নেতৃত্ব লড়াইয়ের মতবিরোধের রেশ চরমভাবে পড়েছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায়

Print
তাবলীগে নেতৃত্বের লড়াই
নেতৃত্ব লড়াইয়ের মতবিরোধের রেশ চরমভাবে পড়েছে টঙ্গীর ৫২তম বিশ্ব ইজতেমায়।

তাবলীগ জামায়াতের নেতৃত্ব বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবার ভারতের তাবলীগের অনেক প্রবীণ অতিথি এবং অতীতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই কাওমী আলেমদের বড় একটি অংশও বিশ্ব ইজতেমায় আসছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হযরত ইলিয়াস ভারতের মেওয়াত অঞ্চলে ১৯২০ সালে তাবলীগের সূচনা করেন। ১৯৪৪ সালের ১২ জুলাই তিনি মারা যাওয়ার পর তার পুত্র ইউসুফ কান্ধলবি তাবলীগের আমীর নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে তার মৃত্যুর পর তাবলীগের আমির হন মাওলানা এনামুল হাসান। ১৯৯৫ সালে এনামুল হাসান মারা যাওয়ার পর একক আমীর নির্বাচনের প্রথা থেকে সরে আসে তাবলীগ জামায়াত। পরে মাওলানা এজাহার, মাওলানা যোবায়েরুল হাসান ও মাওলানা সা’দ কান্ধলবিকে নিয়ে তিন সদস্যের শুরা পদ্ধতির তাবলীগ জামায়াত পরিচালিত হতে থাকে।

তাবলীগ সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৪ সালের মার্চে মাওলানা যোবায়েরুল হাসান মারা যাওয়ার পর থেকেই তাবলীগে মতবিরোধ দেখা দেয়। তিন সদস্যের ওই শুরা কমিটির একমাত্র জীবিত সদস্য মাওলানা সা’দ কান্ধলবি তাবলীগের একক আমীর হওয়ার চেষ্টা করলে দারুল উলুম দেওবন্দ, আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়, সাহরানপুর মাজাহিরুল উলুম মাদরাসাসহ ভারত-পাকিস্তানের তাবলীগের প্রবীণরা এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তী সময়ে ১০ সদস্যের একটি শুরা কমিটির খসড়া করা হলেও মাওলানা সা’দ তা মেনে নেননি। আর শুরা পদ্ধতি মেনে না নিয়ে একক নেতৃত্ব গ্রহণ করায় দেওবন্দ মাদরাসার তাবলীগের প্রবীণরা দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকায ত্যাগ করেন, মাওলানা সা’দকে বয়কট করে দেওবন্দ মাদরাসার ওয়েবসাইটে বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়।

এর আগে নেতৃত্ব নিয়ে তাবলীগের একটি গৃহবিবাদে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিওচিত্র ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। এবার এর রেশ পড়েছে বাংলাদেশের ইজতেমায়ও।

ইজতেমার আগে নেতৃত্ব বাচাইয়ের চরম মুহূর্তে গত ২৫ অক্টোবর মাওলানা আহমদ শফী এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাকরাইল মারকাযকে চিঠি পাঠান। তাতে কাকরাইলের শুরাদের প্রতি বলা হয় যে, মাওলানা সা’দ শুরা মেনে না নিলে ও তাবলীগের প্রবীণদের আস্থাভাজন না হলে তাকে টঙ্গির ইজতেমায় ‘দাওয়াত দেয়া থেকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিরত থাকবেন’। এছাড়াও মাহমুদুল হাসান, মুফতি মিজানসহ তাবলীগ সংশ্লিষ্ট দেশের ৪০ জন শীর্ষ আলেমের নেতৃত্বের বিষয়টি মীমাংসিত না হওয়ার আগে মাওলানা সা’দকে ইজতেমায় অতিথি না করার দাবি জানান। পাশাপাশি মাওলানা সা’দকে অতিথি করা হলে ইজতেমা বর্জনের কথা জানায় দেওবন্দের অনুসারী দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলো। এ নিয়ে বাংলাদেশের তাবলীগের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পরিষদ কাকরাইলের ১৪ জন শুরা সদস্যও দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে যান।

বাংলাদেশের তাবলীগের একজন শীর্ষ আলেম নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরাবরের মতোই এবারও তাবলীগের আমির মাওলানা সা’দ ও বিশ্ব তাবলীগের প্রবীণদের অতিথি করা হয়েছিল ইজতেমায়। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর ভারতের তাবলীগের প্রবীণরা জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাওলানা সা’দ একক নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে শুরা পদ্ধতি মেনে না নিয়ে টঙ্গিতে আসলে তারা আসবেন না।

এদিকে নানা জটিলতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মাওলানা সা’দ। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১.৪০ মিনিটে জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় আসার কথা ছিল তার। তাবলীগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, ভারতের তাবলীগের আপত্তির কারণেই তাকে প্রথমে আসতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে তাবলীগ সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা সা’দ ইজতেমায় আসায় মওলানা আহমদ লাট, ভাই মহসীনসহ ভারতের অনেক শীর্ষ আলেম এবার ইজতেমায় আসছেন না। এর মধ্যে মাওলানা আহমদ লাট প্রতি ইজতেমায় শুক্র, শনি ও রোববার টঙ্গীর তুরাগ তীরে মাগরিবের পর বক্তৃতা করে থাকেন।এবার তা সাদেরর ঘনিষ্ঠজনরা করবে বলেই জানা গেছে। তুরাগ নদীর তীরে এবার তাবলীগের একাংশের আলেমদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে তাবলীগ জামায়াতের শীর্ষ মুরব্বিদের মন্তব্য জানতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 109 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ