প্রতারণার ফাঁদে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীরা

Print

ভদ্রবেশী প্রতারক মাহাবুবার রহমান ইমন (৪৮)। প্রতারণাই তার পেশা। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই তার কাজ। প্রতারণার অর্থে গড়ে তুলেছেন বিশাল বিত্তবৈভব। ঢাকা শহরে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট। নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তার কৌশলী প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের বাবুল ট্রেডার্সের মালিক হাজী সোহরাব হোসেন খুইয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা। ভয়ঙ্কর এ প্রতারক সাতক্ষীরা সদর থানার শিয়ালডাঙ্গা (আবাদের হাট) গ্রামের মৃত হেকমত আলী গাজীর ছেলে। তিনি মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তার প্রতারণার নানা ঘটনা রয়েছে, যা রীতিমত বিস্মিত হওয়ার মতো। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন জানান, তিনি ভারত থেকে ১২০০ থ্রিপিস আমদানি করেন, যা গত বছরের ১৮ই আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ছাড় করানো হয়। মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহাবুবুর রহমান ইমন ওরফে পোটলের মধ্যস্থতায় উক্ত থ্রিপিস ঢাকার ইসলামপুরের হায়াত দোলন কমপ্লেক্স মার্কেটের মেসার্স হালিমা ফেব্রিক্সের মালিক ওয়ালী উল্লাহ আহম্মেদ ওভির কাছে ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার ১২ টাকায় বিক্রি করেন। এ টাকা পরিশোধ বাবদ মেসার্স হালিমা ফেব্রিক্সের মালিক সুকৌশলে মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের নামে সমুদয় টাকার দুটি চেক দেন। অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে চেক দেয়ায় ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তারা নিরাপত্তার কথা বলে এবং নানাভাবে আশ্বস্ত করে টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিতে বলেন। চেক দুটি মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের নামে দেয়া বিধায় চেকের পিছনে মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের মালিক সীল-স্বাক্ষর দিয়ে ব্যবসায়ী সোহরাবকে টাকা তুলে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ব্যাংকে গেলে হিসাবে টাকা না থাকায় চেক দুটি ডিজ অনার হয়। তখন ব্যবসায়ী সোহরাব বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ী সোহরাব ওই দুই প্রতারকের কাছে গিয়ে টাকা দাবি করেন। তারা টাকা না দিয়ে নানাভাবে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে ফোন বন্ধ করে দেন। তাদের দেয়া ঠিকানা মোতাবেক গিয়ে দেখেন সেখানে তাদের কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ী সোহরাব এ ঘটনায় ঢাকার কোতায়ালি থানায় জিডি করেন। সাতক্ষীরায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহাবুবুর রহমান ইমন ওরফে পোটল পেশাদার প্রতারক। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও আইনের নানা ফাঁক দিয়ে আবার বেরিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ইমনকে হন্য হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এলসি’র মাধ্যমে ভারত থেকে থ্রিপিস ও ইমিটেশনের গহনা আমদানি করে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। সূত্রে জানায়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা, জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডি থানায় ৯ লক্ষ টাকার প্রতারণা মামলা রয়েছে। ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে ১৩ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকার প্রতারণার ঘটনায় কোতোয়ালি থানা ডিএমপি ঢাকায় মামলা হয়। ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণার ঘটনায় তার বিবুদ্ধে পল্টন থানা, ডিএমপি, একটি মামলা হয়। ব্যাংকের চেক জালিয়াতির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ৭ লক্ষ টাকা ও ৬টি ব্যাংক চেক প্রতারণার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে লালবাগ থানা, ডিএমপি, ঢাকায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ ধানমন্ডি জোনাল টিম, ডিএমপি, ঢাকার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম, মহানগর আদালত, ঢাকা বরাবর দাখিলকৃত একটি প্রতিবেদনে ঢাকা কোতোয়ালি থানার মামলার আলোকে জেলহাজতে আটক এ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। গ্রেপ্তার থাকাকালে উল্লেখিত ঘটনায় সে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তারপরও বহাল তবিয়তে প্রতারণা করে যাচ্ছে এ ভয়ঙ্কর প্রতারক। অচিরেই তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরো অনেকে তার প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হতে পারেন। ইমনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 178 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ