পুলিশের প্রতিদিন অর্ধলক্ষ টাকার চাঁদাবাজি!

Print

নারায়ণগঞ্জ নগরীর ফুটপাত থেকে প্রতিদিন অর্ধলক্ষ টাকার উপরে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসন। যার কারণে ফুটপাত কোনোভাবেই দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন নগরবীদরা।
শহরবাসী বলছে, নগরীর ফুটপাতকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের চাঁদাবিজি হয় প্রতিদিনই। এরমধ্যে চাষাড়া থেকে পুরাতন কোর্ট এলাকায় রহিম মুন্সি ও এর পর থেকে মৃত মান্নান ভান্ডারির ছেলে। এছাড়াও চাষাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল চান মিয়া পুলিশের জন্য চাঁদা আদায় করে। তৃতীয় ধাপে হকারদের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চাঁদা আদায় করে সুমন।

এই তিন স্তরে প্রত্যেককে ৩০ টাকা হারে ৯০ টাকা চাঁদা দিতে হয় প্রতিটি হকারকে। চাষাড়া থেকে পুরো নগরীতে সর্বমোট প্রায় ৭ শতাধীক দোকান রয়েছে। যার মোট অংক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৩ হাজার টাকা। মূলত মোটা অঙ্কের এই চাঁদার জন্যই শতো চেষ্টা করেও ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এরমধ্যে সকালে দখলমুক্ত করা হলে বিকেলের আগেই তা আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে।
সূূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় ফুটপাত দখলে মহোৎসব চলে। এখানকার চাঁদাবাজির একটি অংশ পাচ্ছে তারা। আরেকটি অংশ পাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এছাড়াও ফুটপাত দখল করা হকারদের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। এ চক্রও এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে ক্ষমতাসীনদলের ছত্রছায়া।
স্থানীয়রা বলছে, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় প্রতিদিনই হকার উচ্ছেদ অভিযান চলে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। একদিক থেকে উচ্ছেদ হলেও আরেক দিক থেকে দখল করতে শুরু করে হকাররা।
এদিকে হকারদের দখলে ফুটপাত চলে যাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। পাশাপাশি ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার শিকারও হতে হচ্ছে নারী পথচারীদের। এছাড়াও হকারদের ভিড়ে পকেটমার, ছিনতাইকারী চক্রও ওৎ পেতে থাকে। সুযোগ বুঝেই তারা নারী-পুরুষের পকেট কেটে নিচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 76 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ