বাংলাদেশকে আজ জিততেই হবে

Print

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়াতেই কি হিসাব কঠিন হয়ে গেল বাংলাদেশের? এখন তো তা-ই মনে হচ্ছে। বৃষ্টি-বাধা না থাকলে শেষ পর্যন্ত সেদিন কী ফল হতো, বলা মুশকিল। তবে ওই ম্যাচটা জিতলে ত্রিদেশীয় সিরিজের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এত বাজে অবস্থায় থাকত না, যতটা বাজে এখন দেখাচ্ছে। তবে সমীকরণটা খুব কঠিন হয়ে পড়লেও মাশরাফিদের পক্ষে এই সিরিজের ট্রফি জেতা এখনো সম্ভব। আর সেই কঠিন সমীকরণ সামনে রেখেই ডাবলিনের মালাহাইডে আজ দ্বিতীয়বার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
তিন দলেরই দুটি করে ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। দুটি ম্যাচই জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ড শীর্ষে। এই দুই ম্যাচেই কিউইরা হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশকে। আর বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচটির পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডকে। দুই দলের হাতেই তাই ২টি করে পয়েন্ট। বাংলাদেশ যদি আজ আয়ারল্যান্ড ও আগামী বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি দুটি ম্যাচে জেতে তাহলে পয়েন্ট হবে ১০। তাতেও অবশ্য বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নিশ্চয়তা নেই, কেননা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে ট্রফি তখনই উঠবে, যদি বাংলাদেশ নিজেদের বাকি দুটি ম্যাচ জেতে এবং নিউজিল্যান্ড বাকি দুটি ম্যাচ হারে। আবার বাংলাদেশ যদি দুটি ম্যাচ জেতে এবং বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়, সে ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ১০ করে। তখন কি নেট রানরেট দেখা হবে, না দুই দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে, টুর্নামেন্টের বাইলজে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা নেই। দলের সঙ্গে থাকা বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস অবশ্য জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচিত হবে মুখোমুখি ম্যাচের ফল, এরপর নেট রানরেট।

অবশ্য ওই পরিস্থিতি তৈরি করতে বাংলাদেশকে আজ জিততেই হবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আইরিশদের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান আশাই জোগায় বাংলাদেশকে। সর্বশেষ ১২ মাসে আয়ারল্যান্ড ২০টি ওয়ানডে খেলে হেরেছে ১৩টিতে, পরিত্যক্ত হয়েছে একটি। যে ছয়টি ম্যাচ তারা জিতেছে, তার চারটি আফগানিস্তান আর দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই ২০ ম্যাচের ১০টি ছিল আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর বিপক্ষে, যেখানে জয়হীন আয়ারল্যান্ড।
মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে। এর আগে দুই দলের আট সাক্ষাতে বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচবার, আয়ারল্যান্ড দুবার। পরিত্যক্ত হয়েছে গত বুধবার ডাবলিনের মালাহাইডে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটি।
তবে ওই ম্যাচে শুরুর ১৫ ওভারের মধ্যেই ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। পরে অবশ্য তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহর ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। ওই ম্যাচের পর সাকিব বলেছিলেন, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে শুরুতে খেই হারিয়েছিলেন তাঁরা। আশার কথা ছিল তাঁর মুখে, টুর্নামেন্ট যত এগোবে তত ভালো খেলবে বাংলাদেশ!
পরশু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটায় সাকিবের কথার প্রতিফলন কিছুটা ঘটেছে, পুরোটা অবশ্যই নয়। বড় স্কোরের আশা জাগিয়েও ২৫৭ রান করে বাংলাদেশ। আজকাল ওয়ানডেতে এটি খুব বড় স্কোর নয়। তবে এটিকেও জয়ের জন্য যথেষ্ট বানিয়ে ফেলার মতো সুযোগ বাংলাদেশ তৈরি করেছিল। অনেক দিন পর মোস্তাফিজুর রহমান দারুণ বোলিং করেছেন। দারুণ এক কাটারে লুক রনকিকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন, পরে এলবিডব্লু করেছেন রস টেলরকেও। সব মিলিয়ে ৯ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। অন্য বোলাররা বাঁহাতি এই পেসারকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারলে টানা চার হারের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা আসতেই পারত। পরশু ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য আশার কথাই বলেছেন, পরের ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে জয়ের কথাই ভাববে তাঁর দল।
টুর্নামেন্ট থেকে কিছু নিয়ে ফিরতে চাইলে মাশরাফিদের সামনে জয়ের বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 91 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ