নন্দীগ্রামে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে তালাক, দ্বিতীয় বিয়ে করলো স্বামী

Print

বগুড়া জেলা প্রতিবেদক : বগুড়ার নন্দীগ্রামে যৌতুক না পেয়ে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে পিটিয়ে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বিদেশ ফেরত স্বামী। অথচ ঝি-এর কাজ করা স্ত্রীর কষ্টার্জিত টাকা ও স্ত্রীর ও জমি জমি বিক্রয়ের টাকায় বিদেশ গিয়েছিল ওই পাষন্ড স্বামী। এঘটনায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধু সেলিনা বেগম (৩৮)।
জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫নং ভাটগ্রাম ইউনয়নের কালিশ মধ্যপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সুবিচার চেয়ে নির্যাতিতা গৃহবধু প্রশাসন ও সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মহলে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক করছে। যৌতুক গত আগষ্ট মাসে আদালতে মামলা দায়ের হলে মামলার ঘটনা তদন্তের জন্য নন্দীগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন বিজ্ঞ আদালত। তবে রহস্যজনক কারনে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিন প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে তারিয়ে দিয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কালিশ মধ্যপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ঝর্ণা বেগমের সাথে পরকিয়া প্রেমের টানে অন্যত্রে নিয়ে বিয়ে করেন বিদেশ ফেরত আবুল কালাম আজাদ।
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম ৫নং ভাটগ্রাম ইউনয়নের কালিশ মধ্যপাড়া গ্রামের জামাত আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদের সাথে একই উপজেলার ৩নং ভাটরা ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম রসুলের মেয়ে সেলিনা বেগমের ২২ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে প্রবাসী ও ছোট ছেলে ১০ম শ্রেনিতে পড়াশুনা করে। বিয়ের পর সংসারে অভাব অনটন থাকায় গৃহবধু সেলিনা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকেই মাঝেমধ্যেই যৌতুকের দাবিতে ওই গৃহবধু সেলিনাকে মারধর করতো স্বামীসহ শ্বশুর জামাত আলী ও শ্বাশুরী খইমন। একপর্যায়ে স্ত্রীর কষ্টার্জিত টাকা ও স্ত্রীর ও জমি জমি বিক্রয়ের টাকায় বিদেশ যায় স্বামী কালম। প্রবাসে চাকুরিতে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসে স্বামী। এরপর কুমিড়া পন্ডিতপুকুর এলাকার কোশাষ গ্রামের দালাল খ্যাত রুহুল কুদ্দুস ও কাহালু উপজেলার জামগ্রামে মোশাহারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিকের প্ররোচনায় ব্যবসা করার নামে গৃহবধু সেলিনার পরিবারের কাছে ১লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী কালাম। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গৃহবধু সেলিনার উপর শুরু হয় নির্যাতন। যৌতুকের টাকার দাবিতে গত ২১জুন গৃহবধু সেলিনাকে মারধর করে পিতার বাড়ি বারইপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়্ াহয়। এনিয়ে বেশ কয়েকবার দুই পরিবারের মধ্যে দেনদরবার হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী নির্যাতিতা গৃহবধু সেলিনা বেগম বলেন, আমার দুটি সন্তানই বড়। আমি সংসার হারা হয়ে পথে পথে ঘুরছি। আমি আমার সংসারে ফিরতে চাই। আইনের সুবিচারের দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ঘুরছেন ওই গৃহবধু। এ্যাডভোকেট মনিরুল কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ