পাঁচ মিনিটে বোঝা যাবে তরমুজে কৃত্রিম রং

Print

 পাঁচ মিনিটে বোঝা যাবে তরমুজে কৃত্রিম রং

 

বাজারে উঠেছে তরমুজ। তবে তাতে কৃত্রিম রং দেওয়া হয়েছে কি না—এই দ্বিধায় ক্রেতাকে সব সময়ই পড়তে হয়। এখন থেকে ঘরে বসেই এই অস্বস্তি কাটানো যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একটি গবেষক দল বের করেছেন এই পদ্ধতি।
এতে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে জানা যাবে তরমুজে কোনো ক্ষতিকর কৃত্রিম রং আছে কি না। এই পরীক্ষা হবে কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ছাড়া। রসায়ন বিভাগের চেয়ারপারসন নীলুফার নাহারের তত্ত্বাবধানে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানহাউল ইসলাম ও আহসান হাবীব খন্দকার। এই দুই শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক পরীক্ষা দিয়েছেন।
অধ্যাপক নীলুফার নাহার প্রথম আলোকে বলেন, তরমুজ খেয়ে শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পড়ে এবং ইউটিউবে ভিডিওতে তরমুজের ভেতরে সিরিঞ্জ দিয়ে কৃত্রিম রং ঢোকানোর দৃশ্য দেখে একটা কিছু করার ভাবনা শুরু হয় তাঁর মাথায়। তা ছাড়া দেশে খাদ্যের কৃত্রিম রং হিসেবে ‘রেড-৪০’ ব্যবহার করা হয়। এ রংগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
রং শনাক্তের পদ্ধতি
গবেষকদের একজন তানহাউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাজার থেকে কেনা তরমুজের একটা ছোট ফালি কেটে নিতে হবে। এরপর এটিকে চিপে রস (তরমুজ জুস) ছেঁকে নিতে হবে। রসকে টেফলন টিউব (একধরনের টেস্টটিউব) অথবা বাসাবাড়ির যেকোনো স্বচ্ছ গ্লাস বা লম্বা পাত্রে নিতে হবে। এতে যতটুকু পরিমাণে তরমুজের রস নেওয়া হবে, ততটুকু পরিমাণে নারকেল তেল দিতে হবে। এরপর দ্রবণটিকে এক মিনিট ঝাঁকিয়ে রেখে দিতে হবে।
পাঁচ মিনিট এভাবে রেখে দিলে পাত্রের দ্রবণের নিচের স্তর যদি পানির মতো সাদা হয়ে ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে তরমুজে কোনো কৃত্রিম রং নেই। তরমুজে কৃত্রিম রং থাকলে নিচের স্তরের পানির রং লাল বা গোলাপি হয়ে যাবে। কারণ, কৃত্রিম রং তরমুজের পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
এই পরীক্ষার পেছনের বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক নীলুফার নাহার বলেন, তরমুজের একটা প্রাকৃতিক রং (লাইকোপিন) রয়েছে। এটা জৈব যৌগ, যা তেলের (জৈব দ্রাবক) সঙ্গে দ্রবীভূত হয়ে টিউবের ওপর হলুদ রং হয়ে ভাসে। আর বাকি তরমুজের পানি (অজৈব দ্রাবক) নিচের স্তরে পড়ে থাকে। কৃত্রিম রংগুলো অজৈব যৌগ। তাই কৃত্রিম রং তরমুজের লাইকোপিনের সঙ্গে দ্রবীভূত না হয়ে নিচের স্তরেই থেকে যায়।
এই গবেষণার কাজের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব এবং প্রভাষক মো. কামরুল হাসান। মো. কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কাজ বাংলাদেশে এই প্রথম।
২০১৬ সালের এপ্রিলে এই গবেষণা শুরু হয়। গবেষণার পদ্ধতি ঠিক করার আগেই তরমুজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাটি নিয়ে ভাবতে থাকেন গবেষকেরা। পরে এ বছরের মার্চ মাসে বাজারে তরমুজ আসামাত্র আবার তাঁরা গবেষণা শুরু করেন।
গবেষক দলের দুই তরুণ শিক্ষার্থী তানহাউল ও আহসান বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৪০টি তরমুজের নমুনা পরীক্ষা করে কোনোটিতে কৃত্রিম রঙের উপস্থিতি পাননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 143 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ