নিজামীর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল তখন

Print

স্বাধীনতাযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির অপরাধে আপিল বিভাগের রিভিউ খারিজের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পড়ে শোনানো সময় গুমড়ে কেঁদে ওঠেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী। তবে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। এসময় তার চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ ছিল স্পষ্ট।

কারা সূত্র জানায়, রাত সোয়া সাতটার দিকে নিজামীকে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়টি পড়ে শোনানো হয়। এসময় বেশ কয়েকজন কারা কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। লাল কাপড়ে মোড়ানো রায়ের কপিটি নিয়ে যখন কারা কর্মকর্তারা নিজামীর কনডেম সেলের সামনে গিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল তখনই নিজামীর চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ ফুটে ওঠে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, লাল কাপড়ে মোড়ানো রায়ের কপিটি যখন বের করা হচ্ছিল সেসময় নিজামী সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। কারা কর্মকর্তারা যখন যন্ত্রের মতো কোনো দিক না তাকিয়ে রায়ের কপিটি পড়ে শোনানো শুরু করেন তখন নীরবে নিজামীর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। অবশ্য রায় শোনার পর নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তাকে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলতে শোনা যায়।

এর আগে আজ দুপরে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের চার বিচারপতি সই করা ২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশ হওয়া রায়ের কপি নিয়ে বিকালে ট্রাইব্যুনালে যান আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদি হাসান। রাত পৌনে সাতটার দিকে রায়ের কপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। সেখানে কিছু প্রক্রিয়া শেষে রাত আটটার দিকে নিজামীকে রায় পড়ে শোনানো হয়।

হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে  নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ২৯ মার্চ তিনি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন নিজামী।  ৩ মে সেটির শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ ওই আবেদন খারিজ করে।

রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর একটিমাত্র প্রক্রিয়া বাকি আছে। সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া।

তবে দুই দিন আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজামী কখনই প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। দলটির দেয়া বিবৃতিই যদি সঠিক হয় তাহলে রায় কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না। যেকোনো সময় ফাঁসির রশিতে ঝুলতে হবে আল বদরের এই কমান্ডারকে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 11 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ