নতুন ইসির চারজনেই আওয়ামী লীগ জোটের

Print

সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে দেশের নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা হলেন- সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। নির্বাচিত ৫ সদস্যই ইসি গঠনে সার্চ কমিটিকে দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবে ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে তালিকা দিচ্ছেন সার্চ কমিটির সদস্যরাতবে, ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করলেও নতুন ইসিতে প্রাধান্য পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটভুক্ত শরিকদলগুলোর প্রস্তাবিত নাম। এর মধ্যে কমিশনার হিসেবে মাত্র একজন বিএনপির প্রস্তাব থেকেও নেওয়া হলেও বাকি চারজনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত দলগুলোর প্রস্তাব থেকে। সার্চ কমিটির সুপারিশে বিএনপি-জোটের শরিক এলডিপির প্রস্তাবিত নামটিকেও সুপারিশে রাখা হয়। সার্চ কমিটি, তরিকত ফেডারেশন ও সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এসব তথ্য জেনেছে ।

সূত্রগুলো জানায়, ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রস্তাবে নুরুল হুদা ও কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরীর নাম ছিল। এর মধ্যে সিইসি হিসেবে হুদাকে রাখে দলটি। একই নামটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাব করছিল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।
এছাড়া, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত তালিকায় কমিশনার হিসেবে নাম ছিল সাবেক এই সচিবের। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনএফ প্রস্তাবিত তালিকায় এই নাম ছিল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরীর নাম আসে ক্ষমতাসীনদের জোটসঙ্গী সাম্যবাদী দলের প্রস্তাবেও। সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানমের নাম দেয় আওয়ামী লীগ। সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদারকে প্রস্তাব করে বিএনপি। আলী ইমাম মজুমদারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাব করেছিল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
তরিকতের সূত্রটি জানায়, সার্চ কমিটিকে ৫টি নাম দেয় দলটি। এর মধ্যে ছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা, রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সচিব আলী কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জিনাতের নাম ছিল। এই ৫ নামের মধ্যে ৩ জনকে নতুন ইসিতে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
দলটির নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দলের পরামর্শেই তিনটি নাম প্রস্তাব করে তরিকত ফেডারেশন, এক্ষেত্রে সার্চ কমিটির বৈঠকেও তার ইঙ্গিত মেলে। কমিটিতে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।
যদিও এ নিয়ে জানতে চেয়ে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বসর ও মহাসচিব এম এ আউয়ালকে ফোন করা হলে মন্তব্য প্রদানে তারা অস্বীকৃতি জানান। তাদের ভাষ্য, ‘নাম যেখানে জমা দেওয়ার কথা জমা দিয়েছি। নাম প্রকাশ করার কোনও নিয়ম ছিল না, এখনও নেই। রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন করেছেন, এ নিয়ে আর কোনও মন্তব্য নেই।’
সোমবার রাতেই সচিবালয়ে এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, সিইসি হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে মাহবুব তালুকদারের নাম এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানমের নাম সিইসি হিসেবে সুপারিশ করেছিল আওয়ামী লীগ। তারা দুজনেই সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির প্রদেয় ১০টি নামের তালিকায় আছেন, সিইসি হিসেবে সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা ও আলী ইমাম মজুমদার, কমিশনার হিসেবে মাহবুব তালুকদার, জারিনা রহমান খান, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও অন্য তিন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে কমিশনার শাহনেওয়াজের মেয়াদ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 219 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ