ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুবি শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি

Print

১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যলয়ের (কুবি) শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জড়ো হতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
প্রথমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফ। পরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ঘোষণা হলে প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে আসে মূল ধারার বঙ্গবন্ধু পরিষদ। এর পরে ফুল দিতে আসে স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ। স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতাকর্মীরা ফুলের ডালা নিয়ে প্রতিকৃতির সামনে এগিয়ে এলে এতে বাঁধা দেন মূল ধারার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। এতে সহকারী প্রক্টর মো. খলিলুর রহমান তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হন। এতে জিয়া উদ্দিন তাদের প্রতি চড়াও হয়ে স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধ পরিষদের ফুলের ডালাটি ভেঙে ফেলে।
ফলে তখন শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি। হাতাহাতির একপর্যায়ে জিয়া উদ্দিন এবং পরে প্রক্টর কাজী মো. কামাল উদ্দিন মাটিতে পড়ে যান। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু তাহের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তার উপরও চড়াও হন খলিলুর রহমান ও দুলাল চন্দ্র নন্দী। এরপর আবু তাহেরকে ধাঁক্কা দেন তিনি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা প্রকট আকার ধারণ করে। এ সময় এক হট্টোগোল পরিবেশের উদ্ভব হয় এবং ছাত্রলীগ মিছিল দিতে থাকে। শিক্ষকদের মধ্যে যখন বাকবিতণ্ডা চলছে ঠিক ঐ মূহুর্তে দেখা যায় কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি জিনাত আমান এবং সাধারণ সম্পাদক লতিফ শিক্ষকদের নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য প্রয়োগ করতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পরে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন শেষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান এবং শিক্ষকদের এক প্লাটফর্মে এসে সকল সমস্যার সমাধানের জন্য আহবান জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান আলিফ, সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, শিক্ষক সমিতি যদি রবিবারের মধ্যে উপাচার্যের দপ্তরের তালা না খুলে দেয় তা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জোর করে তালা খুলে উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করাবে।
এ ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক জামায়াত পন্থী শিক্ষকরা আমাদের উপর হামলা করেছে এতে আমি এবং আমার সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছি।’
মূল ধারার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মো. আইনুল হক বলেন, ‘স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের কিছু শিক্ষক চড়াও হয়ে আমাদের উপর হামলা করেন। সহকারী প্রক্টর খলিলুর রহমান আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।’ এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন মো. আইনুল হক।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষকদের কিছু অংশ আমার অপসারণ দাবি করছে, সবাই আমার অপসারণ চায় না।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 134 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ