নাঙ্গলকোটে শিক্ষকের বেত্রাঘাত ভয়ে স্কুলে যাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা

Print

লাকসাম প্রতিনিধি: 
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউপির টি.নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষার্থীদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার টি.নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার (৯) ওই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। সে ওই গ্রামের সহিদ মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জসিম, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ মোঃ আবু হাসিব। বর্তমানে কয়েকজন কমোলমতি শিক্ষার্থী শিক্ষকদের বেত্রাঘাতের ভয়ে ক্লাসেও যাচ্ছেনা।
অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, তিন সহকারী শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জসিম, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ মোঃ আবু হাসিব প্রায়ই নিজেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পরিস্কার করতে বলেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের। ঘটনার দিন শিশু শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তারকে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রুম ঝাড়– ও তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল পরিস্কার করে দিতে নির্দেশ দেন। রুম ঝাড়– না দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে ক্ষিপ্ত হয়ে বেত্রাঘাত করে স্কুল থেকে বের করে দেন ওই শিক্ষক। আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গলে তার অভিভাবকরা নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে শিশু শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার স্কুলের কথা বললে ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শাহিদার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি লেখালেখি না করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তির দাবী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার জনগণ আক্ষেপ করে বলেন, এ স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জসিম, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ মোঃ আবু হাসিব শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ধোয়ামোচা, চা-নাস্তা আনা-নেওয়ার কাজ করায় সব সময়। এর আগেও একাধিকবার ওই তিন শিক্ষক পুকুর থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পানি না এনে তাদের মোটরসাইকেল ধুয়ে না দেওয়ার তাদের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আমরা কয়েকবার এসব সমস্যা সমাধান করে দিয়েছি। আবার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথাও শুনেনা তারা।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সাইফুল অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে এটা বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে টি.নিশ্চিন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, আমি আজকেই (বুধবার) শুনেছি। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিউল আলম সুমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই তিন শিক্ষক প্রায়ই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর করে এবং তিনজনই এক সাথে চলাফেরা ও দেরিতে ক্লাসে আসে। এ বিষয়ে আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নবির উদ্দিন বলেন, আজই আমাকে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি জানিয়েছে। এ বিষয়ে আমি তাদের ডাকিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 189 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ