প্রবাসী নারীর সাহসিকতায় প্রতারক শ্রীঘরে

Print

প্রবাসী নারীর সাহসিকতায় প্রতারক শ্রীঘরে

বিমানবন্দরে প্রবাসী এক নারীকে বোন ডেকে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। এরপর পথে বিদেশফেরত ওই নারীকে কৌশলে অচেতন করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা তাজুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন রুবিনা নামের প্রতারিত ওই প্রবাসী নারী।

পরে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাজুলকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

প্রতারক তাজুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের নানান কৌশলে অচেতন করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার কাজ করে আসছিলেন।

গতকাল সোমবার রাতে ‘ম্যাজিস্ট্রেটস অব অল এয়ারপোর্ট’ নামের এক ফেসবুক আইডিতে দেয়া পোস্টে ছবিসহ এই ঘটনা তুলে ধরা হয়।

ওই পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ শিশু সন্তানকে অপারেশন করাতে সৌদি প্রবাসী নারী শ্রমিক রুবিনা গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের পার্কিং এরিয়ায় ঢুকতেই তার দেখা হয় প্রতারক তাজুলের সঙ্গে। এ সময় তাজুল তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘বইন কই যাবা?’ রুবিনা উত্তরে জয়পুরহাট জানাতেই তাজুল বলেন, ‘আরে কও কি বইন! আমার বাড়ি দিনাজপুরের হিলি! আমিও ওই দিক যামু।’

রুবিনা তাকে বিমানবন্দরে আসার কারণ জানতে চাইলে তাজুল বলেন, ‘একমাত্র বইনকে এট্টু আগে দুবাইতে পাঠাইয়া দিলাম। পরানডা ছিঁড়া যাইতাছে বইন।’

কাছাকাছি এলাকার অপরিচিত তাজুলকে পেয়ে রুবিনা মনে জোর পান। একসঙ্গে বাসে উঠে গাবতলীর উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে নিজেদের মধ্যে অনেক সুঃখ-দুখের গল্পও করেন। ফার্মগেটে বাস থামলে ক্ষুধা লাগায় রুবিনাকে পানি-পাউরুটি কিনে দেয় তাজুল। একপর্যায়ে বোতলে মুখ দিয়ে পানি খেতে গিয়ে একটু পানি রুবিনার গাল বেয়ে পড়ে। ‘ভাই’ তাজুল নিজের রুমাল বের করে সযত্নে পানি মুছে দেন। এ সময় রুবিনা বুঝতে পারেন, রুমালের ছোঁয়ায় তার সেন্স কমে আসছে, চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। ওদিকে প্রতারক ‘ভাই’  তাজুল তার ভ্যানিটি ব্যাগ খুলে সব টাকা নিজের পকেটে ঢুকাচ্ছেন। রুবিনা চেয়ে চেয়ে দেখলেও তা প্রতিরোধ বা বলার মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না তিনি।

অল্পসময়ের মধ্যেই রুবিনার টাকা ও মোবাইল ফোনসহ দামি জিনিষপত্র নিয়ে রুবিনার মাথায় হাত বুলিয়ে বাস থেকে নেমে চম্পট দেন তাজুল। এর মিনিট পাঁচেক পর রুবিনা স্বাভাবিক হলেও সে সময় কান্না ছাড়া কোনো গতি ছিল না তার।

সচেতনতার অভাবে সন্তানের হার্নিয়ার অপারেশন করতে আনা সবগুলো টাকা উধাও। বাস ভাড়া দেয়ার টাকাও নেই তখর রুবিনার। পাশের এক যাত্রী একশ’ টাকা দিয়ে তাকে সাহায্য করেন।

এভাবে প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হলেও থেমে থাকেননি রুবিনা। বাস থেকে নেমে সৌদিতে তার সহকর্মী শম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় তার বাসায় গিয়ে ওঠেন। এরপর টানা তিনদিন বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে চিরুনি অভিযান চালান তিনি। শেষ পর্যন্ত সোমবার সফল হন রুবিনা।

ঠিক একই জায়গায় দেখতে পান তাজুলকে। আরেক বিদেশফেরত পুরুষ যাত্রীকে বলছিলেন, ‘একটু আগে ছোট ভাইটারে বিদেশ পাঠাইলাম, পরানডা..’। এ সময় প্রতারক তাজুলকে পাকড়াও করে ও উত্তম-মধ্যম দিয়ে এপিবিএনের কাছে সোপর্দ করেন তিনি।

পরে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার করে জয়পুরহাটে ফিরে যান রুবিনা। আর ‘ভাই’ তাজুলকে দুই বছরের জন্য পাঠানো হয় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 245 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ