নিয়োগে সুপারিশ না করায় ছাত্রলীগের ইন্ধনে জাবির হলে তালা!

Print

সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল সম্প্রসারিত ভবনের অফিস কক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক কক্ষ তালা দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে রয়েছে হলের মেস স্টুয়ার্ড পদে ছাত্রলীগের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে প্রভোস্টের সুপারিশ না করা।
সাংবাদিকদের কাছে হল প্রশাসনের অভিযোগ এমনটাই। তবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে হল প্রশাসন তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রলীগের ওপর দায় চাপিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও রাস্তা সংস্কার, আসবাব সংকট নিরসন, সাপ-উইপোকা-ছারপোকা দমনসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হলটির অফিস কক্ষ ও সন্ধ্যায় আবাসিক শিক্ষক কক্ষে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের আলোচনার আশ্বাসে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালাগুলো খুলে দেয় শিক্ষার্থীরা। হল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের দাবিকৃত সমস্যাগুলোর সত্যতা মিলেছে।
হল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে আল-বেরুনী হল সম্প্রসারিত ভবনে মেস স্টুয়ার্ড পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়। এতে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে সুপারিশের জন্য হল প্রভোস্ট অধ্যাপক এ কে এম জসীম উদ্দীনকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন হলটির ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কিন্তু গত সোমবার মো. আরিফ নামের হলের এক কর্মচারীকে ওই পদে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি একই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে হলের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে হল প্রশাসনের অভিযোগ।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলটির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেনের (দর্শন, ৩৯ তম আবর্তন) নেতৃত্বে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান প্রধান (প্রত্নতত্ত্ব, ৪১ তম আবর্তন), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রচি (ভূগোল ও পরিবেশ, ৪১ তম আবর্তন), সাংগঠনিক সম্পাদক শেফাউল ইসলাম (নৃবিজ্ঞান, ৪১ তম আবর্তন) ও আরিফুল আলম (আইআইটি, ৪২ তম আবর্তন) শিক্ষার্থীদের তালা লাগাতে উদ্বুব্ধ করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদেরকে তৎপর ভূমিকায় দেখা গেছে।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আল-বেরুনী হল সম্প্রসারিত ভবন অবহেলিত একটি হল। ন্যূনতম আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলটির শিক্ষার্থীরা। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রভোস্ট ছাত্রলীগের ওপর দায় চাপাচ্ছে।’
হলটির প্রভোস্ট এ কে এম জসীম উদ্দীন বলেন, ‘নিয়োগ দেওয়া না দেওয়া সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখতিয়ার। আমি তো কাউকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে দিতে পারি না।’
হলের সমস্যার ব্যাপারে প্রভোস্ট বলেন, ‘হলটিতে নানা সমস্যা রয়েছে আমি স্বীকার করি। কয়েকটি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আরও কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘হলটিতে নানা সংকটের কথা শুনেছি। তবে তালা লাগানোর ঘটনায় ছাত্রলীগের ইন্ধন ছিল কিনা সে ব্যাপারে আমি অবগত নই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 102 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ