প্রযুক্তির ধরন বদলে দেওয়া ৫ ধারণা

Print

অঙ্ক হিসেবে গণিতের ধারণা উন্নত করেছে ‘শূন্য’, আর ধারণা হিসেবে উন্নত করেছে গোটা বিশ্বকেই। সব উদ্ভাবনের শুরুটা হয়েছে ওই শূন্যতা থেকে। আর এই শূন্যস্থান পূরণ করেছে ধারণা বা আইডিয়া দিয়ে। ২৪ শতাব্দী আগে প্লেটো যেমন বলে গেছেন, এখনো তা-ই বলা হয়—সবকিছুর উৎস হলো ধারণা। বিশ্বকে বদলে দেওয়া এমনই কিছু ধারণার কথা থাকছে এই লেখায়। এমন ধারণা, যা প্রযুক্তিকে নতুন করে এনেছে মানুষের সামনে।

যোগাযোগে বিপ্লব
সবচেয়ে বড় সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মিলনমেলা, তথ্যভান্ডার, পণ্য কেনাবেচার সেবা কিংবা মাল্টিমিডিয়ার সংগ্রহশালা এখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে। আর এই তথ্যভান্ডার ব্যবহারের সুযোগ মানুষ পেয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ ষাটের দশকে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু করে। এটিই পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট হিসেবে আবির্ভাব হয়। আর এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ভার্চ্যুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে।

সবার ঘরে ঘরে
সপ্তদশ শতাব্দী থেকেই একরকম বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক কম্পিউটার তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপ্লবটা বোধ হয় তখন হয়েছে, যখন বলা হয়েছিল কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে, গান শুনতে কিংবা খেলতে। কম্পিউটার শুধু গবেষণাগারে না, থাকবে সবার ঘরে ঘরে। শখের প্রোগ্রামার থেকে শুরু করে অফিসে কাজ করার জন্য ১৯৮৩ সালে পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল আইবিএম। এরপর অ্যাপলের ‘মেকিনটোশ’ কম্পিউটারের সে ধারণাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সাধারণ মানুষের হাতে কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়ার এ ধারণাই তথ্যপ্রযুিক্ত বিপ্লবের শুরু করেছে।

প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ হবে ট্রানজিস্টরের পরিমাণ
কম্পিউটারের আকার ছোট হয়ে আসার পেছনের কারণ হলো দিন যত যাচ্ছে, নির্দিষ্ট আকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) বোর্ডে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ততই বাড়ছে। এই বাড়ার একটা নির্দিষ্ট হার আছে। আর তা হলো, প্রতি দুই বছরের ট্রানজিস্টর দ্বিগুণ হবে, তবে আকার থাকবে একই। মাইক্রোপ্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেলের প্রতিষ্ঠাতা গর্ডন আর্ল মুর ১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল এই তত্ত্ব দিয়েছিলেন। তার সে তত্ত্ব ‘মুরের সূত্র’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সূত্র থেকে এখনো মাইক্রোপ্রসেসর শিল্প দিকনির্দেশনা পাচ্ছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সূত্র মেনে আর বেশি দিন প্রসেসর তৈরি সম্ভব হবে না। কারণ ট্রানজিস্টরের আকার এরই মধ্যে ন্যানো স্কেলে মাপা হচ্ছে, আর ছোট করা হয়তো সম্ভব হবে না।

মানুষের মতো রোবটের বুদ্ধিমত্তা
চেকোস্লোভাকিয়ার নাট্যকার কারেল চাপেক ১৯২০ সালে প্রথম ‘রোবট’ শব্দ ব্যবহার করেন। তবে ১৯৫৪ সালে উৎপাদনশিল্পে প্রথম রোবট ব্যবহার করেন মার্কিন উদ্ভাবক জর্জ ডেভল। এর পাঁচ বছর পর মানুষের বুদ্ধিমত্তা যন্ত্রের মধ্যে সঞ্চার করতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে স্থাপন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার। সে-ই শুরু। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, শুধু গত বছরে দেশটিতে ৯৭ লাখ বার বিমান ওঠানামা করেছে, এই সময়সূচির তত্ত্বাবধানে মানুষকে সাহায্য করেছে সফটওয়্যার। অবশ্য অনেকেই রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যদিক নিয়েও চিন্তিত। যেদিন সব কাজ রোবটের দখলে যাবে, পৃথিবীর বেকার মানুষদের কী হবে সেদিন?

এক যন্ত্রে সব সুবিধা
তাৎক্ষণিক যোগাযোগে টেলিফোন এবং তারও আগে টেলিগ্রাফের উদ্ভাবন বেশ বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল মার্কিন প্রকৌশলী মারটিন কুপার প্রথম বহনযোগ্য ফোন থেকে কল করেন। তবে মুঠোফোন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠতে শুরু করে বড়জোর দশক দুই আগে। মানুষের হাতে হাতে সব সময় যখন এই মুঠোফোন ঘুরতে শুরু করে, তখন এক যন্ত্রে সব ধরনের সুবিধা যোগ করার প্রবণতা দেখা যায় উদ্ভাবকদের মধ্যে। আর এই ধারণাটিই মুঠোফোন ব্যবহারে পরিবর্তন আনে। বর্তমানে ব্যবহারকারীরা কম্পিউটারের কাজও করছেন স্মার্টফোনের মাধ্যমেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 93 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ