অতঃপর ৮ মাসের অন্ত সত্ত্বাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় বিধবা শেফালী বেওয়া (৩৬)বাদী হয়ে ধর্ষক মতি বর্মনকে প্রধান আসামী করে দুই ইউপি সদস্য সহ ১৪ জনকে আসামী করে রোববার রাতে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। দুই ইউপি সদস্য ডোয়াইল ইউনিয়নের ১ নং ওর্য়াডের সদস্য আনিছুর রহমান ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া বলে জানা গেছে। সরিষাবাড়ী থানার মামলা নং-২৫,তাং ১৪-০৫-১৭ ইং।
মামলা সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চর পাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম ওরফে হালিম সাধুর প্রথম স্ত্রী আঙ্গুরী বেগমকে তালাক দিয়ে হাটবাড়ী উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়ে প্রতিবন্ধী শেফালী বেগম (৩৬)কে বিয়ে করেন। বিযের পর প্রতিবন্ধী স্ত্রী শেফালীকে নিয়ে কুঠির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে সংসার করা কালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা আঃ হালিম হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে ৫ বছর আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় বিধবা শেফালি বেগম স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানদের চাপের মধ্যে স্বামীর ভিটে মাটি ছেড়ে হাটবাড়ী গ্রামের পাশে ঝিনাই নদীর তীরে গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে ওঠেন। এখানেই শেফালি বেগমের সাথে চর হাটবাড়ী গ্রামের জেলে পাড়ার সংখ্যা লঘু পরিবারের ২ সন্তানের জনক মতি বর্মনের সাথে অবৈধ সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শেফালি বেগম অন্তসত্তা হয়ে পড়ে। এর পর ৮ মাস পর ঘটনাটি প্রকাশ হলে গত ৩ মে বুধবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া’র সভাপতিত্বে মাঝি পাড়ার কমল বর্মনের বাড়ীতে এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিশ বৈঠকে শেফালি বেগমের জবান বন্দীতে এবং মতি বর্মন তার অনৈতিক কাজের দোষ স্বীকার করেন । শালীস বৈঠক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ধর্ষক মতিকে। জানতে চাইলে ভিকটিমের ছোট বোন শাপলা বেগম জানান, ২০ হাজার টাকার মধ্যে এক টাকাও আমার বোনকে দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শালিশ বৈঠকের মাতাব্বরগন ও ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান ভিকটিমকে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য নানা চাপ প্রয়োগ করেন। এদিকে শালিসের পরদিন ৪ মে শিউলী বেগমের অবৈধ সন্তান নষ্ট করার জন্য গোপনে রুবেল মেম্বার, ড্রেজার বাবু ও হাটবাড়ীর তছলিমের ছেলে ছোট বাবু তিনজন মিলে গর্ভবতীকে প্রথমে সরিষাবাড়ী হাসপাতাল পরে টাঙ্গাইলের সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ভিকটিমের বোন শাপলা বেগম জানান। তিনি আরো জানান, ওই হাসপাতালে আমার বোন শেফালি বেগমের গর্ভে ধারন করা ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান ঔষধের দ্বারা গর্ভপাত ঘটানো হয়। ।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। সরিষাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম খান জানান বিধবাক ধর্ষন করার পর গর্ভপাত ঘটানোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 102 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ