নলছিটিতে মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড লাগিয়ে ত্রাস সৃষ্টি

Print

৪০ বছর পর চিহ্নিত রাজাকার পুত্রের এলাকায় আগমন
নলছিটিতে মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড লাগিয়ে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে ৪০ বছর পালাতক থাকার পর চিহ্নিত রাজাকার এলাকায় ফিরে মারা গেলে তার কুচক্রি পুত্র মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সাইনবোর্ড লাগিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। সাইনবোর্ডধারী এ মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আব্দুল্লাহ সেলিমের অপতৎপরতা ও দখল সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আপন চাচাতো বোন নিজের জীবন রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে অভিযোগ করা হয়েছে। গত সোমবার নলছিটি উপজেলার অনুরাগ গ্রামের মৃত মুনসুর চৌধুরীর কন্যা বর্তমানে পালিয়ে ঝালকাঠিতে আশ্রয় নেয়া নারগিস বিবি এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছে। তিনি লিখিত অভিযোগে উক্ত রাজাকার পুত্র আব্দুল্লাহ সেলিমের মুক্তিযোদ্ধা দাবীর বিষয়টি তদন্ত পূর্বক মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রধানদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
নারগিস বিবির অভিযোগে বলা হয়, তার আপন চাচা মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন একজন চিহ্নিত রাজাকার ও এলাকার বহু হিন্দু-মুসলমান হত্যার অন্যতম সহযোগী। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালে কুখ্যাত রাজাকার চাচা মাহমুদ চৌধুরী পাকিস্তানীদের এজেন্ট হিসাবে হিন্দু-মুসলমান বহুমানুষের ঘরবাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারীনির্যাতন করিয়াছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর উক্ত রাজাকার মাহমুদ চৌধুরী নিজের প্রান বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ও দেশের বিভিন্নস্থানে ছদ্ম নামে ঘুরিয়া বেড়াতে থাকে। বিগত ৩/৪ বছর পূর্বে বয়োবৃদ্ধ রাজাকার মাহমুদ চৌধুরী এলাকায় ফিরে এসে বয়সের ভাবে মারা যায়। পিতার সাথেই প্রায় ৩০ বছর পর এলাকায় ফিরে আসা উক্ত রাজাকারপুত্র এটিএম আব্দুল্লাহ সেলিম (৪৫) এলাকায় ফিরে আসে ও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে নানারকম গল্প ফাঁদে।
অভিযোগকারী অসহায় নারী আরো জানায়, যার পিতা কুখ্যাত রাজাকার হিসাবে এলাকার সর্বসহলে পরিচিত স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তারই শিশু পুত্র এটিএম আব্দুল্লাহ সেলিম সম্প্রতিকালে রহস্যজনক ভাবে তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করিয়েছে বলে সদম্ভে প্রচার করে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে সে এলাকায় ফিরে তারই আত্মীয়-স্বজনের জমি জমা জালজালিয়াতীর মাধ্যমে দলিল ও ভূয়া রেকর্ড করিয়ে আত্মসাৎ করার তৎপরতায় মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে। এহেত সন্ত্রাসী সেলিম তার অন্যায়-অপকর্মকে জায়েজ করতে সৎ ভাই খায়ের চৌধুরী ও পাশ্ববর্তী রুনু চৌধুরী নামের দু’জন সাহায্য-সহযোগি লাভ করছে। আর তাদের সহযোগিতায় রাজাকারপুত্র সেলিম এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষের জানমাল ও সম্পদ এখনও লুটপাট করে বেড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তপূর্বক মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম থেকে থাকলে উক্ত রাজাকারপুত্র এটিএম আব্দুল্লাহ সেলিম ও তার পিতা চিহ্নিত রাজাকার মাহমুদ চৌধুরীর নাম কর্তন ও প্রতারনাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগকারী আকুল আবেদন জানান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 142 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ