নৌকাতে রান্না নৌকাতেই ঘুম

Print

বানের পানিতে বাড়ি-ঘর ডুইবা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রেও থাকার জায়গা পাই নাই, কোনঠে যামু? তাই নাও ভাড়া নিয়া এহেনেই ছওয়াল-পাল নিয়া কুনমতে বাঁইচা আছি। ১০/১২ দিন ধইর্যা নায়ের উপর আছি। নায়েই রান্দা, নায়েই খাওয়া, আবার নায়েই শোয়া, এভাবেই চইলত্যাছে আমগোরে জীবন।
শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের গুনেরগাঁতী বাঁধের পাশে বেঁধে রাখা নৌকার উপর থেকে কথাগুলো বললেন শীলা খাতুন ও সকিতন বেওয়া।

তারা বলেন, চরের একমাত্র উচা জায়গা আছিল এই ওয়াপদা রাস্তাটা। হেডাও অর্ধেক ডুইবা গ্যাছে। যে টুক্কা রাস্তা জাইগ্যা আছে তার উপর কিছু জিনিসপত্র আর গরু-ছাগল বাইন্ধা রাখছি। গরুগুলানকেও খাইব্যার দিব্যার পাইরত্যাছি না। সাপ-পোকার ভয়ে রাতে ঘুম ধরে না। ছোট ছোট ছাওয়ালপাল নিয়ে দিনেও ভয়ে থাহি-কখন বানি পানির মধ্যে পইর্যা যায়। এভাবে আর কত্ দিন চইলবো আল্লায় জানে।

নৌকায় আশ্রয় নেয়া হযরত আলী, সোলামান আকন্দ ও আল আমিন আকন্দ জানান, ৮/৯ দিন ধরে যমুনার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রানীগ্রামসহ চরাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রাম পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। প্রথম দিকে এ অঞ্চলের বানভাসীরা নিজঘরে বাঁশের মাচা তৈরি করে থাকার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে বাঁশের মাচাও ডুবে যায়। অনেকে নৌকায় মালামাল তুলে নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। হতদরিদ্র মানুষগুলোর যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় একটি নৌকা ভাড়া করে ৩/৪টি পরিবার নিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন।

সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রাশিদুল হাসান রশিদ মোল্লা জানান, পানির তীব্রতা বেড়ে মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। বন্যা কবলিতরা গরু, ছাগল, হাস, মুরগী নিয়ে বাঁধে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। এই এলাকার মানুষগুলো অধিকাংশ দিনমজুর। খেত খামারে কাজ করে কোনো মতে সংসার চালায়। বাঁধের উপর ঝুপরি বানিয়ে গরু ছাগল নিয়ে তারা একসঙ্গে থাকছে। বন্যা কবলিতদের জন্য যে ত্রাণ পেয়েছি তা ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ত্রাণ পেলে বাকিদেরকেও দেয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 189 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ