পাঁচ তারকার প্রথম প্রেম

Print

সবার জীবনে প্রেম আসে, তবে সব প্রেম হয়তো পরিণতির দিকে গড়ায় না। কিন্তু প্রথম প্রেমের আবেগ আর ভালোবাসার কথা ভোলা যায় না কখনো। তা তিনি সাধারণ মানুষ হন কিংবা সেলিব্রেটি। তারকাদের প্রথম প্রেমের অভিজ্ঞতা কেমন? তারা পড়েছেন, নাকি কেউ তাদের প্রেমে পড়েছেন? তা অকপটে বলেছেন আমাদের বিনোদন জগতের পাঁচ তারকা।

মাহির কালাচান

আমি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের পাড়ায় একটি ছেলে ছিল, দেখতে কালো। আমার পেছনে ঘুরঘুর করত। আড়ালে তাকে ‘কালাচাঁন’ বলে ডাকতাম। একদিন স্কুলমাঠে বান্ধবীরা মিলে খেলছি। হঠাৎ একটি ছেলে এসে কাগজ ধরিয়ে দিল আমার হাতে। খুলে দেখি, চিঠি। কার চিঠি? তখন চিন্তা করার সময় ছিল না। কারণ মা দেখলে খবর আছে! ভয়ে তাড়াতাড়ি ক্লাসরুমে চলে গেলাম। স্কুলব্যাগে ফোমের তৈরি পুতুল ছিল। পুতুলের পেট কেটে লুকিয়ে রাখলাম চিঠিটা। এরপর সুযোগ করে বান্ধবীরা মিলে খুলে দেখি কি, রক্ত দিয়ে লেখা চিঠি। ওই সেই কালাচানের লেখা। চিঠিটা পেয়ে আমরা বান্ধবীরা সবাই মজা করলাম। যুক্তি করলাম, রক্ত দিয়ে লিখে উত্তর দিতে হবে চিঠির। কিন্তু আমি তো রক্ত দেখলেই অজ্ঞান হয়ে যাই! তাহলে কী হবে এখন! সিদ্ধান্ত হলো সাত বান্ধবী মিলেই হাত কেটে রক্ত বের করব। পরে সবাই অল্প অল্প করে হাতের আঙুল কেটে রক্ত বের করে তা দিয়ে সেই চিঠির উত্তর দিয়েছিলাম।

ক্রিকেটে ইরেশ

প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম ১৯৮৩ সালে। সেবার টিভিতে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখি। তারপরই ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে যাই। সেই প্রেম এখনো চলছে। আর এভাবেই চলতে থাকবে যত দিন বেঁচে থাকব। তাই সবকিছু ছাপিয়ে আমার প্রথম প্রেম ক্রিকেটের সঙ্গে।
অপর্ণার প্রিয় শিক্ষক

আমি তখন রাঙামাটি গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ওই স্কুলের এক শিক্ষকের প্রেমে পড়েছিলাম। সবে স্যার স্কুলে যোগ দিয়েছেন। স্যার ছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। আমি ছিলাম মানবিক বিভাগের ছাত্রী। তিনি আমাদের সাধারণ বিজ্ঞান পড়াতেন। তখনো আমাদের ক্লাস নেওয়া শুরু করেননি তিনি। একদিন আমরা ক্লাসে হইচই করছিলাম। পাশের রুমেই স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন। হইচই শুনে আমাদের ক্লাসে এলেন। তিনি জানালেন স্কুলে নতুন এসেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে আমাদের সঙ্গে তার পরিচয় হবে। ওই দিনই স্যারের কথা বলার ভঙ্গি, উপস্থাপন, ব্যক্তিত্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বলা যায়, প্রথম দেখায় প্রেম। এর কয়েক দিন পর আমাদের সাধারণ বিজ্ঞান ক্লাস নেওয়া শুরু করলেন। স্যার জটিল বিষয়গুলো এত সহজ করে পড়াতেন, খুবই ভালো লাগত স্যারের ক্লাস। তত দিনে আমি স্যারের প্রেমে মশগুল! পড়ানোর সময় স্যারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এভাবে এক বছর পার হয়ে গেল। আমিও স্যারের প্রিয় ছাত্রী হয়ে উঠেছি। স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতাম আমি। বিষয়গুলো স্যারও পছন্দ করতেন।
একসময় স্কুল পেরিয়ে চট্টগ্রামে এসে কলেজে ভর্তি হলাম। এরপরও তিন-চারবার স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কিন্তু স্যারের প্রতি আমার ভালোবাসা, ভালো লাগার কথা বলা হয়নি কখনোই। এখন সেই স্যার কোথায় আছেন আমার জানা নেই।
বাপ্পীর না বলা কথা

তখন আমি নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমাদের সঙ্গে পড়ত এমন একটি মেয়েকে ভালো লাগত আমার। প্রতিদিনই ক্লাসে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্যর্থ হতাম। মেয়েটি সব সময়ই চুপচাপ থাকত। একদিন সাহস করে মেয়েটির মুখোমুখি হলাম। বললাম, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে। মেয়েটি বলল, ‘বলো।’ বললাম, সবার সামনে বলা যাবে না। কিন্তু মেয়েটি আমার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকল। আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি কেটে পড়লাম। একই পাড়ায় ছিল দুজনের বাসা। একঝলক দেখার আশায় বিকেল হলেই মেয়েটির বাসার সামনে গিয়ে বন্ধুরা মিলে খেলতাম, বসে থাকতাম। একসময় কলেজের পাট চুকিয়ে ঢাকায় চলে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মেয়েটিও মন থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। এরপর আর কখনো দেখা হয়নি ওর সঙ্গে।

ঈশানার বন্ধু
আমার ভাইয়ের বন্ধু প্রথম আমাকে প্রপোজ করে। তখন আমি অনেক ছোট, স্কুলে পড়তাম। দুই বছর সে আমার পেছনে ঘুরেছে। পরে অবশ্য আমরা বন্ধু হয়ে যাই। এখনো আমরা ভালো বন্ধু।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 201 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ