নিজামীর ফাসিঁর প্রতিবাদে অনড়, অবিচল এক প্রেসিডেন্ট এরদোগান

Print

 

 

গতবছর এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজপ তায়িপ এরদোয়ানের বক্তব্য, “দুনিয়াতে মজলুমরা যেখানে আমরাও সেখানে, উসমানী খেলাফতের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তুরস্ক সর্বদাই মজলুমের পক্ষে, পাশে থাকবে” শুনতেছিলাম। সত্যিই মায়ানমারের মুসলিমদের পাশে তুরস্ক ও এরদোয়ানের দাড়ানো দেখে সেই বক্তব্যের বাস্তবায়ন দেখেছি। এবার বাংলাদেশে সবচেয়ে জুলুমের শিকার সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাসিঁর রায়ে কড়া প্রতিবাদ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দেখে তার্কিশ যুবকদের সেই শ্লোগান “মজলুমলারিন বাবাসি এরদোয়ান” অর্থাৎ “মজলুমদের পিতা/অভিভাবক এরদোয়ান” যথার্থই মনে হল।

বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত মাসে তুরস্কে অনুষ্টিত ওআইসি সম্মেলনে শেখ হাসিনার অংশগ্রহন না করার কারন মাওলানা নিজামীর ফাসিঁর রায়ে এরদোয়ানের কূটনৈতিক ভূমিকা। খবরে প্রকাশ, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলে এই খবর পৌছানো হয় যে, ওআইসি সম্মেলনে অংশ নিলে এরদোয়ান ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর প্রধানদের কাছে নাজেহাল হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী! এরই অংশ হিসেবে ওআইসি সম্মেলনের মত গুরুত্বপূর্ন সম্মেলনে অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী।

৫ মে আপিলের চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর এরদোয়ান ৬ মে ইস্তান্বুলের এক জনসভায় এর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশে ৭৫ বয়সী একজন মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। যিনি এ পৃথিবীতে কোন ধরণের অপরাধ করে থাকতে পারেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা সব ধরণের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেয়ার পরও এবং কারো ঘৃনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে ফাঁসি দেয়ার হার বেড়েই চলছে। এভাবে ফাঁসি দেয়ার এই মানসিকতাকে আমরা গণতান্ত্রিক চোখে দেখি না। একই সাথে এটাকে আমরা কোন ন্যায় সঙ্গত চিন্তা বা সিদ্ধান্ত বলেও মনে করি না।”

এর পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র প্রধানদের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন- “বর্তমানে বাংলাদেশে যা ঘটছে তার ব্যাপারে যারা কোন কথা বলছেন না, তারাও এই লজ্জাজনক দায়ভার থেকে মুক্ত থাকতে পারেন না”।

এরপরও সরকার যখন মাওলানা নিজামীর ফাসিঁ কার্যকর করে তখন গতকাল আনকারার এক রাজনৈতিক কনফারেন্সে চরম দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ” মতিউর রহমান নিজামীর ফাসির কারনে অনেক দু:খ পেয়েছি। একজন রাজনৈতিক নেতা এ ধরনের শাস্তি কিংবা মৃত্যুদন্ড দেওয়ার মত কোন অপরাধ করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করিনা।এরদোয়ান বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও ভবিষত্যের জন্য সরকার আরো ভেবে চিন্তে ও সতর্কতার সাথে প্রদক্ষেপ গ্রহন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন” তিনি আরো বলেন, “সারা বিশ্বের মুসলমানদের যখন দু:খগ্রস্থ ও মজলুম অবস্থায় দিন কাটছে তখন বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে এ ধরনের ঘটনা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি”।

এরদোয়ান নিজামীর শাহাদাত কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও রহমত কামনা করেন এবং বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান।বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এরদোয়ান নিজামীর শাহাদাত পূর্ব ওসিয়ত পড়ে শোনান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তার্কিশ দূতকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে অবহিত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এ ভূমিকার কারনে তুরস্কের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মাওলানা নিজামীর শাহাদাত এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তুরস্কের বিভিন্ন সংগঠন গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করছে। যাতে যুব সমাজের বিপুল উপস্থিতি সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়। তুরস্কের বড় বড় সাংবাদিকরা বিশেষ কলাম লিখছেন এবং টকশোগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় তুলছেন। ধর্মীয় বক্তারা বিবৃতি দিচ্ছেন, কথা বলছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ওআইসির সভাপতি ও তুরস্কের মত প্রভাবশালী একটি দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এরদোয়ানের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব সহকারে স্থান পেয়েছে। বয়টার্স, বিবিসি ইত্যাদি মিডিয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের উদ্বেগ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।

বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় সাধারন মানুষ এরদোয়ানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে লাখ লাখ পোস্ট ও টুইট হয়েছে। এসব পোস্ট ও টুইটে ইসলাম প্রিয় জনতার বক্তব্য, “এরদোয়ান তাদের মনের মাঝে জমিয়ে রাখা আবেগগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করেছে”. এজন্য এরদোয়ানের জন্য তারা বিশেষ দোয়া করেন এবং তার ঐতিহাসিক এই ভূমিকা বাংলার মানুষ আজীবন স্বরণ রাখবে বলে উল্লেখ করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 134 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ