প্রশাসনক বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পীরগঞ্জের দুই ছাত্রির বাল্য বিয়ে সম্পন্ন

Print

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বিয়ের দিন তারিখ সবই ঠিক ঠাক্, পাত্রী পক্ষের বিয়ের নিমন্ত্রন পত্র বিতরন সম্পন্ন। শুধু বিয়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। সহপাঠি বন্ধুরা কিছুতেই এই বিয়ে মেনে নিতে পারছিলনা, শোনার পরে মিনতির বন্ধুরা এক মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে যথা সময়ে প্রশাসনের নজরে আনার পরেও বাল্য বিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলনা স্কুল ছাত্রী মিনতী রানী (১৫) ও একই গ্রামের প্রতিবেশী কলেজ ছাত্রী লিপি রানী রায় (১৬), তাদের দুজনের বিয়ে মহা ধুমধামে সম্পন্ন হবার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল (রোববার,২৯ জানুয়ারী) রাতে একই গ্রামে দুই ছাত্রীর বাল্য বিবাহ সম্পন্ন ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে সচেতন মহলে।

প্রশাসনক বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বোচাগঞ্জের দুই ছাত্রির বাল্য বিয়ে সম্পন্নঘটনাটি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৫ নং সৈয়দপুর ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের কোঠাপাড়া গ্রামের। তথ্য প্রযুক্তির আর্শীবাদে মোবাইল ফোনে বাতাসের সাথে মিশে মিনতির বাল্য বিবাহের এ খবর মূহুর্তের মধ্যে পৌঁছে গেল পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নিকট। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন কে বাল্যবিবাহ বন্ধের নির্র্দেশ দিলে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেলাল হোসেন সহ গ্রাম পুলিশের সদস্য বিলাস চন্দ্র সকাল সাড়ে ১১ টায় হাজির হন কোঠাপাড়া গ্রামের নাবালিকা পাত্রী মিনতি রানী ( ১৫) এর পিতা দীনেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ীতে। সেখানে ইউএনও র পক্ষে বিবাহ বন্ধ করার কথা বলে বাল্য বিবাহের কুফল ও বে আইনী ভাবে বাল্য বিবাহের শাস্তি ব্যাখ্যা প্রদান করলে মেয়ের পিতা দীনেশ ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করে তা মেনে নেয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরক্ষনে দীনেশ চন্দ্র তার নাবালিকা কন্যা মিনতি রানী ( ১৫) এর বিয়ে দিনাজপুর নোটারী পাবলিক এর মাধ্যমে সম্পন্ন করে গভীর রাতে নিজ বাড়ীতে ঠাকুর বিয়ে দিয়ে জামাই বাড়ী পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আতিয়া চন্দ্র রায়ের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী নাবালিকা লিপি রানী রায়ের বিয়েতে বাধা না দিয়ে নেমন্তন পালন করে চলে আসে গ্রাম পুলিশের সদস্য বিলাস।

এ প্রসঙ্গে চৌকিদার বিলাস জানায়, মিনতির বিয়ে বন্ধের নির্দেশ পেয়েছি কিন্তু লিপি রানীর কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। জানা যায়, নাবালিকা মিনতি রানী (১৫) বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের সনকাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী ও লিপি রানী রায়(১৬) সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী। এরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তি প্রকল্পভূক্ত বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মিনতি রানীর জেএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ০১/১০/২০০১ ও লিপি রানীর এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী ১০/১১/২০০০ইং।এদের দুুজনের বাড়ী ইউপি সদস্যের বাড়ীর ৪০০গজের মধ্যে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ