প্রযুক্তিভিত্তিক প্রচারে নামছে আ. লীগ

Print

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এবার তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক প্রচার উপকরণ নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল নেতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ল্যাপটপ, সিডি প্রভৃতি।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০ মে দলের বিশেষ বর্ধিত সভার পরদিন তৃণমূল নেতাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সারা দেশ থেকে সাংগঠনিক জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও উপসম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও উপসম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে ডাকা হয়েছে। তবে যেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেখানকার শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারে তৃণমূলের নেতাদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহ করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, জেলা নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই ২০ মে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। এ বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে পরামর্শ নেওয়া হবে তৃণমূল নেতাদের। এ ছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। আর তিন বছর পর সদস্য সংগ্রহের কথা থাকলেও চার বছর বিরতি দিয়ে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ওই সভায়।
দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। দুই কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ৫৫ জেলায় সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। দেড় বছর সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। আগামী জুন থেকে পুরোদমে আবার সদস্য সংগ্রহ করা হবে। এ নিয়ে ২০ মের বিশেষ বর্ধিত সভায় জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পরামর্শ নেবেন।
দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০ মে সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি। দেওয়া হবে ঘোষণাপত্র। তিনি জানিয়েছেন, এবার যাকে-তাকে সদস্য করা হবে না। দলের সভাপতি সদস্য সংগ্রহের নীতিমালা, নির্দেশনা নিজেই বলবেন।
সভায় আগত জেলা নেতাদের হাতে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের চিত্র তুলে দেওয়া হবে। এসব চিত্র ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পাড়া-মহল্লা ও বাজারে সম্প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের উন্নয়নচিত্র প্রচার করা হবে ভিডিও চিত্র ও বিভিন্ন প্রচারপত্রের মাধ্যমে।
সভার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে দলের নতুন ঘোষণাপত্র তুলে দেওয়া হবে। গত অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলনে এ ঘোষণাপত্র অনুমোদন হয়েছিল। ঘোষণাপত্রে আগামী দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আমরা সভায় আওয়ামী লীগ কী অর্জন করেছে, আর কী কী করতে হবে তা নিয়ে পর্যালোচনা করব। জেলা নেতাদের মতামত নেওয়া হবে। তাঁদের মতামতের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার। ’
দলের একাধিক সূত্র জানায়, বিশেষ বর্ধিত সভার পরদিন জেলার নেতাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মশালায় জেলার নেতাদের হাতে একটি করে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারের জন্য নানা তথ্যবহুল সিডি সরবরাহ করা হবে। আওয়ামী লীগের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিআরআই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভার এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সভা হবে। তবে কী এজেন্ডা থাকছে সে বিষয়টি এখনই বলা যাবে না। ’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘বৈঠকে জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে ডাকা হয়েছে। প্রচার সম্পাদককে ডাকা হয়েছে আমাদের সরকার যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো করেছে, আমাদের যে অর্জনগুলো আছে তা জেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। দপ্তর সম্পাদককে ডাকা হয়েছে সংগঠনের দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা ও গতি আনার জন্য। জেলা পর্যায়ে অনেক সময় দাপ্তরিক কাজে ছোটখাটো সমস্যা দেখা যায়। আগামী দিনে এসব যেন না থাকে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়গুলোকে ডিজিটাইজ করা এবং সেখানে নেতাকর্মীদের তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে ডাকা হয়েছে মূলত অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য। ’
মুহম্মদ ফারুক খান আরো বলেন, ‘আমাদের একটি সিদ্ধান্ত আছে যে প্রত্যেক সংসদ সদস্য ও সংগঠনের নেতারা নিজ এলাকায় ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হবে। এখন বয়স্কদের সঙ্গে এক ধরনের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং তরুণদের সঙ্গে ভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে—এটাই বাস্তবতা। তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। তাই এ মাধ্যমটিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করে তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এ বিষয়গুলোই মূলত বিশেষ বর্ধিত সভার নির্দেশনায় থাকবে। ’
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা সমস্যার বিষয়টি থাকা নিয়ে জানতে চাইলে মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘এ ধরনের একটি বৈঠকে বসলে সাংগঠনিক নানা সমস্যার কথা এমনিতেই ওঠে আসে। আগামী নির্বাচন, আমাদের অন্তঃকোন্দলসহ নানা বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হবে। ’
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের জেলার নেতাদের প্রস্তুত করা এবং তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কিভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু কৌশল শিক্ষা দেওয়া হতে পারে, কিছু উপকরণ সরবরাহ করা হতে পারে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। ’
আট বিভাগের প্রতিনিধিদের বাইরে আর কেউ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না জানতে চাইলে নওফেল বলেন, ‘অনেক বৈঠকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূলের নেতাদের কথা শুনতে চান। দেখা যাবে এই বৈঠকেও তিনি দু-চারজনকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। ’
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘বর্ধিত সভার উদ্দেশ্য হলো সংগঠনকে গতিশীল করা, যুগোপযোগী করা। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ বর্ধিত সভা। ’
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিশেষ বর্ধিত সভায় আট বিভাগ থেকে আটজন জেলা নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে আট সাংগঠনিক সম্পাদককে নিজ বিভাগের একজন নেতাকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 115 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ