প্রশ্ন ফাঁস সন্দেহের তীর বিজি প্রেস ও শিক্ষকদের দিকে

Print

তদন্তে প্রমাণিত হলে বাতিল হতে পারে পরীক্ষা * বিজি প্রেসের এক কর্মচারীসহ সন্দেহভাজন কয়েকজন আটক * পরীক্ষা চলাকালে অভিযোগ উঠলে স্থগিত করার নির্দেশ
এসএসসি পরীক্ষায় দুই বোর্ডের গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেসের একজন কর্মচারীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দু-একদিনের মধ্যে তাদের সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে আসা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণভাবেও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিজি প্রেস এবং অসৎ শিক্ষকদের সন্দেহের তালিকায় রেখে এগোচ্ছে তদন্ত কাজ। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষা বাতিল করা হবে কিনা সে বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সোমবার দুপুরে বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করছি। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে এই পরীক্ষা আবারও নেয়া হবে। তবে যে সময়ে প্রশ্ন বেরিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সে সময়ে সাধারণত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে বসে যায়। তাই কথিত প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার কথা নয়।’
রোববার এসএসসিতে সারা দেশে গণিত বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। ই-মেইলে ঢাকা ও রাজশাহী বোর্ডের ‘ফাঁস’ হওয়া প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট আগে আসে। তবে অনেকেই দাবি করছেন, আগের রাতেই শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পেয়েছে। সোমবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সকালেই মন্ত্রণালয়ে ডাক পরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের। দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারকে নিয়ে মিটিংয়ে বসেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন ও অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান। বৈঠকে প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাব্য সন্দেহজনক জায়গা, সারা দেশে পরীক্ষা নিয়ে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, আশুগঞ্জে একজন কেন্দ্র সচিবের পকেটে প্রশ্নপত্র পাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে সচিব নির্দেশ দেন- ভবিষ্যতে প্রশ্ন ফাঁসের ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠলেও পরীক্ষা চলাকালেই প্রয়োজনে তা বন্ধ করে দিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র পকেটে নেয়া আশুগঞ্জের বহিষ্কৃত কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলার বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট আগে প্রশ্ন ফাঁসের সংবাদ প্রকাশিত হলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায়ই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ওই সংস্থা থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের কাছে কথিত প্রশ্নটি পাঠানো হয়। পরে সেটির সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়নি। একজন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা সংস্থাটি যে সূত্রে প্রশ্নপত্রটি পেয়েছে, সেটিই এখন তদন্ত ও দুষ্কৃতকারীদের ধরার বড় সূত্রে পরিণত হয়েছে। ওই সূত্রে এগিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে। আটকদের মধ্যে একজন বিজি প্রেসের কর্মচারী আছেন। বাকিরা ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ছড়ানোর কাজ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, যেভাবে প্রশ্ন ফাঁসের কথা শোনা যাচ্ছে তাতে সন্দেহের তীর বিজি প্রেসের দিকেই যায়। কেননা আগে বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় ট্রেজারিতে প্রশ্নের প্যাকেট গ্রহণের সময়ে তা খোলা ছিল কিনা যাচাইয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিই। ওই কমিটি ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ করছে। শুধু গণিতই নয়, ৮ ফেব্রুয়ারির পর আজ পর্যন্ত কোথাও থেকে প্রশ্নের প্যাকেট খোলা পাওয়ার অভিযোগ পাইনি। সে হিসেবে যেহেতু আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়ার কথা উঠেছে, নিঃসন্দেহে তা বিজি প্রেস থেকেই বের হতে পারে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্ত হলে আমরা বিজি প্রেসের ভিডিও ফুটেজ খুঁজে দেখব। কেননা শর্ষে যদি ভূত থাকে, তবে সেখানেই ক্লু পাওয়া যাবে।
তবে এই কর্মকর্তার সঙ্গে একমত নন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সন্দেহের তীর শিক্ষকদের দিকে ছুড়ে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাব্য বিভিন্ন উৎস আমরা বন্ধ করে শিক্ষকদের হাতে প্রশ্ন তুলে দিয়েছি। কিন্তু এখন তীরে এসে তরী ডোবার মতো অবস্থা হয়েছে। এখন সেখান থেকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসছে। আমরা চরম উদ্বিগ্ন, ক্ষুুব্ধ ও দুঃখিত। এসব বরদাশত করব না। দোষীদের ধরবই। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে কিছু অসৎ ব্যক্তি ঢুকে গেছেন। এদের ধরিয়ে দিতে সব শিক্ষকের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 139 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ