ধানে সর্বস্বান্ত কৃষক

Print

সরকারি ঘোষণার পর আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। বেশির ভাগ জায়গায় কৃষকদের তালিকাই প্রস্তুত হয়নি। অথচ ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিকের মজুরি, বাকিতে নেওয়া সেচ-সারের দাম, সংসারের খরচ ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে কৃষককে। এর সবই হবে ধান বিক্রির পয়সায়। কিন্তু ঘোষণা দিলেও সরকারি পর্যায়ে সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধান নিয়ে বাজারে গেলে দাম মিলছে না। বাজারে বর্তমানে ধানের যা দাম, তাতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু পাওনাদারের চাপের কারণে কম দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে ফড়িয়া ও দালালরা। কম দামে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে গোলা ভরছে তারা। কৃষকরা বলছেন, সরকারের লোকজন যখন সংগ্রহ অভিযান শুরু করবে, তখন কৃষকের কাছে আর বিক্রির জন্য ধানই থাকবে না। ফলে কৃষকের আর লাভের মুখ দেখা হবে না। উৎপাদনের সঙ্গে যোগ না থাকলেও লাভের পুরোটাই পকেটে ভরবে ফড়িয়া-দালালরা।

সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়া এবং ধানের কম দাম প্রসঙ্গে খাদ্য বিভাগ বলেছে, বাজারে এখনো গত বছরের চাল আছে। নতুন করে চাহিদাও বাড়েনি। ধানের দাম না বাড়ার পেছনে এটাও একটা কারণ। আর এখন যেসব ধান হাটে আসছে সেগুলো ভেজা। তাতে আর্দ্রতার পরিমাণ ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ। ভেজা ধানের দাম স্বাভাবিক কারণেই কম হচ্ছে। আর ভেজা ধান কিনে গুদামজাত করা হলে সরকারি গুদামে বর্তমানে যেসব খাদ্যপণ্য মজুদ রয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়নি। আর এটা শুধু এবারই নয়, প্রতিবার একটু দেরিতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়। এ ছাড়া বোরো ধান-চাল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, এবার বোরো মৌসুমে সরকার কৃষকের কাছ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান এবং ৩২ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। ৫ মে থেকে শুরু হয়ে সংগ্রহ অভিযান চলার কথা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। গত ২৪ এপ্রিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি হিসাবে এবার প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে কৃষক পর্যায়ে খরচ হয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সা। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার বোরো মৌসুমে সাত লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ছয় লাখ মেট্রিক টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করতে পারবেন। এ বছরই প্রথম সরবরাহ করা ধানের মূল্য কৃষকদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

বগুড়ায় ফেঁসে গেছেন কৃষক : বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় ধানের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এ সুযোগ নিচ্ছে ফড়িয়া-দালালরা। কম দামে ধান কিনতে তারা গ্রাম চষে বেড়াচ্ছে। আর কোনো উপায় না পেয়ে অসহায় কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ধানের দাম কেমন—জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলী বললেন, ‘এখন ধান ক্যাটা ফ্যাসি গেছি বাবা। সব ট্যাকা এত দিন জমিত লাগাছি। পানিঅলা (শ্যালো মেশিন মালিক) ঘাড়ের ওপর বস্যা আছে। কিন্তু হাটত ধানের যে দাম কচ্ছে, পানির ট্যাকা কী দিমু, আর হামি কী লিমু? এখন তো দেকিচ্ছি মরা ছাড়া উপাই নাই।’

শেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমের চেয়ে এবার প্রতি জাতের ধান তারা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ এবার উৎপাদন খরচ গতবারের তুলনায় বিঘাপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা বেশি হয়েছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের তালতা গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ জানান, এক বিঘা জমিতে ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা, মাড়াই ও জমির মালিককে বর্গা বাবদ টাকা দেওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রায় ১৪ হাজার ৬০ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় সর্বোচ্চ ২০ মণ হারে ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ ধান (মিনিকেট জাত) বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০-৬১০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৮৬০ থেকে দুই হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত। এ  অবস্থা এই উপজেলার প্রায় সব কৃষকেরই।

উপজেলার সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম, গোলাম রব্বানী; বির গ্রামের শহিদুল ইসলাম, ভাদরার পাঠান ফয়সাল, মাকোলার হায়দার আলী, মতিউর রহমানসহ একাধিক কৃষক জানান, শেরপুরে বিআর-২৮, মিনিকেট, কাজললতা ও পারিজাত জাতের ধান বেশি চাষ হয়ছে। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২০ মণ। বর্তমানে কাজললতা প্রতি মণ ৬১০-৬৩০ টাকা, পারিজাত ৫৪০-৫৬০ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের ধান ৫৮০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।

দুপচাচিয়ার ধাপসুলতানগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা ধান নিয়ে হাটে এসেছে কৃষকরা। সেখানে পাইরি জাতের ধান মণপ্রতি ৫২০ টাকা, চান্দিনা জাতের ধান ৫১০ টাকা, জিরাশাল ৬১০ টাকা, বিআর ২৮ বা ২৯ জাতের ধান ৫২৫ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।  উপজেলার মাটাই গ্রামের কৃষক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সার, ওষুধ ও শ্রমিক খরচ করে ধান লাগিয়ে হাটে এসে দাম পাচ্ছি না। ধান কাটতে লোক লাগানো হয়েছে। ওদের খরচ দেওয়ার জন্য কয়েক মণ ধান এনে বিপদে পড়েছি। আর ধান শুকিয়ে সরাসরি খাদ্য বিভাগের কাছে বিক্রি করার সুযোগ নেই। সেখানে গেলে ফরিয়া দালালদের ধরতে হয়। কারণ এক বস্তা ধান কেনার আগে সেখানে ১৬ রকমের পরীক্ষা করা হয়। দালালকে কমিশন না দিলে শুকনা ধানও ভেজা হয়ে যায়। কমিশন দিলে সবই ঠিক থাকে। তার চেয়ে ভালো আমরা হাটেই বিক্রি করি।’

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকদের তালিকা তৈরির পর আরো নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। বগুড়ায় এ আনুষ্ঠানিকতা শেষের দিকে। শিগগিরই পুরোদমে সংগ্রহ অভিযান শুরু করা যাবে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে। তবে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা আছে, এমন ধান-চালই কেনা হবে। আর শর্ত মোতাবেক মোট ১৬ ধরনের পরীক্ষার পরই ধান-চাল কেনা হবে। তবে ধান কেনার বিষয়ে ফড়িয়া-দালালদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

দেরি দেখে নাখোশ নওগাঁর কৃষকরা : সরকার নির্ধারিত দরকে স্বাগত জানালেও খুশি নয় নওগাঁর কৃষকরা। তারা বলছে, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে আরো ১৫ দিন আগে ধান কেনা শুরু করলে নায্য মূল্য পেত কৃষক। দেরিতে ক্রয় অভিযান শুরু করায় দলীয় নেতাকর্মী ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটই লাভবান হবে।

জানা গেছে, এবার এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ঘরে তুলতে ১৩-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। রোগবালাইসহ নানা কারণে রানীনগর, আত্রাইসহ কয়েকটি উপজেলায় বিঘাপ্রতি ধান হয়েছে গড়ে ১৪-১৫ মণ করে। বর্তমানে মোটা জাতের প্রতি মণ ধান কেনাবেচা হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকায়। আর চিকন জাতের জিরাশাইল ধান কেনাবেচা হচ্ছে ৭৪০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে। এ হিসাবে কৃষকদের প্রতি বিঘায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

রানীনগর উপজেলার লোহাচূড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বেশির ভাগ ক্ষুদ্র কৃষক ঋণ নিয়ে জমিতে ধান চাষ করে। ধান কাটার পর ঋণের টাকা  দ্রুত পরিশোধ করতে হয়। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ইতিমধ্যে ধান বিক্রি করে দিয়েছে। আরেক কৃষক কাশেম উদ্দিন জানান, ধান কাটা-মাড়াইয়ের শুরুতে সরকার এলসি চাল বাজারে বিক্রি করে। এতে ধানের বাজার একেবারেই কমে যায়। এ সুযোগে চাতাল ব্যবসায়ীরা ধান কিনে লাভবান হয়।

কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, চাষিরা যখন ধান বিক্রি করে দেয় তখন সরকার ধান-চাল কেনার ঘোষণা দেয়। প্রতিবছরই একই সময় সরকার এ কার্যক্রম ঘোষণা করে। এতে কৃষকদের বেশি লোকসান গুনতে হয়। আর লাভবান হয় চাতাল ব্যবসায়ীরা।

জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনও বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যে গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারবে না।

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন জানান, ৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫২ মেট্রিক টন ধান কৃষকরা সরবরাহ করেছে।

শেরপুরে ফলনে সন্তোষ, দামে হতাশা : নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারি এলাকার কৃষক সুরুজ্জামান বলেন, ‘বোরোর বাজারের যা অবস্থা, তাতে আমাগো একেবারে ফকির হবার জোগাড়। ফলনে সন্তুষ্ট, কিন্তু বাজারে ধানের দাম নাই। আড়াই একর জমিতে তেজগোল্ড জাত ও বিআর-২৬ জাতের ধান করছিলাম। একরে ৭০-৭৫ মণ কইরা ফলন পাইছি। কামলার মজুরি ও খরচের জন্যে ফইরাগরে (ব্যাপারী) কাছে ৬০ মণ ধান বিক্রি করছি। ৬০০ ট্যাহা (টাকা) মণ দাম ফুরাইয়া কিছু ট্যাহা আগাম নিয়া এবং বাকি ট্যাহা তিন মাস পরে নেওয়ার শর্তে ধান দিয়া দিছি। কি করমু, উফায় নাই।’

আমবাগান এলাকার কৃষক হাকাম হীরা জানান, ‘যখন গুদামে ধান কিনব, তখন তো আর কৃষকের কাছে ধান থাকব না। তখন ধান থাকব মিলার আর মজুদদারদের কাছে। কয়েক দিন ধরে ধান বিক্রির জন্য বাজার ঘুরছি। কিন্তু খরচের সাথে দামে মিলছে না। এক একর জমিতে ধান ফলাতে ২৬ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর বাজারে এখন ধান বিক্রি হচ্ছে বিআর-২৮, ২৯ ধান ৫১০ থেকে ৫২০ টাকা মণ দরে। মোটা হাইব্রিড জাতের ধানের দাম মণপ্রতি ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। প্রতি একর ধান কাটতে সাত-আট হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এক মণ ধান বিক্রি করে একটা কামলার বেতনও হয় না।’

এ জেলায় গতকাল পর্যন্ত সরকারিভাবে বোরো ধান কেনা শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়া গেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। এখন চলছে কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ। কৃষকদের অবহিত করতে এবং সচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তারা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে আনে।

শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহা বলেন, ১০ মে উপজেলা সংগ্রহ কমিটির সভা হয়েছে। সভায় ইউনিয়নওয়ারি বরাদ্দ বিভাজন করে কৃষক তালিকা চাওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সেই তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়া হবে। সেই তালিকা অনুমোদন হলে খাদ্য বিভাগ ধান কেনা শুরু করবে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, বোরো সংগ্রহ অভিযান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের হাত করে কৃষকদের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তারাই খাদ্যগুদামে ধান-চাল ঢোকাবে। প্রকৃতপক্ষে সরকারি দামের সুফল কৃষক পাবে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি এম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘এবার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলাওয়ারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই ধান কিনব। কৃষি বিভাগের দেওয়া তালিকা দেখেই সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান কেনা হবে।’

সুনামগঞ্জে এখনো সভাই হয়নি : সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে অগ্রগতি নেই। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে উপজেলা পর্যায়ে ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভা করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ১১ উপজেলার মধ্যে মাত্র তিনটিতে সভা হয়েছে। জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষি বিভাগ থেকে এখনো কৃষকদের তালিকা না আসায় সংগ্রহ অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না।

আর কৃষকরা জানিয়েছে, এবার পাহাড়ি ঢলে জেলার অধিকাংশ হাওরেই ফসলহানি ঘটেছে। তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই ও ধরমপাশার অনেক কৃষক হাওর থেকে কোনো ধানই সংগ্রহ করতে পারেনি। তারা কোনো ধান বিক্রি করতে পারবে না। নিজেদের ভাতের ব্যবস্থা করতেই তাদের হিমশিম খেতে হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কৃষকদের নামও এখনো পাওয়া যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই সব উপজেলায় সভা হবে।

কৃষকের তালিকাই হয়নি বরিশালে : বরিশালেও এখনো সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। জেলা-উপজেলা মনিটরিং সেল থেকে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগৈলঝাড়া বাদে আর কোথাও কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি।

অথচ বোরো মৌসুমের ধান কাটা প্রায় শেষ দিকে চলে এসেছে। সংগ্রহ অভিযানের দেরি দেখে কৃষকরা স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করে দিচ্ছে। বানারীপাড়ার দিদিহারের কৃষক শাজাহান সরদার জানান, এক মণ ধান উৎপাদনে যে টাকা খরচ হয় বিক্রি করে সেই অর্থ পাওয়া যায় না। এ বছর উপজেলায় ধানের ফলনও কম হয়েছে।

বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে তাদের তালিকা আমরা কৃষি দপ্তর থেকে পাইনি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে জেলা মনিটরিং সেলের সভা হবে। এই মাসের মধ্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ কাজ শুরু করা হবে।’

এখনো কেন সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। এখনো ধান ভালোভাবে শুকায়নি, অর্থাৎ ধানে ময়েশ্চার (আর্দ্রতা) রয়েছে। এ ধান কিনে গুদামজাত করা হলে সরকারি গুদামে বর্তমানে যেসব খাদ্যপণ্য মজুদ রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়নি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, দেশে বোরো ধান-চাল হয় প্রায় দুই কোটি টন। এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ চাল কেনে সরকার, যা পরিমাণে সামান্য। এর পরও মূল্য নির্ধারণের কারণ হচ্ছে কৃষকরা যেন ন্যায্য দামের জন্য দরকষাকষি করতে পারে। একটা দাম নির্ধারণ করে দিলে কৃষক দরকষাকষির সক্ষমতা অর্জন করে। এ জন্যই সরকার উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণ করে নির্ধারিত হারে মুনাফা যোগ করে দর নির্ধারণ করে দেয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমদ  বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তর বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আমাদের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 48 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি