বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী হিসেবে সম্মাননা স্বারক পেলেন মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিক

Print


মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েলঃ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী হিসেবে সম্মাননা স্বারক পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিক । শনিবার ( ১৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাব এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারীদের মধ্যে প্রথম প্রতিবাদকারী হিসেবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সভাপতি, নেত্রকোনা-৩(কেন্দুয়া – আটপাড়া) আসনে আওয়ামীলীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সাইদুর রহমান মানিকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্বারক তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ. ক. ম মোজাম্মেল হোসেন ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান ১৯৫৫ সালের ১২ জানুয়ারী নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউরিয়নের কুনিয়াটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি অবসর প্রাপ্ত সাবেক সরকারী কর্মচারী মরহুম সদরুজ্জামানের দ্বিতীয় পুত্র । তাঁর মায়ের নাম মরহুমা সাইদা আক্তার । সাইদুর রহমান মানিক ছাত্র জীবনের উষালগ্নে থেকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে প্রত্যক্ষভাবে ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন । সেই থেকে শুরু করে বর্তমান সময় নাগাদ তিনি নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রেখেছেন এবং একজন নিবেদিত প্রাণের কর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছেন দেশ ও জাতির জন্য ।
তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ মাতৃকার জন্য জীবনবাজি রেখে প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন । বীরদর্পে দেশ স্বাধীনের মরণপণ যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে লাল সবুজ বৃত্ত খচিত পতাকা হাতে গৃহালয়ে ফিরেন তিনি ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সারাদেশেই শোক ও আতঙ্কে নীরব হয়ে পড়েছিল। তবে কারফিউ ভেঙে হাতেগোনা যে কয়েকটি স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল হয়েছিল এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ অন্যতম। কিশোরগঞ্জে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্মস্থানের রাজপথকে ওই দিন সকালেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে প্রকম্পিত করে তুলেছিলেন কয়েকজন প্রগতিশীল বিক্ষুব্ধ তরুণ ‘ডালিমের ঘোষণা/ মানি না, মানব না’, ‘মুজিব হত্যার পরিণাম/ বাংলা হবে ভিয়েতনাম’, ‘মুজিব হত্যার বদলা নেব/ বাংলাদেশের মাটিতে’ ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেন তারা।

১৫ আগস্ট সকাল ৮ টায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদ মিছিলে ১৩ জন প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন প্রথম প্রতিবাদকারী সাইদুর রহমান মানিক । এ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, অ্যাডভোকেট অশোক সরকার, অধ্যক্ষ হালিমদাদ খান রেজোয়ান, হাবিবুর রহমান মুক্তু, ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, প্রয়াত সেকান্দার আলী ভূঁইয়া, পীযূষ কান্তি সরকার, অলক ভৌমিক, আকবর হোসেন খান, অধ্যক্ষ গোলাম হায়দার চৌধুরী, রফিক উদ্দিন পনির, নুরুল হোসেন সবুজ, স্বপন গোপাল দাস, আলী আজগর স্বপন, “অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক,” নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, মতিউর রহমান, আবদুল আহাদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামাল, সাব্বির আহমেদ মানিক, অরুণ কুমার রাউত, বুলবুল মিয়া , অলক ভৌমিক, আসাদ উল্লাহ খান, নুরুল হুসেন সবুজ, সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক হিরু প্রমুখ।

মিছিলের পর তারা যখন স্থানীয় জাহেদের চা স্টলে বসে চা পান করছিলেন, তখন তাদের গ্রেপ্তার করতে এক ট্রাক পুলিশ আসে। প্রতিবাদকারীরা তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে আত্মগোপন করেন।

সেই প্রতিবাদ মিছিলের অগ্রভাগে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক তখন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে পড়াশোনা করতেন ।

সাইদুর রহমান মানিক কিশোরগঞ্জের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে মাধ্যমিক,গুরুদয়াল কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৭৬ সালে বি.এ পাশ করেন ।পরে ১৯৭৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম.এস.এস(রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধানমন্ডি “ল” কলেজ থেকে এল.এল বি পাশ করেন । অতপরঃএকজন আইনজীবি হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন । কর্মজীবনের মাঝেই তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাদা প্যানেলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে (২০১৬-১৭ )ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন । এছাড়াও তিনি ১৯৮২ সালে ঢাকাস্থ কেন্দুয়া উপজেলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন । বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করার গৌরব অর্জন করেছেন ।বর্তমানে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবি কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।

সদ্য প্রাপ্ত সম্মাননা ছাড়াও তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ কর্তৃক ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি হিসেবে সম্মাননা স্বারক প্রাপ্ত । বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে অতীতেও বিশেষ সম্মাননা পেয়েছিলেন তিনি ।

সাইদুর রহমান মানিকের স্ত্রী সাবেক যুগ্ন সচিব আকলিমা জহির রীতা ও তাঁর পুত্র রাজা সুমিত রহমান একজন স্বনামধন্য সুরকার,গীতিকার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী । মেয়ে ব্যারিষ্টার অদিতি রহমান দোলা বাবার মতই পেশায় একজন আইনজীবি হিসেবে কর্মজীবনে নিয়োজিত রয়েছেন ।দাম্পত্য জীবনে সাইদুর রহমান মানিক সুখী পরিবারের একজন গর্বিত অভিভাবক ।
গুনীজন সাইদুর রহমান মানিকের ছোট ভাই আমিনুর রহমান খান পাঠান ওলি কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । অপর ছোট ভাই শফিকুর রহমান হানিফ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবনে রয়েছেন ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে সম্মাননা স্বারকপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান মানিক তাঁর কর্মগুনে সকলে মাঝে হাজার বছর বেঁচে থাকবে-এমনটাই প্রত্যাশা করছে আপামর জনসাধারণ ‍ও সুশীল সমাজ ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 215 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ