প্রাচিন মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য এখন বিলিনের পথে

Print

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মৃৎশিল্পীরা পূর্ব পুরুষদের পেশা ছেড়ে দিনদিন অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দেশের বেশীর ভাগ মানুষ প্লাষ্টিক সরঞ্জাম ব্যবহার করায় এ শিল্পের কদর দিন দিন হ্রৃাস পাচ্ছে। তার সাথে হারাতে বসেছে ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বিগত সময়ে উপজেলার কালীবাড়ী, মালিঝিকান্দা, ধানশাইল ও চাপাজোড়া এলাকার প্রায় ২/৩শতাধিক পরিবার এ পেশায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে এ শিল্পকে ধরে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছে মাত্র ৫০-৬০টি পরিবার। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় মেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের তৈরী পণ্য শোভা পায় ধনীদের ড্রইংরুম থেকে শুরু করে শোভাবর্ধন মূলক অনেক স্থানে। উপজেলার মৃৎশিল্পে কর্মরত চাপাজোড়া গ্রামের মৃত দিনেশ চন্দ্র দাসের ছেলে ভূলানাথ পাল, লিটন পাল ও সুজন পাল এ প্রতিনিধিকে জানান, বর্তমানে এই মৃৎশিল্পের করুন অবস্থা। নির্মাণ খরচ এবং আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা বড় কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগেও স্থানীয় ভাবে বিনামূল্যে মাটি সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে ব্যাপক ভাবে বোর চাষ হওয়াতে কেহ আর এ কাজে বিনামূল্যে মাটি দিতে চাইনা। তাই এ কাজের উপযুক্ত মাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্চ দরে ক্রয় করা এবং লাকড়ীর দাম বেশী হওয়ায় নির্মান ব্যায় পড়ে বেশী । এসব কারণে এ ব্যবসায় তারা আর কুলিয়ে উঠতে পারছেনা। তাছাড়া তাদের তৈরীকৃত মালামাল শুকানো ও মজুদ করার জন্য বড় চালা সিস্টেম কোন ঘর না থাকায় বৃষ্টির মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হন। অর্থের অভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করে চাহিদা মোতাবেক মালামাল তৈরি করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যোগান, সহজ ভাবে মাটি প্রাপ্তির ব্যবস্থা এবং জিও/এনজিও/ সরকারী ভাবে সুদ বিহীন ঋণের ব্যবস্থা করে একদিকে যেমন এ শিল্প দ্বারা হাজার হাজার শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব, তেমনি এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেও ব্যাপক ভাবে উৎসাহ যোগাবে। তারা আরও জানায়, শুধু মাত্র পূর্ব পুরুষের এ শিল্পকে নিয়ে পেটে ভাতে বেঁচে আছি। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে জীবণ বলে না। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, এ শিল্পকে সরকারী ভাবে উদ্দোগ গ্রহণ করে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিবছর বৈদেশীক বাজারে মৃৎশিল্প বিক্রি করে প্রচুর বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব । উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজার সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, “মৃৎ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কেমন উদ্যোগ গ্রহন করলে এ শিল্পের ও তাদের উপকার হবে, তা তাহারা লিখিত ভাবে জানালে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের জন্য আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব”।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 76 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ