প্রয়োজন ফুরালেই: সাংবাদিকদের চেনেন না

Print


১) সামিউল আলম রাজনের উপর হামলা :-
গত ৮জুলাই ২০১৫ইং রোজ বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে সামিউলকে চুরির মিথ্যা অপবাদে খুঁটির সাথে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সামিউল মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিদ আলম।

নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে। সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন প্রাইভেটকারচালক। তার দুই ছেলের মধ্যে সামিউল বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সামিউল সবজি বিক্রি করত।

সাংবাদিকদের লেখায় উঠে আসা মানবিক প্রতিবেদনে রাজনের মামলার রায় হয়েছে। কামরুলসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও নানা মেয়াদে দণ্ড হয়েছে। রাজনের বাবার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সরকারি-বেসরকারি অনেক সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রবাসী ব্যক্তিবর্গ। প্রায় কোটি টাকার মতো অনুদানও পেয়েছেন তিনি।

রাজনের বাবা এখন সাংবাদিকদের চেনেন না। সাংবাদিকদের দেখলে বিরক্ত হন তিনি। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার মতো সময় নেই তার।

২) খাদিজার উপর হামলা :-
খাদিজা স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিলেন। গত ৩ অক্টোবর ২০১৬ইং রোজ সোমবার বিকেলে সিলেট এমসি কলেজে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়ে বেরোনোর সময় কলেজের পুকুর পাড়ে তার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম (২৭) তাকে চাপাতি দিয়ে কোপায়। ঘটনার পরপরই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ঐ ঘটনার সব রকমের তথ্য সংগ্রহ করতে ‘নাওয়া-খাওয়া’ হারাম হয়ে গিয়েছিল সাংবাদিকদের। মামলাটি যাতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হয় সে ব্যাপারে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছেন সাংবাদিকরা। সংবাদের কাজের বাইরেও অনেক সাংবাদিক খাদিজার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। গত ৪ মাসে খাদিজা সাংবাদিকদের পরিবারের একজনই হয়ে ওঠেছিল।

গত ০১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে সিলেট ফিরেন খাদিজা। ভাইকে সাথে নিয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। খাদিজার সিলেট ফেরার খবরে সেখানে ভিড় করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু বিমানবন্দরে খাদিজার পরিবারের কাছ থেকে সাংবাদিকরা যে আচরণ পেয়েছেন তা উপস্থিত সাংবাদিকদের জন্য বড়ই দুঃখজনক ছিল। পরবর্তীতে গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের বাইরে রেখে ঘরের কলাপসেবল গেইট বন্ধ করে দেয়া- এমন দৃশ্য সাংবাদিকদের জন্য বড়ই লজ্জার।

মামলার শেষ প্রান্তে এসে খাদিজার পরিবার হয়তো নিশ্চিত হয়ে গেছেন বদরুলের শাস্তি হবে। তাই তারা হয়তো ভাবছেন সাংবাদিকদের আর প্রয়োজন নেই।

৩) ঝুমার উপর হামলা :-
ঝুমা বেগম জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৫জানুয়ারি ২০১৭ইং রোজ রবিবার সকালে ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে ঝুমাকে নিয়ে বের হন ঝুমার মা। পথে একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে বাহার উদ্দিন (২২) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঝুমাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার মাও।

ঐঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য এবং খুটিনাটি সব তথ্য উদঘাটন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ঠিকমতো খাওয়া-ঘুম সবকিছু হারাম হয়ে গিয়েছিলো।

প্রত্যেকটি আলোচিত ঘটনায় সাংবাদিকরা নিরলসভাবে কাজ করেন। অথচ শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের পরিচয় চিনতে কিংবা কথা বলার মতো একটু সময় থাকেনা তাদের।

-সময়ের ডাক

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 58 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ