পাবনায় ২৮ সিনেমা হলের ২১টিই বন্ধ

Print
Text_2

পাবনার চালু থাকা সিনেমা হলগুলোতেও এখন আর আগের মতন দর্শক নেই। নেই টিকিটের জন্য দর্শকদের দীর্ঘ সারি। ২৮টি সিনেমা হলের মধ্যে ২১টিই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়টি আছে তার বেশির ভাগ থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শক।

দর্শকদের অভিযোগ, এখনকার নির্মিত বাংলা সিনেমার কাহিনি দর্শকের টানতে পারছে না। এ ছাড়া ঘরে ঘরে এখন টেলিভিশন। আছে কেবল সংযোগ। ফলে ঘরে বসেই উপভোগ করা যায় সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম ইত্যাদি।

এছাড়া সিনেমা হলের বাজে পরিবেশকেও দায়ী করছেন তারা। তাই দর্শক-খরায় প্রতিদিনই লোকসান গুনছেন হল মালিকরা। মুখ থুবড়ে পড়েছে পাবনার সিনেমা প্রদর্শনীর ব্যবসা।

মোমেন হোসাইন নামের একজন দর্শক বলেন, ‘একসময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতাম। কিন্তু এখন আর হলে যাওয়া হয় না। সিনেমা হলের পরিবেশও আগের মতো নেই।’

শিহাব শাহিন নামের আরেক দর্শক বলেন, ‘স্যাটেলাইট টেলিভিশনের কল্যাণে এখন বাড়িতে বসেই টিভিতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সিনেমা দেখা যায়। সিনেমা হলে যাওয়ার দরকারই হয় না। তা ছাড়া ভালো পরিবেশই নাই হলগুলোতে।’

অথচ একসময় পাবনা জেলায় ছিল সিনেমার জমজমাট ব্যবসা। এ শহরের অন্যতম উৎসবমুখর হল ছিল অনন্ত সিনেমা হল। কিন্তু তার পুরোনো জৌলুশ আর নেই। হলটিতে এখন আর সিনেমা প্রদর্শন করা হয় না। এটি এখন কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পাবনা জেলায় যে ৭টি সিনেমা হল চালু আছে, সেগুলোরও অবস্থা মরমর। এসব হলে বিভিন্ন সময় নতুন-পুরনো ছবি চললেও তা দর্শক টানতে পারছে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই হল ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তাদের অভিযোগ, মানসম্মত ছবি তৈরি না হওয়া এবং আকাশ সংস্কৃতির দাপটে অনেক আগেই হলবিমুখ দর্শকরা।

পাবনা সদর উপজেলায় তিনটি, ঈশ্বরদীতে দুটি, ভাঙ্গুড়ায় একটি এবং চাটমোহরে একটি মাত্র সিনেমা হল চালু রয়েছে।

পাবনা শহরের বীণা সিনেমা হলের মালিক মো. আনিস বলেন, ‘কোনো মালিকই চান না সিনেমা হল বন্ধ করে দিতে। তবে ভালো মানের ছবির সংকটের কারণে দর্শক না থাকায় বন্ধ করে দিতে হচ্ছে হলগুলো।’

শহরের অনন্ত ও রুপকথা সিনেমা হলের মালিক সোহানী হোসেন বলেন, ‘কেবল টিভিতে এখন অসংখ্য স্যাটেলাইট চ্যানেলের সুবিধা। প্রতিদিনই দেখানো দীর্ঘ ধারাবাহিক। এসব ধারাবাহিক বিনোদনের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ এখন আর হলে এসে সিনেমা দেখতে চান না।’

সিনেমা হলের মালিকরা অক্ষেপ করে জানান, ‘চালু থাকা হলগুলোতে সিনেমা চালিয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে খরচ ওঠে না। মাসের পর মাস বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিয়ে লোকসান গুনছে। এভাবে আর বেশি দিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 134 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ