পরের জমিতে স্টেডিয়াম, শিশুপার্ক, সড়ক নির্মাণ

Print

স্টেডিয়াম, শিশু পার্ক, সড়ক নির্মাণ ও লেক সংস্কারের নামে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহেন শাহর বিরুদ্ধে। প্রশাসন বা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই এই কাজ করছেন তিনি। মেয়র বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ের আবেদন করেছেন, অনুমোদন পেয়ে যাবেন।
মেয়রের জোরজবরদস্তিমূলক তৎপরতার কারণে কৃষি জমি হারিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই নির্মাণ কাজ চলায় আশেপাশের জমির বোরো চাষও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার বিপরীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে কালিকাপুর ও বানিয়ানিরচর গ্রাম। গ্রামবাসীরা বংশ পরম্পরায় এসব জমি জমি ভোগ করে আসছিল। ওই আবাদি জমিতে এক্সেলেটর দিয়ে বোরো ধানের মাঠ মাড়িয়ে সড়ক নামে দেয়া হচ্ছে বাঁধ। স্টেডিয়ামের নামে দখল করা জমিতে বানানো হয়েছে নতুন সড়ক, লাগানো হয়েছে ল্যাম্পপোস্টও।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কথিত স্টেডিয়াম, শিশু পার্ক, সড়ক নির্মাণ ও লেক সংস্কারের কথা বলে সম্প্রতি কাজ শুরু করেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র। মেয়রের মৌখিক নির্দেশে পৌর কর্মচারীরা লাল নিশান টাঙ্গিয়ে বন্ধ করে দেয় দুই গ্রামের শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৫০ বিঘা জমির চাষাবাদ। আবার যেসব কৃষক বোরো ধান চাষ করেছে সেই জমিতে সড়কের নামে দেয়া হচ্ছে বাঁধ।

এসব জমির কাগজপত্র সবই রয়েছে কৃষকদের। তাদের জমিতে নির্মাণ কাজ শুরুর আগে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই চাষ বন্ধ করে দেয়ায় কোনো ক্ষতিপূরণ আদৌ পাবেন কি না এ নিয়েও সংশয়ে কৃষকরা। তবে মেয়রের ভয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারছেন না তারা।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আপনি সরেজমিনে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছে। কাজগুলো নিয়মের মধ্যে রয়েছে কি না আপনি ভাল বুঝেন। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।’

এই পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী অপু বলেন, ‘পৌর মেয়র নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে কাজ করছেন। এতে নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পৌরসভার অর্থ লোটপাট হচ্ছে। এবিয়য়ে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এসব দুর্নীতির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
জানতে চাইলে পৌর মেয়র শাহনেয়াজ শাহান শাহ বলেন, মাস্টার প্লান বাস্তবায়নের সব নিয়ম মেনে কাজ শুরু করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়াম নির্মাণের একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ অনুমোদনের আগেই এই কাজ করা যায় কি না-জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দুর্ব্যবহার করেন।
জানতে চাইলে জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘সরকারি কোন অবকাঠামো তৈরি করতে হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে। পৌর মেয়র এসব নিয়ম উপেক্ষা করে কাজ করায় তা বন্ধে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত এসব কর্মকা- বন্ধ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 110 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ