নির্বাহী বিভাগও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করুক

Print

মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়ে চলছে বহু আলোচনা এবং সমালোচনা। পাশাপাশি স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা বড় ধরনের অপরাধ নিয়ে কাজ করেন না। তারা ছোট খাটো অপরাধগুলো নিয়েই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কাজ করেন। কোথাও মেলার নামে অশ্লীল যাত্রা চলছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হানা। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সেসব অশ্লীল যাত্রাপালা। অশ্লীলতা থেকে মুক্তি পায় সমাজ। কোথাও জুয়ার আসর বসে নিয়মিত। একদিন সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। নেতৃত্বে দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। শাস্তি দেন জুয়াড়িদের। তারপর থেকে সেখানে আর জুয়ার আসর বসে না। কোথাও মাদকের আসর বসায় বখাটেরা। খবর যায় নির্বাহী বিভাগের কানে। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেদিন থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মাদকের আসরও। মাদকাসক্তরা শাস্তি পায়। অন্যরা নতুন আস্তানা খুজে মাদকের আসর বসাতে। কলেজগুলোর সামনে বখাটের উৎপাৎ নেহায়েত কম নয়। এইসব নিয়ে বিচার বিভাগ হয়তো মাথা ঘামায় না। কিন্তু, নির্বাহী বিভাগ ঠিকই মাথা ঘামায়। স্কুল, কলেজ, মাদরাসার সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে বখাটেদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটেরা। গ্রামে যখন বাল্যবিয়ে হয়। গ্রামের সচেতন মানুষেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেই সে তথ্য জানায়। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যাবস্থা নেন। তাও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। বন্ধ হয়ে যায় বাল্যবিয়ে। শাস্তি পান অনৈতিকভাবে এই বিয়ের আয়োজনকারীরা। অনৈতিকভাবে অসৎ ব্যাবসায়ীরা যখন দ্রব্য মুল্যের দাম বৃদ্ধি করেন। তখন পুলিশ প্রশাসন কিংবা বিচার বিভাগ কেউই সোচ্ছার হন না। সোচ্ছার হন নির্বাহী বিভাগ। অসাধু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা নেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। দোকানে যখন মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া খাবার বিক্রি হয়। ফার্মেসীতে যখন মেয়াদবিহীন ঔষধ বিক্রি হয়। তখন সবাই চুপ থাকলেও সক্রিয় থাকে নির্বাহী বিভাগ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা মেয়াদবিহীন সেসব পণ্য কিংবা ঔষধ বাজেয়াপ্ত করেন। কিন্তু, আগামীকাল যদি কোন বাল্যবিয়ে হয়, ইউএনও জানতে পারবেন বটে। ব্যাবস্থা নিতে পারবেন না। কারন, সে এখতিয়ার তার নেই। স্কুল কলেজের সামনে বখাটেদের আনাগোনাও থাকবে, বখাটেরা মাদক কিংবা জুয়ার আসরও বসাবে। মেলায় অশ্লীল যাত্রাপালাও চলবে। ফার্মেসীগুলোতে মেয়াদবিহীন ঔষধ যেমন থাকবে। তেমন করেই খাবারের দোকানগুলোতেও মেয়াদবিহীন খাবারও থাকবে। নির্বাহী বিভাগের কাছে কেউ কেউ অভিযোগ করবেন বটে। কিন্তু, সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ কোন ব্যাবস্থায় নিতে পারবেন না শুধু। কারণ, তখন আর নির্বাহী বিভাগের এইসব নিয়ে কাজ করার এখতিয়ার নেই। এখতিয়ার শুধু বিচার বিভাগের। কিন্তু, সাধারণ মানুষ বিচার বিভাগের প্রতি ততটা আস্থাশীল হতে পারেনি, যতটা আস্থাশীল হতে পেরেছে নির্বাহী বিভাগের উপর। আবার এইটাও সত্য যে, বিচার সংক্রান্ত কাজগুলো বিচার বিভাগের কাছেই থাকা উচিৎ। বর্তমানে বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ আলাদা। সুতরাং, ভ্রাম্যমাণ আদালত আবশ্যিকভাবে বিচার বিভাগের অধীণেই থাকা উচিৎ। কিন্তু, বিচার বিভাগের সে জনবল কই? বিচার বিভাগ তো আদালতের মামলাগুলোও সামলাতে পারছে না। এরপর আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে কখন? ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার এখতিয়ার শুধুই বিচার বিভাগের। তাদের কাছে একদিন না একদিন তো হস্তান্তর করতেই হবে। কিন্তু, সেইটা এখন না হয়ে যখন বিচার বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল তৈরী হবে। তখন হলেই নিশ্চয় ভালো হতো। তার আগে পর্যন্ত বিচার বিভাগের পাশাপাশি ছোটখাটো অপরাধগুলোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার এখতিয়ার নির্বাহী বিভাগের উপরও অর্পিত থাকুক। যখন বিচার বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল তৈরী হবে। তখন নির্বাহী বিভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার এখতিয়ার তুলে নেয়া হোক। নয়তো, এই দেশের মানুষের জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সাধারণ মানুষ সবসময় আদালতে যাবে না। অপরাধীর হুমকি কিংবা হয়রানির ভয়ে এখনো অহরহ মানুষ আদালতে বিচারের দাবি তুলে না। তখন এই সংখ্যা আরো বাড়বে। আর বিচার বিভাগ কখনো কখনো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও, সেটা আশানুরূপ হবে না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 129 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ