নিজ দলেই বিরোধিতার মুখে ট্রাম্প

Print

ধনকুবের থেকে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশের প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মার্কিন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের নেতা-কর্মীদেরই অস্ব্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ক্ষমতায় এসেছেন সপ্তাহ দুয়েকের বেশি। তাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিশ্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন। সাতটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর খোদ দেশটির সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে নিজ দলেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন ট্রাম্প। দিন দিন এ দেয়াল নির্মাণের বিপক্ষে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা এ দেয়ালের খরচ ও বাস্তব উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, এ দেয়াল নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনসাপেক্ষে তহবিল গঠন করা ট্রাম্পের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারণ এ দেয়াল নির্মাণে কমপক্ষে দেড় হাজার কোটি ডলার লাগবে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্প যদি ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে দেয়াল নির্মাণের খরচ মেটাতে না পারেন, তাহলে তারা ট্রাম্পের বিপক্ষে যাবেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিই কি এ দেয়াল সীমান্তের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে?
আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরকোস্কি বলেন, ‘আপনি যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে যান, তাহলে আপনাকে এ অর্থের উৎস কী, তাও দেখাতে হবে। এ নির্মাণ খরচ কোথা থেকে আসবে, তা না দেখিয়ে আপনি কীভাবে কংগ্রেসের মাধ্যমে এ বিল পাস করাবেন, তা আমার বোধগম্য নয়। ’ ট্রাম্পের এ আদেশের পর এরই মধ্যে আইনি জটিলতার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, হয়তো ভবিষ্যতে তা সীমান্তে অনেক ধরনের মামলার জন্ম দেবে। কংগ্রেস যদি এ দেয়াল নির্মাণের জন্য অর্থ পাস না করে, তাহলে ট্রাম্প কখনই সফল হতে পারবেন না। রিপাবলিকান নেতা ও স্পিকার রায়ান পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে হয়তো এ দেয়ালের নির্মাণ খরচ পুরোপুরি উঠে আসবে না। মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর জন ক্রোনেন এ দেয়াল অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে যথেষ্ট হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কারণ, লোকজন নানা উপায়েই আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। জন ক্রোনেন বলেন, ‘ব্যয় সংকোচনের পরও যদি বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়, তাহলে ঋণ বাড়বে। এ নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন। ’

ট্রাম্প বার বারই বলে যাচ্ছেন, আপাতত দেয়াল নির্মাণের খরচ কংগ্রেস দেবে। পরে মেক্সিকোর কাছ থেকে তা পুরোপুরি আদায় করা হবে। কিন্তু মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নেইতো স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো খরচ দেবেন না। মেক্সিকো দূরের কথা, রিপাবলিকান অনেক শীর্ষ নেতাও এমনটা হবে বলে মনে করেন না। আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের বর্ষীয়ান সিনেটর জন ম্যাককেইন স্পষ্ট বলেন, ‘না, মেক্সিকো এ অর্থ দেবে না। আমি মনে করি না এটি কোনো জুতসই বিকল্প। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি প্রযুক্তি, ড্রোন ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া শুধু একটি দেয়াল নির্মাণ করেন, তা শুধু একটি দেয়ালই হবে। … তার মানে আপনি এর মধ্য দিয়ে সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে পারবেন না। ’ এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এ দেয়ালের পক্ষে সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিবিষয়ক মন্ত্রী জন কেলি চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। কিন্তু সিনেটররা জানিয়েছেন, সেখানে দেয়ালের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্প দ্রুত এ দেয়াল নির্মাণের পক্ষে। পারলে বছরের প্রথম তিন মাসে। ট্রাম্প ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে দেয়ালের নির্মাণ খরচ মেটাতে পারলেও প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ) ও সিনেটের চালনা কমিটি মনে করে, বছরের মাঝামাঝি সময়ে অন্যান্য খাত থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার কাটছাঁট করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বব কোরকার বলেন, “যার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই, তার জন্য আমি কোনো ধরনের ব্যয়, অতিরিক্ত ব্যয় কোনোটাই করতে রাজি না। বর্তমানে আমাদের অনেক অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। যেমন এখন দেশটির ঋণের বোঝা ২০ দশমিক ৩৫৫ ট্রিলিয়ন ডলার (১ ট্রিলিয়ন=১০০০ বিলিয়র=১০ হাজার কোটি)। এর সঙ্গে আগামী ১০ বছরে আরও ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন যুক্ত হতে যাচ্ছে। এমনকি দেশটিতে এখন রাজস্বও কমতির দিকে। তাই দেয়াল নির্মাণের এ প্রস্তাব ‘দুর্যোগের একটা রেসিপি’।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 96 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ