নবসৃষ্ট উপজেলায় জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনে কর্নফুলী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিআকর্ষণ

Print

কর্নফুলীতে ছাত্রছাত্রীদের জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকি কমাতে
নবসৃষ্ট উপজেলায় জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনে কর্নফুলী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিআকর্ষণঃ

জে,জাহেদ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের সর্বকনিষ্ঠ কর্নফুলী উপজেলাতে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের যৌক্তিক দাবি তুলেছে উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও দীর্ঘদিন পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এতদিন কেন্দ্রে হিসাবে পরীক্ষা দিয়ে আসছে কর্নফুলীর ছাত্রছাত্রীরা । কিন্তু সদ্য ঘোষিত নবসৃষ্ট উপজেলা হওয়াতে সময়ের যৌক্তিক দাবিতে একত্রিত হয়ে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দাবি তুলেছে।
দেশের সব উপজেলা সদরে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলেও শুধুমাত্র কর্নফুলীতে এখনো কোন কেন্দ্র স্থাপন হয়নি । অতীতে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতি বছর পটিয়ার একটি কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ করত। যা অনেকটা ঝুকিপূর্ন আর কষ্টসাধ্য ছিলো ছাত্রছাত্রীদের।
কেননা এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক অসুবিধা হয় বলে জানান পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সাইফুদ্দীন মানিক।
তথ্যসুতে জানা যায়, পুর্বের কেন্দ্রটি সদ্য ঘোষিত কর্ণফুলী উপজেলা হতে ১৩ কিঃমি দুরে। সেখানে যাতায়াতে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের অসুবিধায় পড়তে হয়। নানা ইভটিজিং এর শিকার হতে হতো ছাত্রীদের। এমন কি প্রতিবছরে কর্নফুলী উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন হতে কমপক্ষে ৮ শতাধিক ছাত্রছাত্রী এ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করত।
এদের সাথে কমপক্ষে একজন করে অভিভাবক কেন্দ্র এলাকায় যাতায়াত করেন। সব মিলে প্রায় দুই হাজার মানুষের নদী পার ও ঝুকিপূর্ন কক্সবাজার মহাসড়ক পার করে যাতায়াত করতে হতো। যা অনেক দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির জম্ম দিতো।
শিকলবাহা ইউনিয়নের এক ছাত্রের অভিভাবক করিম জানান, কর্নফুলী থানা হতে পটিয়া সদর অনেক দুর কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যস্ত যানবাহনের যাতায়াত।
সেখানে সহজে যাতায়াত করাও সম্ভব হয়না ছাত্রছাত্রী কিংবা অভিভাবকদের । এতেও পরীক্ষার্থীদেরকে যথা সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশসহ যাতায়াতে জনদুর্ভোগ সীমাহীন।
কর্নফুলীতে কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষকদের কেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যার কথাও স্বীকার করেন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের অভিভাবক সাহাব উদ্দিন।
এসব কারণে আগামীতে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার সময় চরলক্ষ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র করার জোর দাবি তুলেছে নবসৃষ্ট উপজেলার জনসাধারণ।
যদিও দীর্ঘদিন ৫টি ইউনিয়ন যেমন চরলক্ষ্যা,জুলধা,চরপাথরঘাটা, বড়উঠান,শিকলবাহার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলেছিলো।
কর্নফুলী এলাকায় যেন জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রতিষ্টা করা হয়। এই দাবির প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন রয়েছে বলেও বলে জানান অনেক শিক্ষানুরাগী।
আইয়ুব বিবি স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্রীর অভিভাবক আলহাজ্ব এম মঈন উদ্দিন জানান, উপজেলা সদরে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকা অতি স্বাভাবিক। বাংলাদেশের যে কোন উপজেলা সদরে এরকম কেন্দ্র থাকলেও কর্নফুলী উপজেলায় গড়ে ওঠেনি বলে কেন্দ্র করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, আগামীতে সদ্য ঘোষিত উপজেলার ছাত্রছাত্রীরা যাতে কর্নফুলীতে পরীক্ষা দিতে পারে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে অবস্থিত সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে ১টি কেন্দ্র ঘোষনা করা জরুরী মনে করেন অনেকে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সুপারিশসহ একটি আবেদন চট্টগ্রাম বোর্ডে উপস্থাপনও করা হচ্ছে বলে বিশেষসুত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে এজে চৌধুরী বহুমূখী (কৃষি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি দাশ জানান,দীর্ঘদিন জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হচ্ছে পটিয়া ৪ কুসুমপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বর্তমানে নবসৃষ্ট কর্নফুলী উপজেলা হওয়াতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুমতি পেলে ৫টি উপজেলার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য খুবই উপকৃত হতো।
অন্যদিকে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব চৌধুরী জানান,বিষয়টি অতীব জনগুরুত্বপুর্ন ও ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্নফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সুনজরে নেবেন।
অভিভাবক ও সচেতনমহল আশা করছে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে যেন কেন্দ্র চালু হয়। কেননা উপজেলার মাঝখানে স্কুলটির অবস্থান। এবং পরিবেশগত নিরাপক্তা ও নিশ্চিত যেহেতু পাশে কর্নফুলী থানার অবস্থান।
এমনকি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্ব স্ব দপ্তরের সবাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। সুতরাং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অতিদ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে কর্নফুলী ইউ,এন,ও এবং চট্টগ্রাম বোর্ড চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 42 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ