শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিভ সিমের সংখ্যা ৫ কোটি ৬৩ লাখ। বিক্রি করা সিমের মধ্যে প্রায় চার কোটির বেশি সিম এখন অ্যাক্টিভ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে অপারেটরটির ০১৭ সিরিজের ১০ কোটি নম্বর বিক্রির প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। নতুন উদ্যোগ নেওয়া না হলে অপারেটরটির আর মাত্র কয়েক দিন পরে নতুন সিম বিক্রি সুবিধে বন্ধ হয়ে যাবে।

তথ্য প্রযুক্তির খবর বিষয়ক ওয়েব সাইট টেক শহর জানায়, এ সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি গ্রামীণফোন নতুন একটি নম্বরের সিরিজের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসিতে আবেদন করেছে। সূত্র জানিয়েছে, অপারেটরটির আগ্রহ ০১২ সিরিজের প্রতি।

বর্তমান নম্বর প্ল্যানিং অনুসারে একটি অপারেটর একটি সিরিজের সর্বোচ্চ ১০ কোটি নম্বর বিক্রি করতে পারবে। গ্রামীণফোন তাদের এ সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিল ২০১৫ সালের শুরুর দিকে। তখন নিয়ম ছিল একটি সিম টানা ২৪ মাস বন্ধ না থাকলে সেটি পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।

অপারেটরটির নম্বর সংক্রান্ত এ সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালের শেষ দিকে বিটিআরসি ২৪ মাসকে কমিয়ে ১৫ মাস করে দিয়েছে। ফলে কোনো সিম ১৫ মাস বন্ধ থাকলে সেটি আবার বিটিআরসি’র অনুমোদন সাপেক্ষে বিক্রি করতে পারে তারা।

এরপর এ উপায়ে অপারেটরটি বেশ কয়েক লাখ সিম বিক্রির সুযোগ পেলেও পুরনো নম্বরও ফুরিয়ে এসেছে। এ কারণে গ্রামীণফোন নতুন নম্বর সিরিজ চায়।

তবে কমিশন বলছে, নতুন নম্বর সিরিজ দেওয়া ছাড়াও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বর্তমান সিরিজের সঙ্গে একটি ডিজিট বাড়িয়ে দিয়েই নতুন সিম বিক্রি সম্ভব। সেক্ষেত্রে তাদের নম্বরের ডিজিট ১১ থেকে বেড়ে ১২ হয়ে যাবে।

এর আগেও গ্রামীণফোনের জন্য একটি একটি করে দু বার দুটি ডিজিট বাড়ানো হয়েছিল। পরে সব অপারেটর ১১ ডিজিটে চলে এসেছে। সেক্ষেত্রে গ্রামীণফোন ১২ ডিজিটে গেলে সব অপারেটরকে তখন ১২ ডিজিটে চলে যেতে হবে.

বিটিআরসির নম্বর প্ল্যানিং অনুসারে বর্তমানে সিটিসেল ব্যবহার করছে ০১১, টেলিটক ০১৫, এয়ারটেল ০১৬, গ্রামীণফোন ০১৭, রবি ০১৮ এবং বাংলালিংক ব্যবহার করছে ০১৯।

এর বাইরে ০১২, ০১৩ ও ০১৪ নম্বর সিরিজ খালি রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিটিআরসি নম্বর প্ল্যানিং নিয়ে আরও কাজ করতে চায়।

কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রামীণফোনকে নতুন সিরিজ না দিয়ে বা এক ডিজিট না বাড়িয়েও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের নম্বর ০১৭ দিয়ে শুরুর পরিবর্তে ০৭ দিয়েও শুরু করা যেতে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের বহু দেশ আছে যেখানে অহেতুক বাংলাদেশের মতো তিনটি ডিজিট নষ্ট করা হয়নি। সব বিষয় পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।