নিরাপদ খাবার বিক্রির গাড়িতে ছিন্নমূলদের সংসার

Print

ব্যবহার না করে ফুটপাতের পাশজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া খাবারের ভ্রাম্যমাণ গাড়িগুলো৷ ছবিটি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে তোলা l প্রথম আলোকমলা রঙের গাড়ির কয়েকটিতে বিছানা-তোশক পাতা। শিশুরা বসে খেলছে। কয়েকটি তালাবদ্ধ। কাচের এ পাশ থেকে দেখা যায় রান্নার হাঁড়ি, পানির জগসহ সংসারের দরকারি নানা সামগ্রী রাখা আছে ভেতরে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে শাহবাগের ব্যবসায়ীদের দেওয়া নিরাপদ পথখাবার বিক্রির গাড়িগুলোর বেশির ভাগই এখন ছিন্নমূল মানুষের সংসার। গাড়ি বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশ তাঁদের পথে নামতে দিচ্ছে না বলে গাড়িগুলো কাজে আসছে না।

নিরাপদ পথখাবার নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি গত বছরের এপ্রিল মাসে পথের খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ৮০টি বিশেষ ধরনের গাড়ি বিতরণ করে। রিকশাভ্যানের ওপর টিন ও কাচ দিয়ে ঘেরা গাড়িগুলো কমলা রঙের। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এসব গাড়ি সরবরাহ করেছে। সে সময় শাহবাগ এলাকায় ব্যবসা করার জন্য ৩৪টি গাড়ির খাবার বিক্রেতাকে ট্রেড লাইসেন্স দেয় ডিএসসিসি।

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফুটপাতে কিছুদূর পরপর মোট ১৮টি খাবার গাড়ি রাখা। বেশির ভাগই ছিন্নমূল মানুষের দখলে। কয়েকটিতে ভাঙা চেয়ার, পুরোনো কাপড়সহ নানা ফেলনা জিনিস রাখা। দীর্ঘদিনের অব্যবহারে চাকাগুলোতে মরিচা পড়ে গেছে। শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডমুখী সড়কের বিভাজকেও পাঁচটি গাড়ি অব্যবহৃত পড়ে আছে। তবে শাহবাগ এলাকায় চটপটি, চা-বিস্কুট, পিঠার বেশ কিছু খোলা দোকান চোখে পড়ে। পথখাবার বিক্রির একটি গাড়িতে মো. সবুজ মাস ছয়েক ধরে রাতে ঘুমান। যে ব্যবসায়ীর নামে গাড়িটি বরাদ্দ হয়েছিল, তিনিই থাকতে দিয়েছেন। বললেন, ‘এইডা খালিই থাকে। এর লাইগ্যা থাকতে দিছে।’

পিঠা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ডিএসসিসি থেকে একটি গাড়ি পেয়েছিলেন। টাকা খরচ করে ট্রেড লাইসেন্সও নেন। কিন্তু কমলা গাড়িটিতে এখন তাঁর এক আত্মীয় পরিবার নিয়ে থাকেন। বললেন, ‘যেদিন গাড়ি দিয়া গেছে, ওই দিন থেইকাই বন্ধ। পুলিশ এই গাড়ি রাস্তায় নামাইতে দেয় না।’ তবে শাহবাগ এলাকাতেই খোলা একটি গাড়িতে পিঠা বিক্রি করছেন তিনি।  আরেক ব্যবসায়ী মো. আনোয়ারও বললেন, ‘পুলিশ কমলা দোকান চায় না। অন্য দোকান নিয়া বইলে অতো ঝামেলা করে না।’ তিনিও একটি খাবার গাড়ি বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এখন ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানে চা-কফি বিক্রি করেন।

শাহবাগ এলাকায় তিনটি কমলা গাড়ি চালু অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনটিই চারদিকে পুরোনো কাপড়-চট দিয়ে ঢাকা। বিক্রেতাদের একজন মো. ইসলাম বলেন, ইচ্ছা করেই এভাবে ঢেকে রেখেছেন, যাতে কমলা গাড়ি হিসেবে চট করে পুলিশের চোখে না পড়ে। তিনি বলেন, খোলা দোকান নিয়ে অত ভোগান্তি ছিল না। ডিএসসিসি থেকে গাড়ি দেওয়ার পর সমস্যা বেড়েছে। পুলিশ এখন কাউকেই বসতে দেয় না।

শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পুলিশ ডিএসসিসির গাড়ি বসতে দিচ্ছে না, এই অভিযোগ ঠিক নয়। শাহবাগ খুব স্পর্শকাতর জায়গা। এখানে দোকান বসতে দিলে লোকসমাগম বাড়বে। নিরাপত্তাঝুঁকিও বাড়বে। তাই শাহবাগ থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি পর্যন্ত কোনো হকার-দোকানিকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ খোলা দোকানগুলো কী করে বসছে, জানতে চাইলে আবু বকর বলেন, কোনো দোকানই নিয়মিত বসছে না। উচ্ছেদ কার্যক্রমে একটু বিরতি পড়লে তারা এসে বসে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অনেকবার পুলিশের সঙ্গে বসেছি। তারা নিরাপত্তার কারণ দেখানোয় এটা নিয়ে চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের অন্য কোথাও জায়গা করে দেওয়ার আলোচনা চলছে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 157 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ