নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দার্জিলিং পরিস্থিতি

Print

ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার পরিস্থিতি। ভাষা নিয়ে বিরোধের জেরে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অশান্তির আগুনে জ্বলছে কয়েকদিন ধরে। শনিবার গোলাগুলি ও কুকরির আঘাতে রক্তাক্ত হল দার্জিলিং। এদিন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থকরা কুকরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন কিরণ তামাং নামে পুলিশের রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্টকে। অন্যদিকে দার্জিলিংয়ের সিংমারি এলাকায় সেন্ট জোসেফ কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে মোর্চার চার কর্মী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। নিহতরা হলেন- সুনীল রাই, মহেশ গুরুং, বিমল শাসনকর ও অনিল রাই। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার জেরে দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি ডুয়ার্স এলাকায় রোববার আধা বেলার হরতাল ডেকেছে মোর্চা।
সকাল থেকেই একটু একটু করে উত্তাপ বাড়তে থাকে পাহাড়ে। একটা সময় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মোর্চা ও পুলিশের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে। কয়েক হাজার মোর্চা সমর্থক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করতে গিয়েও পিছিয়ে যায় পুলিশ। এরপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের হঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিশাল জনতাকে তাতেও থামানো যায়নি। আটটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অশান্তি ছড়ায় সিংমারি এলাকায়। সেন্ট জোসেফ কলেজের সামনে গুলিতে চার মোর্চা কর্মী নিহত হয়। আরও তিন মোর্চা সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন। যদিও গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেনি পুলিশ। উল্টো মোর্চা সমর্থকরাই গুলি চালিয়েছে বলে দাবি পুলিশের এডিজি অনুজ শর্মার। এদিকে সিংমারি পুলিশ ক্যাম্পের কাছে কিরণকে কুকরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে মোর্চার বিক্ষোভকারীরা। কিরণ মারা গেছেন বলে প্রথমে সরকারিভাবে ঘোষণা হলেও পরে জানানো হয় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

সকাল থেকে অগ্নিগর্ভ হয়ে থাকা সিংমারিতে মোর্চা-পুলিশ সংঘর্ষ থামে দুপুরে সেনাবাহিনী নামার পর। রুটমার্চ করে কাউকে ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করে দেয় সেনাবাহিনী। সংঘর্ষ থামলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি থমথমে। মোর্চার পক্ষ থেকে গুলিতে মৃত্যু ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘোষণা, মোর্চা এ ধরনের তাণ্ডব চালালে সরকার কড়া হাতেই তার মোকাবেলা করবে। মোর্চা সমর্থক নিহত হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, চারজন নিহত হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মমতা অভিযোগ করে বলেন, দার্জিলিংয়ে মোর্চার সঙ্গে জঙ্গিরা যোগ দিয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিরা পাহাড়ে অশান্তি তৈরিতে মদদ দিচ্ছে। অস্ত্র ও অর্থ দুটোই দিচ্ছে তারা। মোর্চার মিছিল থেকে কলকাতার ১১ সাংবাদিককে অপহরণ করা হয় বলেও অভিযোগ আনেন মমতা। যদিও পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছে। এ পরিস্থিতিতে ২২ জুন বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার মোর্চা প্রধান বিমল গুরুংয়ের অফিসে আচমকা পুলিশি তল্লাশির পর পাহাড়ের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এরপর শুক্রবার মধ্যরাতে মোর্চা নেতা বিক্রম রাইকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেন্ট জোসেফ কলেজের অধ্যাপক বিক্রম মোর্চার গণমাধ্যম উপদেষ্টা। তার বাবা অমর রাই দার্জিলিংয়ের মোর্চা বিধায়ক। বিক্রমকে আটক করার পাশাপাশি শুক্রবার রাতেই পুলিশ তল্লাশি চালায় বিমলের ঘনিষ্ঠ বিনয়ের বাড়িতে। বিনয়ের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে তার বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর চালিয়েছেন কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দার্জিলিং।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 95 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ