পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আসামির মৃত্যু

Print

বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাহেব আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার বিকালে ওই উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের সিংহের শিমলা গ্রামে এ ঘটনার পর রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাহেব আলীকে অচেতন অবস্থায় আনা হয়। পরে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেরপুর থানার ওসি (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম দাবি করেছেন, পুলিশ কাউকে ধাওয়া করেনি। বাদীপক্ষের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে; এতে হৃদরোগে আসামির মৃত্যু হতে পারে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, শেরপুর উপজেলার সিংহের শিমলা গ্রামে জমিতে সেচ দেয়া নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি মৃত হাসান আলীর ছেলে সাহেব আলী ও একই গ্রামের আবু সাঈদের সমর্থকদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। সাহেব আলী পক্ষের গুরুতর আহত একজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আবু সাঈদের ছেলে শাহীন গত ৬ ফেব্রুয়ারি শেরপুর থানায় উল্টো সাহেব আলীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রোববার বিকালে শেরপুর থানার এসআই শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে একদল ফোর্স ওই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে বাদীপক্ষের লোকজন যুক্ত হন। তারা সাহেব আলীকে ধরতে গেলে তিনি ও তার ছেলে জহুরুল ইসলাম দৌড় দেন। গ্রেফতার এড়াতে বাবা ও ছেলে ফুলজোড় নদীতে ঝাঁপ দেন। ছেলে সাঁতরে ওপারে উঠতে পারলেও সাহেব আলী থেমে যান। পুলিশের উপস্থিতিতে বাদীপক্ষের লোকজন সাহেব আলীকে নদীর মধ্যে পাকড়াও করেন।
সাহেব আলীর ভাতিজা সুমন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নদীর মধ্যে বাদীদের সঙ্গে তার চাচার ধস্তাধস্তি শুরু হলে পুলিশ সটকে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে বাদীরাও চলে যায়। সন্ধ্যায় অচেতন অবস্থায় সাহেব আলীকে প্রথমে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতে বগুড়া মেডিকেলে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহেব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া ছিলিমপুর ফাঁড়ির টিএসআই শাহ আলম নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, শেরপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বাদী ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সাহেব আলী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তদন্ত করতে রোববার বিকালে সিংহের শিমলা গ্রামে গিয়েছিলেন। পুলিশ আসার খবর পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে জানতে পারেন ৮ নম্বর আসামি মারা গেছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 161 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ