নিঃসন্তান দম্পতিদের আধুনিক চিকিৎসা

Print

নিঃসন্তান দম্পতিদের সর্বশেষ আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি হলো, ইকসি অর্থাৎ ইন্ট্রসাইটোপ্লাজম স্পার্ম ইনজেকশন। এ পদ্ধতিটি প্রধানত পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণে প্রয়োগ হয়। যেসব পুরুষের বীর্যে শুক্রকীটের পরিমাণ কম অথবা কীটগুলোর চলাফেরার ক্ষমতা কম অথবা নেই, সে ক্ষেত্রে ইকসি পদ্ধতির ভূমিকা অত্যন্ত বেশি। দেশে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন সন্তানহীন দম্পতি রয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এর শতকরা ৬০ ভাগ দম্পতি পুরুষের কারণে সন্তান জন্ম দিতে পারছেন না। আমাদের দেশে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, সন্তান জন্ম দিতে না পারার একমাত্র কারণ স্ত্রী। ধারণাটি মোটেও ঠিক নয়। ইকসি নামক চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে এ ধরনের দম্পতিদের সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব। পদ্ধতিটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষার মাধ্যমে মেনে নিতে হবে, স্ত্রীর সন্তান ধারণের কোনো প্রকার অসুবিধা আছে কি না। স্বামীর বীর্যের দোষ কতটুকু। সব কিছু পরীক্ষার পর ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত করে নেবেন চিকিৎসাপদ্ধতিটি। ইক্সি হলো একটি সুস্থ সবল শুক্রকীটকে ধরে এনে স্ত্রীডিম্বের ভেতরে অর্থাৎ সাইটোপ্লাজমের ভেতর স্থাপন করে দেয়া। এ জন্য চাই দক্ষ চিকিৎসক এবং অতি উন্নতমানের গবেষণাগার। কেবল মহিলাদের মাসিকের একটা নির্দিষ্ট সময়েই এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়। যে মাসে অর্থাৎ যে ঋতুটিতে এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হবে, সেই মাসিকের প্রথম দিনেই ভ্রুণ বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। স্ত্রীকে মাসিকের প্রথম অথবা দ্বিতীয় দিন থেকে চিকিৎসক ওষুধ প্রয়োগ শুরু করবেন এবং প্রতিদিন ওষুধের কার্যকারিতার পর্যালোচনা করবেন। অর্থাৎ স্ত্রীর ডিম ফুটে আসতে শুরু করেছে কি না এবং শুরু হলে ক’টি ডিম ফুটে আসছে ইত্যাদি। বারবার শরীরের জরায়ুর মুখের জলীয় পদার্থ, তাপমাত্রা নির্ণয় এবং আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে এগুলো দেখে নিতে হবে, কখন এবং কোন দিন ডিমগুলো পূর্ণতা লাভ করবে। ওই দিনটিতে ল্যাপারোস্কপি নামক এক যন্ত্রের সাহায্যে ডিমগুলো ডিম্বকোষ থেকে বের করে এনে গবেষণাগারে একটি নিার্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে দিতে হবে এবং সাথে সাথে স্বামীর বীর্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রকার ওষুধের মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে। ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ কোন শুক্রকীটটি ভালো ও স্বাস্থ্যবান তা নির্ণয় করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম যন্ত্র, যার নাম মাইক্রোমেনুপুলেটার- এই যন্ত্রের সাহায্যে ধরে ডিম্বের সাইটোপ্লাজমের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয় এবং সাথে সাথেই ডিমটিকে মায়ের জরায়ুর মধ্যে স্থাপন করা হয়। মাইক্রোমেনুপুলেটার যন্ত্রটি অত্যন্ত মূল্যবান। যে টিউবের সাহায্যে শুক্রকীটটিকে ধরে আনা হয়, তার ছিদ্র হলো একটা চুলের যে পরিমাণ ঘনত্ব আছে তার দশ ভাগের এক ভাগের মতো।  সমস্ত প্রক্রিয়াটির জন্য অত্যন্ত দক্ষ এবং ধীরসম্পন্ন চিকিৎসক দলের প্রয়োজন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 92 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ