বঙ্গবন্ধু কাপের প্রাইজমানি পায়নি নেপাল-বাহরাইন

Print

বঙ্গবন্ধু কাপের প্রাইজমানি পায়নি নেপাল-বাহরাইন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভাগ্যেও জোটেটি বোনাস মানি। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে দেড় কোটি টাকার পাওনা আদায় করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। উল্টো ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেয়া হয়েছে। বাফুফের হিসাব বিভাগের যোগসাজশে দেড় কোটি টাকা হাপিস হয়ে গেছে।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলন সেশনের টিকিট বিক্রির স্বত্ব পেয়েছিল আপন কমিউনিকেশন্স। দেড় কোটি টাকায় বাফুফের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে নিয়েছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি। এজন্য ব্যাংক গ্যারান্টিও বাফুফেকে দিয়েছিল আপন কমিউনিকেশন্স। কিন্তু খেলা শেষে বাফুফের পাওনা না দিয়ে উল্টো ব্যাংক গ্যারান্টি তুলে নিয়ে যায় কোম্পানিটি। তবে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিবর্তে আপন কমিউনিকেশন্স বাফুফেকে ৫০ লাখ টাকার চেক দেয়। দু’বছর পরও সেই ৫০ লাখ টাকা বুঝে পায়নি বাফুফে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাফুফের হিসাব বিভাগের যোগসাজশে একটি চক্র অনুশীলন সেশনের টিকিট বিক্রির টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ পেয়েছেন বাফুফের কয়েকজন কর্মচারী। আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বাফুফের তৎকালীন সদস্য আনোয়ারুল হক হেলাল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপন কমিউনিকেশন্স ৫০ লাখ টাকার চেক দিয়েছিল। বাফুফে চেক কেন ব্যাংকে জমা দিল না, তা আমার বোধগম্য নয়। এখন আর আমি যেহেতু বাফুফের সঙ্গে জড়িত নই, সেজন্য এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না।’ বাফুফের বেতনভোগী সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে দেড় বছর পরও বঙ্গবন্ধু কাপের প্রাইজমানি পায়নি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপরা। গত বছরের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে নেপাল বাহরাইনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। চ্যাম্পিয়ন নেপাল ৫০ হাজার ডলার ও রানার্সআপ বাহরাইন প্রাইজমানির ২৫ হাজার ডলার আজও পায়নি। অন্যদিকে তিন বছর পরও ২০১৫ বঙ্গবন্ধু কাপের বোনাস মানির ৫০ লাখ টাকা পাননি বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলাররা। ওই সময় বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।’ বাংলাদেশ ঠিকই ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু বাফুফের সভাপতি প্রতিশ্রুত সেই ৫০ লাখ টাকা খেলোয়াড়দের দেননি। ফুটবলারদের টাকা দেয়া না হলেও বাফুফেতে লুটপাট কিন্তু থেমে নেই। একটা সময় সংগঠকরা খেলাধুলা পরিচালনা করলেও এখন ফুটবল বন্দি হয়ে রয়েছে বেতনভোগী কিছু কর্মচারীর হাতে। এসব কর্মচারীরা সস্ত্রীক ফুটবলের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য প্রায়ই দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। অন্যদিকে ফুটবলের টাকা নয়ছয় সংক্রান্ত কোনো নিউজ করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শুধু মামলাই নয়, চাকরি খাওয়ার ভয় দেখানো হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 60 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ