প্যারিসে ‘জঙ্গি হামলার’ দায় স্বীকার করলো আইএস

Print
পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘জঙ্গি হামলার’ দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। ওই হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও দু’জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার পর ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি অপর পুলিশ সদস্যদের গুলি করে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই সন্দেহভাজন নিহত হয়। হামলাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে বলেও ব্রাঁদে জানান।

আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক এজেন্সিতে একাধিক ভাষায় ওই ‘জঙ্গি হামলার’ দায় স্বীকার করা হয়।

আমাক এজেন্সিতে আইএসের বিবৃতিতে ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম আবু ইউসুফ আল-বেলজিকি বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে হামলাকারীকে আইএসের কথিত ‘খিলাফতের সৈনিক’ বলেও দাবি করা হয় বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। বেলজিয়াম থেকে ট্রেনে করে প্যারিসে আসা এক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার কথা আগেই জানিয়েছিল রয়টার্স।

ওই হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছিলেন, তিনি এটিকে ‘জঙ্গি হামলা’ বলে ধারণা করছেন। হামলার পরপরই তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং নিহত পুলিশ সদস্যকে জাতীয় সম্মান জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে একটি জঙ্গিবাদ বিরোধী তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিয়েরে অঁরি ব্রাঁদে জানান, স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে মধ্য প্যারিসের চ্যাম্পস এলিসি এলাকায় পুলিশ বাসের পাশে একটি গাড়ি এসে থামে। ওই গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি অটোমেটিক পিস্তল থেকে পুলিশের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে।

চ্যাম্পস এলিসিতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতাপুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় ওই সন্দেহভাজন একাই অংশ নিয়েছিল।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আগে থেকেই জানতো। সে টেলিগ্রাম ম্যাসেজিং অ্যাপসে পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা করার আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছিল। তবে ওই সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইএস টেলিগ্রাম ম্যাসেজিং অ্যাপসটি যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করায় তা আলোচনায় আসে।

হামলার পর চ্যাম্পস এলিসি ও তার আশেপাশের এলাকা জনগণের যাতায়াতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে, রবিবার অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থীই নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মানে তাদের প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন। আগে থেকেই ফরাসি রাজনীতিতে জঙ্গিবাদ একটি তীব্র আলোচিত ইস্যু। এ ঘটনাটি প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে, ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে জঙ্গিবাদের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৩৮ জন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ