প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মারা গেছেন

Print
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন আর নেই। তিনি আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোররাতে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাইদুল ইসলাম প্রধান বলেন, প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভোররাতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

প্রমোদ মানকিন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সাংসদ ছিলেন। চারবারের নির্বাচিত এই সাংসদ হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, প্রমোদ মানকিন ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আনুমানিক চার মাস আগে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। সম্প্রতি ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, প্রমোদ মানকিনের জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৮ এপ্রিল। জন্মস্থান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রাম। এক সম্ভ্রান্ত গারো পরিবারে তাঁর জন্ম। মেঘা তজু তাঁর বাবা। মা হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। তাঁরা বেঁচে নেই। আট ভাইবোনের মধ্যে প্রমোদ মানকিন পঞ্চম।

প্রমোদ মানকিন ১৯৬৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড এবং ময়মনসিংহ ‘ল’ কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।

ছাত্র ও কর্মজীবনের শুরু থেকেই প্রমোদ মানকিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ।

সংগঠক হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রমোদ মানকিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রমোদ মানকিন ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হন প্রমোদ মানকিন। ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সবশেষ তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 27 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ