নাশকতার দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Print

রাজধানীর দারুস সালাম থানায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার ঢাকার মুখ্য মহনগর হাকিমের আদালতে দণ্ডবিধির মামলায় দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুর রহমান ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৩ জনকে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১২ জনকে।

এ দুই মামলায় আমান উল্লাহ আমান ও কামাল হোসেন ছাড়া বাকি সবাইকে পলাতক দেখানো হয়েছে। এ দুজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- আমানউল্লাহ আমান, সরফউদ্দিন আহমেদ সফু, সৈয়দা আফিয়া আক্তার পাপিয়া, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মামুন খান, মো.মাকসুদ, মো. ফারুখ, দোলেয়ার হোসেন, মনি হোসেন, মো. মনা, মো, বাবু, আব্দুর রহিম, মাহবুব হোসেন কামাল হোসেন, রাব্বী সাফায়ত রাব্বী, এইচ এম ইমরান, শ্যামল আহমেদ, তপু দেওয়ান, আব্দুল জব্বার, সরোয়ার আলম। দুই চার্জশিটে তারাসহ ৫১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৪ জন এবং অন্যটিতে ২৭ জন।

সংশ্লিষ্ট আদালতে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দণ্ডবিধির মামলা আগামী ১ জুন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আগামী ৩১ মে পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আরো জানান, আজ ঢাকার মহানগর হাকিম এমদাদুল হকের আদালতে অভিযোগপত্র দুটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কোনাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে দিয়াবাড়ি যাওয়ার পথে হযরত শাহ-আলী মাজারের খালি বালু মাঠের পূর্ব পাশে ৩৩ নং হযরত আলী কলা মার্কেটের বিপরীতে আনন্দ সুপার নামক একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনির হোসেন বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/৩ ও ২৫(ঘ) ধারায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

আরেকটি মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী অবরোধ ও হরতাল শুরু হয়। এ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এবং আমান উল্লাহ আমান, সরাফত আলী সফু, হাবিবুন নবী খান সোহেল, সৈয়দা আফিয়া আক্তার পাপিয়া ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুদের ইন্ধনে ২০ দলের সমর্থিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলাকালে গাবতলী বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডের পাশে গ্রেট ওয়ালের মাঠে পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় একটি মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৫৩ / ৩০৭/১০৯ ও ৩৪ ধারায় ২০ জনসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 67 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ