‘ফুল’ দেখলে ভয় পান কাদের!

Print

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ফুল দেখলে মানুষ খুশি হয়। কিন্তু আমি ফুল দেখলে ভয় পাই। আমি মন্ত্রী হিসেবে যখন কোথাও যাই তখন পথে পথে ফুল দেখি, দেখি তোরণের পর তোরণ। একেবারে ফুলের একটা মেলা বসে যায়। তখন আমি ভাবি এই ফুল ভালবাসার ফুল নয়। এই ফুল স্বার্থের ফুল। এখন ভালবাসার ফুল দেওয়ার মানুষ খুব কম। কেউ ফুল দিলেই সঙ্গে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলে এই দাবি সেই দাবি। এখানেও ব্যতিক্রম কিছু হল না। আমি ভিকারুন্নিসাকে ব্যতিক্রম ভাবতে পারলাম না।’
শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীণবরণ অনুষ্ঠানে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের পর তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘আমার কথাকে অন্যভাবে নেবেন না। এ কলেজের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো জানানো হচ্ছে- তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত, যুক্তিসঙ্গত। আমি যখন এই মিটিংটি শেষ করে অধ্যক্ষের রুমে বসতাম তখন কি এই দাবিগুলো বলা যেত না? কিন্তু ফুলের সঙ্গে দাবি কেন?’
রাজনীতিবিদদের মত কলেজ কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন দাবি করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের মত আপনারাও দাবিগুলো বক্তব্য করে করে বলবেন এইটা আমি ভাবতেও পারিনি। এটি আপনাদের ডিগনিটিতে আঘাত করে। আমি সস্তা হাততালি পাওয়ার রাজনীতি করি না। দাবির কথা বলা হল আর আমি মেনে নিলাম?’
বেগম রোকেয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বলেছিলেন আমাদের সব কাজের সমাপ্তি হচ্ছে বক্তৃতা। আর তৃপ্তি হচ্ছে কড়তালি দেওয়া। এই কড়তালি পাওয়ার জন্য আমি কোথাও যাই না। আমার হাতে সময় খুব কম। লম্বা ভাষণের বেড়াজালে আটকে থাকলে হবে না। আমি কাজগুলোকে ভাগ করে নেই। কথা যত কম হবে কাজ তত বেশি হবে।’
শুধু নিজের মন্ত্রণালয় নয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজও তাকে করতে হয় উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমাকে আপনাদের সমস্যাগুলোর কথা আরও আগে কেন বলেননি? আমি শুধু আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ করি না। আমি অন্যান্য সব মন্ত্রণালয়ের কাজ করে থাকি জনসার্থে। কারণ আমি রুলিং পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি।’
দেশ চালাতে খুব বেশি শিক্ষার দরকার নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেতৃত্ব দিতে দেশকে এগিয়ে নিতে খুব বেশি একাডেমিক শিক্ষা যে থাকতে হবে আমি তা মনে করি না। দেশ চালাতে সবচেয়ে বেশি দরকার শ্রম কমনসেন্স। খুব বেশি পড়লেই দেশ চালানো যাবে ভালো নেতৃত্ব দেয়া যাবে তা কিন্তু নয়। তাই একাডেমিক শিক্ষাটাই জরুরি না। শিক্ষিত হতে হবে কিন্তু কমনসেন্সটা সবচেয়ে ইমপোর্টেন্ট। এটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।’
কারো চাপের মুখে যেন কোনও শিক্ষার্থীকে স্কুল ও কলেজে ভর্তি করানো না হয় সে ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘কে ডিও লেটার দেয়? আমি কি কখনও কাউকে ডিও লেটার দিয়েছি? কোনও মন্ত্রী-এমপির ডিও লেটারে কাউকে স্কুল-কলেজে ভর্তি করাবেন না। তাহলে শিক্ষার মান কমে যাবে।’
অনুষ্ঠানে গোলাম আশরাফ তালুকদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। এসময় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীরাও উপস্থিত ছিল।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 248 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ