নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী আফসানাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

Print
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী আফসানাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
বিছানার সঙ্গে লেপ্টে রয়েছে কঙ্কালসার দেহটি, নাকে নল লাগানো। এই নল দিয়ে ওষুধ এবং খাবার খাওয়ানো হয়। বিগত ১৭ মাস ধরে অচেতন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পড়ে আছে দেহটি। তবে আইসিইউর মনিটর জানান দিচ্ছে ‘এখনো প্রাণ আছে মেয়েটির।’
মেয়েটির নাম রিহাম আফসানা। স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে চামেলি নামেই ডাকে। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নোয়াখালীর কবিরহাটে সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে বাস ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই দুর্ঘটনায় মারা যান আফসানার চাচাতো বোন সায়মা আফনান, আর কোন রকম প্রাণ নিয়ে এখনো বেঁচে আছে আফসানা। মেধাবী ছাত্রী আফসানা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিও ৫.০০ পেয়েও পরিবারের ইচ্ছায় নোয়াখালী কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে গণিত বিভাগে ভর্তি হয়। স্নাতক প্রথম বর্ষ পরীক্ষায়ও আফসানা প্রথম শ্রেণি নিয়েই দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় মারাত্মক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে থুতনি, দাঁত, বাম হাত এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় ১৬ মাস অচেতন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দে (আইসিইউ) পড়ে ছিল আফসানা। বিগত কিছুদিন আগে তার জ্ঞান ফিরে, এখন সামান্য সামান্য হাত পাও নাড়তে পারে। ডাক্তাররা তাই কিছুটা আশার বাণীও শোনাচ্ছেন আফসানার বাবা মাকে, আরো দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকলে আফসানা হয়তো এক সময় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও যেতে পারে। আর তাই আশায় বুক বেঁধে মেয়ের সঙ্গে বাবা-মাও রাতদিন হাসপাতালেই পড়ে আছে। আদরের মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়সম্বল সব বিক্রি করে এখন প্রায় নিঃস্ব আফসানার বাবা মিজানুর রহমান। তাঁর তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে আফসানা তৃতীয়। আফসানাদের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাশে।
আফসানার বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত আমার ২১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দোকান ও জমি বিক্রি করে পেয়েছিলাম ৯ লাখ টাকা। কিছু জমানো টাকা ছিল। বাকিটা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সাহায্য আর ধারদেনা করে জোগাড় করি। প্রতিদিন দেড় হাজার টাকার মত করে খরচ হচ্ছে। কীভাবে মেয়েকে বাঁচাব জানি না।’ বলতে বলতে গলার স্বর থেমে যায় মিজানুর রহমানের, কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যায় তাদের পুরো পরিবারটি। স্নাতকে পড়া আফসানার একমাত্র ভাই ইফতেখারের পড়ালেখাও এখন বন্ধ হওয়ার পথে। ছোট বোনের এস.এস.সি পরীক্ষা চলছে, মা-বাবার অনুপস্থিতিতে কোন গতি না পেয়ে সে নানার বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। কিন্তু মন পড়ে থাকে হাসপাতালে। প্রায়ই ফোনে খোঁজ নেয় বোনের।
আফসানার মা জিন্নাতুননেছা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আমার বুকের ধন, আমার কলিজা রিহামের (আফসানার ডাকনাম) কোন হুঁশ ছিলনা, কেবল মেশিনের মাধ্যমে বোঝা যেত মেয়ের প্রাণ এখনো আছে। মাত্র কয়েকদিন আগে থেকে তার হুঁশ ফিরে, আমাদের দিকে অসহায়ভাবে একটু একটু তাকায়। আশায় বুক বেঁধে আছি মেয়ে একদিন ভালো হবে। তাই ঘর-সংসার ফেলে এই হাসপাতালেই রাতদিন পড়ে আছি।’ মেয়ে কোনো একদিন ‘আব্বু-আম্মু’ বলে ডেকে উঠবে এই আশায় মিজানুর দম্পতি কিছুক্ষণ পর পর মেয়ের কানের কাছে গিয়ে ‘চামেলি মা চামেলি মা’ বলে ডাকেন। হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক প্রণয় দত্ত বলেন, নিকট অতীতে চমেক হাসপাতালে এত দিন আইসিইউতে কোনো রোগী ছিল বলে চিকিৎসকদেরও মনে পড়ে না। তবে সাম্প্রতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে গেলে আফসানা একসময় হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবে।
আফসানার বাবা তার মেয়েকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সবার একটু একটু সহযোগিতায় আফসানা হয়তো আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। তাই একজন মানুষকে বাঁচানোর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবাই যার যার সাধ্য অনুযায়ী ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ টাকা যা পারেন আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে নোয়াখালী কলেজের মেধাবী ছাত্রী আফসানাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। নিচে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য আফসানার বাবার সাথে যোগাযোগের নাম্বার, বিকাশ নাম্বার এবং ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দেওয়া হল।
যোগাযোগ করতে পারেন : ০১৮৩৩৫৭৭২৫৪ (আফসানার বাবা)
বিকাশ করতে পারেন : ০১৮৩৩৫৭৭২৫৪
ব্যাংক একাউন্ট : মো: মিজানুর রহমান,
একাউন্ট নাম্বার : ১৬৬১১০৮৬০৫ , ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, বসুর হাট ব্রাঞ্চ, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
যারা আর্থিক সহযোগিতা করতে চান তারা বিকাশ কিংবা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন। তবে টাকা পাঠানোর পূর্বে আফসানার বাবার সাথে ফোনে কথা বলে নিতে পারেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 330 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ