বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম স্পেনে

Print

বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শরীফুল হক ডালিম এখন স্পেনে আছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাকে দেশে ফিরে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক।
সোমবার বিকালে রাজধানীতে ১৪ দেশের পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আইজিপি এসব কথা বলেন।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমে স্পেনে আছে আমাদের কাছে এমন তথ্য আছে। যদিও এটা একদম নিশ্চিত নই। তবে ইন্টারপোলকে আমরা সে কথা জানিয়েছি।’
বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা সেনা কর্মকর্তাদের একজন মেজর ডালিম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুর পর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। এর মধ্যে ডালিমের পাঁচ সহযোগীর ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে। এরা হলেন বজলুল হুদা, মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং মহিউদ্দি আহমেদ।
উচ্চ আদালত ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল মোট ১২ জনকে। এদের মধ্যে আজিজ পাশা মারা গেছে বিদেশে। আবদুর রশিদ, মোসলেম উদ্দিন, শরীফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী, নুর চৌধুরী এবং আবদুল মাজেদের দণ্ড এখনও কার্যকর করা যায়নি।

এদের মধ্যে নুর চৌধুরী কানাডায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদ চৌধুরী আছেন-এ বিষয়ে নিশ্চিত সরকার। বাকিদের মধ্যে ডালিম এক সময় লিবিয়ায় থাকতেন এমন একটি তথ্য ছিল সরকারের কাছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কখনও পুলিশ কর্মকর্তারা বলতে পারেননি।
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের অবস্থান নিশ্চিত হতে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। মোসলেম উদ্দিনের ভারতে অবস্থানের বিষয়ে তথ্যও পেয়েছে সরকার। কিন্তু ডালিম, রশীদ ও মাজেদের অবস্থান নিয়ে গত কয়েখ বছর ধরেই কিছু বলতে পারছিল না সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইন্টারপোল আন্তরিক। সংস্থাটির মহাসচিব জার্গেন স্টোক আমাদের এই আশ্বাস দিয়েছেন।’
শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে ইন্টারপোলের সাউথ এশিয়ান কার‌্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে সংস্থাটির মহাসচিবের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। জবাবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার সব ধরণের সহযোগিতা করলে তারা এই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলে আমরা আবারো এ বিষয়ে আলোচনা করবো।’
আইজিপি জানান, মালয়েশিয়ার অবস্থানরত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের সার্বিক সহযোগিতা করার ব্যাপারেও দেশটির পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের। তারা বাংলাদেশিদের সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে।
আইজিপি জানান, এই সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার এবং চোরাচালান বন্ধে দেশটির পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মিয়ানমার পুলিশের প্রধান মেওসু উইং এব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
রবিবার রাজধানীর হোটেলে সোনারগাঁয়ওয়ে তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়। এর নাম রাখা হয়েছে চিফস অব পুলিশ কনফারেন্স অব সাউথ এশিয়া অ্যান্ডে নেইবারিং কান্ট্রিস। সম্মেলনে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভূটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভিয়েতনামের পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 220 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি