নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে খাবো কি?

Print

যেভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে বাজারজুড়ে এর ব্যাপক সমারোহ থাকলেও কেনার মতো টাকা থাকবে না। সপ্তাহ না ঘুরতেই নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। হাজার টাকা খরচ করে বাজার করলেও দু’দিন পর ফের বাজারে আসতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সব ক্ষেত্রে বেড়েছে খরচ। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের আয় কোথায়? এভাবে দাম বাড়লে খাবো কি? এ থেকে রক্ষা পাওয়া উচিত।
এভাবেই ক্ষোভ জানালেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস। শুধু সুজন বিশ্বাস নয়, তার মতো অনেকে এভাবে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
অনেকে বলছেন, অসহনীয় মাত্রায় বাড়ছে দেশের দ্রব্যমূল্য। এভাবে দাম বাড়ায় অধিকাংশ মানুষের জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে উঠছে। ফলে দেশে পুষ্টিহীনতা বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। একদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সংসারে বেড়েছে বাড়তি চাপ, অন্যদিকে পণ্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির ফলে বাড়ছে নাভিশ্বাস।
শুক্রবার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পণ্যের দাম আকাশচুম্বি। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, গ্যাসের দাম ঊর্দ্ধগতির ফলে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে। তাই নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়েছে এর প্রভাব।
প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়, ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা, মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা, মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ২০০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৩০ টাকা, চীনের আদা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা, পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা, মিনিকেট ভালো ৫০-৫৩ টাকা, মিনিকেট নরমাল ৪৮ টাকা, বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দাম গেলো কয়েক মাস ধরে বাড়তেই আছে। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের পর ঊর্দ্ধমূখী মাংসের দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়, ইলিশ কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেজি প্রতি সাদা বেগুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, কালো বেগুন ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, টমেটো ৩৫-৪০ টাকা, শশা ৪০-৪৫ টাকা, গাজর ৪৫-৫০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ২০ টাকা, চাল কুমড়া ১৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, মূলা ২৫-৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি কেজি আলু ১৫ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা, পটল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা, আঁটি প্রতি পালং শাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 67 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ