প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ না

Print

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও জাতীয় সংসদের সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তবে বাংলাদেশের জনগণ আর ধৈর্য দেখাবে না। জনগণের পঁয়সায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন পাওয়া কোনো পাকিস্তানপ্রেমীর উদ্ভট ও অনভিপ্রেত কথাবার্তা এদেশের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ আর সহ্য করবে না।
সোমবার ২১ আগস্ট উপলক্ষ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কোনো আদালতের নেই। যারা কথা বলছেন, তারা ভুলে গেছেন ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদাহরণ বাংলাদেশে অচল। কারণ বাংলাদেশটা পাকিস্তান না, বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের জনগণ না।
শামীম ওসমান বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নওয়াজ শরীফ না, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আইএসআই দ্বারা পরিচালিত না। পাকিস্তানের রাজনীতি এবং বিচার বিভাগ সেনাবাহিনীর নির্দেশে চলে। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আর বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে জাতির জনকের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে। আমার এসব কথার জন্য যদি আদালত আমাকে তলব করেন, তবে অবশ্যই যাবো। তবে সংসদ সদস্য পদ ও দলীয় পদ ছেড়েই যাবো এবং এদেশের প্রতিটি স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষের মনের কথাগুলো আদালতে বলে আসবো। বিশ্বাস করি আদালত সেই কথার মর্মার্থ বুঝবেন। মনে রাখা উচিত, শেখ হাসিনা নীলকণ্ঠী হলেও বাংলার মানুষ নীলকণ্ঠী নয়। কারণ, সব কিছু নিয়ে আপোষ করলেও বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রশ্নে তার কর্মীরা আপোষ করতে শিখেনি।
তিনি আরো বলেন, দেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনার কর্মীরা রাজপথের অকুতোভয় সেনা। আওয়ামী লীগের কর্মীরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। কেউ কেউ দায়িত্বশীল জায়গায় বসে দায়িত্বহীনের মত কথা বলছে, শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে অশ্রদ্ধার কথা বলছেন। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে পল্টন থেকে কোন বিএনপি-জামাতের প্রেতাত্মা কথা বলছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এসব নিন্দনীয় বক্তব্য দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের কাছে অযোগ্য অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। তাই উচিত হবে তাদের সম্মানের সাথে সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করা, নয়তো নিজেকে সেই সম্মানের চেয়ার থেকে সরিয়ে নেয়া। কারণ ইতিহাস স্বাক্ষী, যারা ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন, ইতিহাস তাদেরকে বারবার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। সময় হয়ে এসেছে সব কিছুর জবাব দেয়ার।
এসময় উপস্থিত কর্মীদের সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ২১ আগস্ট শুধুমাত্র একদিনের স্মরণের বিষয় নয়। ২১ আগস্ট আমাদের শিক্ষা দিয়ে যায়, মনে করিয়ে দেয় যে, এদেশকে ব্যর্থ ও জঙ্গী রাষ্ট্র বানাতে শকুনির দল আমাদের নেত্রীকে হত্যার জন্য এখনও ওঁৎ পেতে আছে। কিন্তু দেশ দল ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে হবে এবং কর্মীরাই সেটা করবেন।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বলছি, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন, শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় আসবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ শেখ হাসিনার উপর আল্লাহর রহমত আছে। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, তাদের সাথে শয়তান আছে। আর শয়তান কখনো আল্লাহর সাথে থাকতে পারে না।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রেণুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক, কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজু, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির ও মো. ফারুকসহ অঙ্গ সংগঠেনর কয়েক হাজার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 240 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ