পুলিশের ভূমিকায় হতাশ খুলনার এমপি মিজান

Print

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময়ে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পথচারী শিল্প ব্যাংক ডিজিএম চিত্ররঞ্জন কুণ্ডুর স্ত্রী শিপ্রা রাণী কুণ্ডুর বুকে লাগলে নিহত হন তিনি।
শিপ্রা রাণী নিজ বাসা থেকে পূজার ফুল কিনতে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) তৎপর থাকলে আজ এ ঘটনা ঘটতে পারতো না। পুলিশ প্রশাসনকে বার বার সর্তক করার পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে আজ তৃতীয় বারের মত ডনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
এমপি মিজান আরও বলেন, সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা ডনের ওপর হামলা চালিয়ে খুলনাকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী আর সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করায় ডনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডন জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় শামসুর রহমান মানি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সদস্যদের সাথে কথা শেষ করে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে শীতলাবাড়ি মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলার সময় পূর্বদিক থেকে দুটি মোটরসাইকেলে ৬ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ফেলে গুলি চালায়।
এ সময়ে পাশে অবস্থানরত জাহাঙ্গীর নামে এক যুবক ডনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ডন উঠে দৌড় দিলে সন্ত্রাসীরা আরেকটি গুলি করে। গুলিটি শিপ্রা রাণী কুন্ডু নামে এক পথচারীর বুকে লাগে। এর পরেও তৃতীয় বারের মতো গুলি চালালে ডন আত্মরক্ষার্থে ইজ্জত আলীর বাড়িতে ঢুকে পড়েন।
শিপ্রা রাণী কুন্ডুকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান জেড এ মাহমুদ ডন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সিদ্দিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট সরদার রজব আলী, বিরেন্দ্র নাথ ঘোষ, আলহাজ্ব মফিদুল ইসলাম টুটুল, হাফেজ মো. শামীম, আলী আজগর মিন্টু, অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু, মনিরুজ্জামান সাগর, চৌধুরী রায়হান ফরিদ, শফিকুল আলম কিছলু, এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, ফেরদৌস হোসেন লাবু, মঈনুল ইসলাম নাসির, চৌধুরী মিনহাজ উজ্জামান সজল, এশারুল হক, ফয়েজুল হক টিটো, আতাউর রহমান শিকদার রাজু, গোপাল চন্দ্র সাহা, খোন্দকার বাহাউদ্দিন, আবুল হোসেন, বাদল সরদার বাবুল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এদিকে পূজা পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে খুলনা প্রেসক্লাবে এসে সমাবেশ করেছে।
এ সময়ে বক্তব্য রাখেন, শ্যামল হালদার, প্রশান্ত কুন্ডু, বিরেন্দ্র নাথ ঘোষ, গোপাল চন্দ্র সাহা, রতন মিত্র, বিজয় ঘোষ, কৃষ্ণ পদ দাস, মহাদেব সাহা, বিশ্বজিৎ দে মিঠু, রবার্ট নিক্সন ঘোষ, অ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, অ্যাড. বিরেন্দ্র সাহা, অভিজিৎ সাহা, রবীন্দ্রনাথ সাহা, রবীন্দ্রনাথ দত্তসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিপ্রা হত্যাকারীদের বিচার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, কেউ আটকও হয়নি বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 66 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ