নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য

Print
নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্যনারায়ণগঞ্জে কয়েক হাজার ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য তুঙ্গে। ডাক্তারদের সঙ্গে লিখিত বা মৌখিকভাবে চুক্তি করা কোম্পানীর ওষুধই রোগীদের প্রেসক্রিপশনে লিখে দেয়া হয়। যার শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমিশন পায় ডাক্তার। এছাড়াও যে ফার্মেসী ওষুধ বিক্রি করে সেখানেও কমিশন বানিজ্য। রোগীর জন্য প্রতিটা এক্সরে এমআরআই আলট্রসোনোগ্রাফি সহ বিভিন্ন ধরনের টেস্ট থেকে ডাক্তার ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকে। একই সঙ্গে রোগীদের অপারেশন না করলেও চলে এমন রোগীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে অপারেশন করিয়ে মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নেওয়া ডাক্তারদের কাজ হয়ে গেছে। এসব নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন কিংবা সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে প্রায় অর্ধশতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। রয়েছে সরকারি খানপুর ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে কয়েক শত ডাক্তার রয়েছে। এসব ডাক্তারদের মধ্যে একজন খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি কমিশন বানিজ্যে নেই। রোগীকে প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া ওষুধের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ টাকা কমিশন পেয়ে থাকে ডাক্তারগণ। একই হার ইনজেকশন থেকেও। এর আগে বিভিন্ন ফার্মাসিটিউক্যালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তি করা হয় যে তাদের কোম্পানীর ওষুধই প্রেসক্রিপশনে লিখে দিতে হবে ভাল হোক বা মন্দ হোক। আবার ডাক্তার রোগী দেখার সময় চেম্বারের সামনে বসে থাকেন ওষুধ কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধিরা। ডাক্তার ওষুধ লিখে দেওয়ার প্রতিনিধিরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করে থাকেন। যেটা রোগী ও রোগীর স্বজনদের জন্য বিভ্রান্তিকর। আর প্রতিনিধিরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন চেক করার কারণ হলো প্রতিনিধির কোম্পানীর ওষুধগুলোই ডাক্তার রোগীতে লিখে দিল কিনা। শহরে প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসকরা বেপোরোয়া হয়ে গেছে। মানুষের জীবন যাত্রায় চিকিৎসকের কাছে যেতেই হয়। ডাক্তারের কাছে যেতে হয়না এমন মানুষ এখন লাখে একজন পাওয়া যাবে না। ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা অনেক রয়েছে।

অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, ডাক্তারদের সিরিয়ালের জন্য সকালেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিরিয়াল দিতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে দিলেও চলে। ডাক্তারদের সহকারীরাও এক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে। বর্তমানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অর্থোপেডিক্স ডাক্তারদের কাছে কোন রোগী গেলেই প্রথমেই এমআরআই করানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কারণ এমআরআই করাতে টাকা লাগে ৭ হাজার। যেখানে ডাক্তারের কমিশন আড়াই হাজার। প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই এমআরআই করানো হয়। পরবর্তীতে সামান্য সমস্যা দেখা গেলেই রোগীদের অপারেশন করানোর তাগিদ। আর রোগীর অবস্থা খারাপ দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। এমন সব কথাবার্তা বলে অপারেশন করানো হয়। কারণ রোগীকে ডাক্তারের দেয়া স্থানেই অপারেশন করাতে হবে। নতুবা এ ডাক্তরের কাছেই অপারেশন করাতে হবে। এতে কয়েক লাখ টাকা ডাক্তারের কমিশন বানিজ্য। এটাই কি চিকিৎসক। তবে এদের ভিন্ন চিকিৎসকও রয়েছেন যারা রোগীকে ভাল পরামর্শ ও চিকিৎসা করিয়ে থাকেন যদিও তাদের পরিমাণ কম।

এদিকে এসব বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিক বা হাসপাতালে রোগীদের সাথে বানিজ্যিকিকরণ করা হলেও রুখবার মত কোন সরকারি ব্যবস্থা নেই। শত শত ডায়াগনস্টিক সেন্টার হলেও অনেকগুলোর অনুমোদন নেই বলে জানাগেছে। বাসা বাড়ি অফিস ফ্লাটে তৈরি করা হচ্ছে ক্লিনিক বা হাসপাতাল। প্রায়শই দেখা যায় ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ক্লিনিকে। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইতিমধ্যে ভুয়া চিকিৎসকও বেশকজন ধরা পরেছে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট অভিযান দিলেও তাও অনেকটা সীমিত। আয় দিয়েও চিকিৎসা চলে। কাজের লোক দিয়ে চলে নার্সিং। ফার্মেসী কোর্স করে এসেই ডাক্তার সেজে যায়। এমন দুচার জন নারায়ণগঞ্জের বেশকজন ধরা পরলেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট না থাকায় এসব রোধ হচ্ছেনা। আর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডাক্তারদের কমিশন বানিজ্য বেপোরোয়াভাবে চলছে। রোগীর যেখানে চিকিৎসা খরচ লাগবে ১ হাজার টাকা সেখানে লাগবে আরো ৫শ টাকা বেশি।

নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতাল ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল দুটিই সরকারি পাসপাতাল। আর সরকারি হাসপাতাল মানেই হলো চুরি বাটপারির কারখানা। অসৎ ব্যক্তিদের স্থান। হাসপাতাল সুপারের পিএও যখন দুচারটা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হয় তখন বুঝতে হবে সরকারি ওষুধ কোথায় যায়। আর কি ধরনের দুর্নীতি চুরি হয়। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চলে চুরি। ছোট চোর বড় চোর। রোগীদের লিখে দেয়া ওষুুধ যদি হয় ৩টা তাহলে হাসপাতালের কম্পাউন্ডার দিবে একটা ওষুধ। বাকীগুলো হাসপাতালের কম্পাউান্ডার থেকে চোরদের পকেটে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররাও কমিশনে বাণিজ্যে তুঙ্গে। খানপুর ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে দিন ভর ওষুধ কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধিদের দেখা যায়। যদি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা দেয়া হয় এবং ওষুধও সরকার বরাদ্ধ দেয় তাহলে ওষুধ কোাম্পানীর প্রতিনিধিরা ডাক্তারের সাথে কিসের আলাপ আলোচনা করে কিংবা হাসপাতালের সামনে তাদের কাজ কি। সেটা সবাই বুঝেন কমিশন বানিজ্য। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারগণও বাহিরের ওষুধ লিখে দেয়। অনেক চিকিৎসক রোগীদের ভাল করে চিকিৎসা করাবে বলে তার নিজস্ব বাহিরের কোন চেম্বারে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে রোগীদের চিকিৎসার নাম করে হাজার হাজার টাকা বিল তোলা হয়। ডাক্তারদের এক সময় কসাই বলে অবহিত করতো রোগীরা কিন্তু বর্তমানে ডাক্তারদের জল্লাদ বলে অবহিত করে রোগীরা।

-নিউজ নারায়াণগঞ্জ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 97 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ