প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে?

Print

আজকাল কি হঠাৎ করেই মাঝ রাতে আপনার ঘুম ভেঙ্গে যায়? কেউ না ডাকলেও কিংবা কোনো প্রকার এলার্ম ছাড়াই? সাধারণত এমনটা ঘটলে আমরা খুব একটা ভ্রূক্ষেপ করি না, এড়িয়ে চলি। তবে শরীর কিন্তু আপনাকে মারাত্মক কোন ক্ষতির জন্য বারবার জানান দিচ্ছে!

আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে থাকে। সেই নিয়মে ব্যাঘাত ঘটলে শারীরিক ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। আজ চলুন জেনে নেওয়া যাক রাতের বিভিন্ন সময় অকারণে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলে।

রাতের ৯টা-১১টা

এই সময়কাল সাধারণত আমাদের সদ্য ঘুমাতে যাওয়ার সময়। এ সময় আমাদের দেহের ভারসাম্য সঠিক মাত্রায় থাকে না এবং তা যাবতীয় ক্ষয়পূরণ করে। দেহের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম এসময় দেহের হরমোন এবং মেটাবোলিজমের মাত্রা ঠিক করার কাজ করে। যদি এসময়ে আপনার ঘুম বারবার ভেঙ্গে যায় তার মানে হচ্ছে আপনার মস্তিষ্কে অনেকগুলো বিষয় ঘুরপাক পাচ্ছে। হয়তো আজ সারা দিনে যা যা হলো, তা ভাবছেন কিংবা আগামী দিনে কী কী করবেন, সেগুলো সাজাচ্ছেন।

যদি আপনার বেশি রাত করে খাওয়ার বদ অভ্যাস থাকে কিংবা খুব বেশি পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে তা আপনার দেহে এনার্জি ব্লকের সৃষ্টি করবে যার কারনে এ সময় ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই ৯টা-১১টার সময় যদি আপনার ঘুম ভেঙে যায় তাহলে দেহকে প্রশান্তি দিন। নিজের কিছু ভালো সময় বা ভালো লাগা কল্পনা করুন অথবা কোনো নীতিকথা আওড়াতে থাকুন মনে মনে। এটি আপনার দেহে প্রশান্তি এনে দিবে ফলে আপনি শান্তিমত ঘুমাতে পারবেন।

রাত ১১টা-১টা

এ সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ হচ্ছে কোনো ব্যাপার নিয়ে অসন্তোষ যা আপনাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছে। এই সময়টাতে দেহ প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে যা পরবর্তী দিনে কাজে লাগাবে। এ সময় পিত্তথলি দেহের চর্বি ভাঙনের কাজ করে এবং আপনি যদি অতিরিক্ত মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর খাবার খান তবে তা আপনার দেহে অস্বস্তি সৃষ্টি করবে।

রাত ১টা-৩টা

এ সময়টা আমাদের শরীরের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কেননা এ সময় দেহের ডেটেক্সোফিকেশন প্রক্রিয়া চলমান থাকে। এ সময় যকৃত দেহের অপ্রয়োজনীয় টক্সিন ত্যাগ করে এবং নতুন ও সতেজ এনজাইমের মুক্তি দেয় যা রক্ত পরিশুদ্ধের কাজ করে।

প্রতিনিয়ত ১টা-৩টার মাঝে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মানে আপনার মনে নেতিবাচক আবেগ বেশ পোক্ত করে জায়গা করে নিয়েছে। আপনি প্রতিনিয়ত রাগ, ক্রোধ এবং হতাশার মাঝে জীবন কাটাচ্ছেন।

আবার অনেক সময় যকৃত তার কাজ ঠিকমত সম্পাদন না করতে পারলেও এ সময় ঘুম ভেঙে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন, যা আপনার দেহকে শীতল রাখতে সহায়ক হবে।

রাত ৩টা-৫টা

এ সময়টা ফুসফুসের যাবতীয় কাজের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে ক্ষুধামন্দা, শীত অনুভব করা, প্রাঞ্জল স্বপ্ন দেখা কিংবা কোন শব্দের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া।

কারন যাই হোক, এ সময় ঘুম ভেঙে যাওয়াটা আপনার জন্য খারাপ ইঙ্গিতই বটে। আপনার দেহকে তাই এসময় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার চেষ্টা করুন যাতে দেহের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যাঘাত না ঘটে। অস্বস্তি হলে কয়েকবার শান্ত হয়ে শ্বাস নিন যা আপনার উপকারে আসবে।

ভোর ৫টা-৭টা

এসময় বৃহদান্ত্র অপকারী টক্সিনকে পাচনতন্ত্র থেকে দূরীভবনের কাজ করে। নিয়মিত এ সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার মানে আপনার পাচনক্রিয়া দুর্বল। তবে বেশিরভাগ মানুষেরই স্বভাবের কারনে এই সময়ে ঘুম ভাঙ্গে। তাই এসময় ঘুম ভাঙলে এক গ্লাস পানি পান করে কিছুক্ষণ মেডিটেশন করতে পারেন। ভালো লাগবে।

আপনার দেহ সবসময়ই আপনাকে সতর্ক করছে। তাই এই সতর্কতাগুলোকে আমলে নিন, সুখী জীবনযাপন করুন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 109 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ